Jaminurনবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ চাকুরীর খোঁজে যখন গ্রামীন জনপদের শিক্ষিত বেকার যুবকেরা ছুটছে বিভিন্ন কোম্পানী ও বে-সরকারী সংস্থার পিছনে। আবার কেউবা জালিয়াতি আদম পাচারের খপ্পরে পড়ে খুয়ে ফেলছে জীবনের সর্বস্ব। কেউব একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চতুর্থ শ্রেনীর নৈশ্য প্রহরীর চাকুরী পেতে বাবার ভিটা মাটি পর্যন্ত বিক্রি করে চাকুরী নামক সোনার হরিনের পেছনে ঘুরছে সর্বক্ষন। কেউ চাকুরী পায় আবার কেউ চাকুরী না পেয়ে প্রতারনার শিকার হয়ে হয় গ্রামছাড়া। বিধাতা দিয়েছে কর্মের দুটি হাত! বেকার যুবকেরা জানে না তাদের কর্মের দুহাতে রয়েছে সোনা।

এমনই এক শিক্ষিত বেকার যুবক দিনাজপুর জেলার মৎস্য ও কৃষি ফসল শস্য ভান্ডার হিসাবে খ্যাত নবাবগঞ্জের কাজীপাড়া গ্রামের মৎস্য চাষী জামিনুর ইসলাম। সে জানায়- এস.এস.সি পাশ করার পর এইচ.এস.সি পরীক্ষায় পাশ করতে না পারায় পরিবারের নিকট বোঝা হিসেবে দাড়ায় সে। অনেকেই এও ভৎসনা করেছিল। এর দ্বারা সমাজের কোন কাজই হবে না। সব কথাগুলো অন্তঃকরনে জমিয়ে রেখে নিজেই আত্মকর্মশীল হয়ে বেকার সমস্যা সমাধানে গ্রহণ করে মৎস্য চাষের প্রযুক্তি ভিত্তিক প্রশিক্ষন। এবার কর্মসূচী গ্রহন করে মৎস্য চাষের। কিন্তু অতিব দুঃখের বিষয় কে দিবে অর্থ! আর কোথায় পাবে পুকুর!!!

ঘুরতে থাকে পাড়া মহল্লায়। অবশেষে অবসান ঘটায় তার দাদা। দশ বিঘা পুকুরই তার হাথে খড়ি। ওই পুকুরটি মৎস্য চাষের আওতায় এনে দেশীয় প্রজাতির বিভিন্ন মাছ ছাড়েন পুকুরে। যথা সময়ে যথা নিয়মে মাছ চাষ করে ২০১০ সালে ওই পুকুর থেকে সমস্ত ব্যয়ভার বহন করে উপার্জন করে লক্ষাধিক টাকা। এখন পুঁজির জন্য আর কোথাও ছুটতে হচ্ছে না জামিনুরকে। এলাকার প্রসিদ্ধ ও ঐতিহ্যবাহী কয়েকটি পুকুর ইজারা নিয়ে পথ চলতে থাকে মাছ চাষের।

বর্তমানে জামিনুর নবাবগঞ্জ এলাকা সহ পাশ্ববর্তী উত্তর জনপদের বিভিন্ন উপজেলা, জেলায় পরিত্যাক্ত এবং যে পুকুরগুলো থেকে মাছ চাষ করে উপার্জন করতে পারতো না মালিকেরা। ওই পুকুরগুলোই ১০-১৫ বছর মেয়াদে ইজারা নিয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তি ভিত্তিক চাষ করে মাছ চাষের কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়। বর্তমানে সে প্রায় ছোট বড় শতাধিক পুকুরে মাছ চাষ করছে। এ রিপোর্ট সংগ্রহের জন্য কুশদহ ইউনিয়নের পল্লী মোরলাই বিলে গিয়ে দেখা গেছে ৫০ একর জুড়ে প্রাকৃতিক স্মৃতি বিজড়িত বিশাল বিশাল বিল।

বিলের দুই পাড়ে শোভা পাচ্ছে দেশীয় প্রজাতির কলাগাছ। পাশে রয়েছে পোনা মাছ সংরক্ষনের অত্যাধুনিক হ্যাচারি। মাছের খাবারের জন্য শত শত বস্তা মৎস্য খাদ্য গোডাউন ভর্তি। পুকুর পাড়ে মনে হচ্ছে বসেছে মেলা। কাছে গিয়ে দেখা গেল নবাবগঞ্জ শহর, রংপুর এলাকার শতাধিক মাছ ক্রেতা (বেপারি)। ৫০ জন মৎস্য শ্রমিক ভোর রাত থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত জামিনুরের প্রকল্পভুক্ত পুকুর থেকে ধরছেন রুই, কাতলা, মৃগেল, মনোসেক্স তেলাপিয়া, পাঙ্গাস, সিলভার, কই মাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। ওখানেই পাইকারি দরে বিক্রি করা হচ্ছে মাছগুলো। জামিনুর শুধু নিজের উন্নয়নই করেনি বরং এলাকার ৫০জন মৎস্য শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে সে।

এ বিষয়ে দিনাজপুর ৬আসনের সংসদ সদস্য মোঃ শিবলী সাদিক জানান- জামিনুর এলাকার একজন সফল কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী যুবক। সে তার পুকুরে ১০-২০ কেজি পর্যন্ত ওজনের মাছ চাষ করে থাকে। এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান- নবাবগঞ্জের সেরা মৎস্য চাষী জামিনুর ইসলাম। ওই হ্যাচারীতে কর্মরত মোঃ মিজানুর রহমান জানান- আমরা তার প্রকল্পে চাকুরী করে জীবিকা নির্বাহ করছি। বর্তমান প্রতি বছরে মৎস্য চাষ করে উন্নয়নের চাকা ঘুরিয়েছে জামিনুর।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য