4+Greekআন্তর্জাতিক ডেস্ক: পুরনো মুদ্রা ড্রাকমায় ফিরে যাওয়ার জন্য গ্রিসের বামপন্থী সিরিজা পার্টির সরকারের কয়েকজন সদস্য একটি গোপন পরিকল্পনা করেছিলেন বলে খবর বেরিয়েছে। রোববার প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, ড্রাকমায় ফিরে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করতে ওই নেতারা গ্রিসের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ সরিয়ে নেয়ার ও করদাতাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করতে চেয়েছিলেন।

প্রকাশিত এসব প্রতিবেদনে সিরিজা পার্টির ভিতরের অনৈক্য প্রকাশ পেয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিরোধীদলগুলো প্রকাশিত প্রতিবেদনের ব্যাখ্যা দাবি করায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী সিরিজার নেতা অ্যালেক্সি সিপ্রাসও চাপে পড়েছেন।

সিরিজা সরকারের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী প্যানাজিওতিস লাফাজানিস ও সাবেক অর্থমন্ত্রী ইয়ানিস ভারোউফাকিস এ পরিকল্পনায় মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে বলা হয়েছে। পরিকল্পনাটি সরকার বিবেচনা করেছিল কিন্তু চলতি মাসের প্রথম দিকে ইউরোপীয় বেইল আউটের তীব্রবিরোধী ওই দুই নেতাকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

গ্রিসকে ইউরো জোনে ধরে রাখতে কঠোর বেইল আউটের শর্ত সিপ্রাস সহজভাবে মেনে নেয়ার মধ্যেই সিরিজার কট্টরপন্থীরাদের ভাবনা নিয়ে জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই এসব প্রতিবেদন প্রকাশ হল।

৮ হাজার ৬০০ কোটি ইউরোর নতুন বেইল আউট ঋণের বিনিময়ে গ্রিসকে দাতাদের দেওয়া কঠোর ব্যয়সংকোচনের শর্ত মেনে নিতে হয়েছে। কিন্তু ক্ষমতাসীন সিরিজা পার্টির ১৪৯ জন আইনপ্রণেতার মধ্যে এক-চতুর্থাংশ দাতাদের শর্ত মেনে নিতে অস্বীকার করেন।

সরকারবিরোধী অন্যান্য দলের সমর্থন নিয়ে দাতাদের প্রস্তাব পাস করাতে হয় প্রধানমন্ত্রী সিপ্রাসকে। এ অবস্থায় পার্টির ঐক্য ধরে রাখতে সিপ্রাসকে অনেক সংগ্রাম করতে হয়।

দৈনিক রিয়েলনিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাবেক জ্বালানীমন্ত্রী লাফাজানিস বলেছেন, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি) বিরোধিতা করতে গ্রিসের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ সরিয়ে নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন তিনি।

সিরিজা পার্টির কট্টরপন্থীদের নেতা লাফাজানিস পুরোনো মুদ্রা ড্রাকমায় ফিরে যাওয়ার পক্ষে ছিলেন।

গ্রিসকে ইউরো জোন থেকে বের করে দিলে পুরোনো মুদ্রা ড্রাকমা চালু করতে হতো। এতে পেনশন ও সরকারি খাতের মজুরি দেওয়া সহজ হত বলে মনে করেন লাফাজানিস।

তিনি বলেছেন, “প্রধানত গ্রিসের অর্থনীতি ও গ্রিসের মানুষের বেঁচে থাকার জন্যেই এটা করা দরকার ছিল। সংবিধান অনুযায়ী প্র্রত্যেক সরকারেরই এটা প্রধান দায়িত্ব।”

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভল্ট খালি করতে রাজি না হলে গ্রিস ব্যাংকের গভর্নর ইয়ানিস স্টৌউরানারাসকে গ্রেপ্তার করার কথা বলেছিলেন- ফিনান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এমন প্রতিবেদন অস্বীকার করেছেন তিনি।

গ্রিসের আধা-স্বায়ত্তশাসিত বার্তা সংস্থা এথেন্স নিউজকে লাফাজানিস বলেছেন, “এসব প্রতিবেদন মিথ্যা, কল্পনা, ভয়-ছড়ানো ধারণার এক মিশ্রণ। এগুলো সাবেকী ধরনের কমিউনিজমবিরোধী প্রচারণা।”

অপরদিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় ট্যুইটারে করা এক মন্তব্যে সাবেক অর্থমন্ত্রী ভারোউফাকিস বলেছেন, “তারমানে, আমি গ্রিসের নাগরিকদের ট্যাক্স ফাইলের নাম্বার ‘হাইজ্যাক’ করতে যাচ্ছিলাম? আমার নিন্দুকদের কল্পনায় বিমোহিত আমি!
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য