ghoraghatনবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শামছুর রহমান ওরফে কাজলের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারীর পর এবার হাম রুবেলা টিকা কার্যক্রমে হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ উপজেলার কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের  প্রধান ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের  স্বাক্ষর জাল করে ভূয়া বিল ভাউচার দাখিল করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী গত বছর জানুয়ারী মাসে হাম রুবেলা টিকার কর্মসূচীর সাতাশটি  কর্যক্রমের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় পাঁচ লাখ সাতান্ন হাজার নয়শ আশি টাকা।

সাতাশটি কার্যক্রমের মধ্যে মাঠ কর্মীদের ট্রান্সপোর্ট কষ্টের জন্য বরাদ্দ ছিলো ৯৩ হাজার ছয়শ টাকা, এম আর ক্যাম্পেইন মনিটরিং এর জন্য বরাদ্দ ছিলো ৬৭ হাজার ২০০ টাকা, ভ্যাকসিনেটর আপ্যায়ন বাবদ বরাদ্দ ছিলো ৫৪ হাজার টাকা, এম আর ক্যাম্পেই আপ্যায়ন বাবদ বরাদ্দ ছিলো ৩৬ হাজার টাকা, স্বেচছাসেবী প্রশিক্ষণ বাবদ বরাদ্দ ছিলো ৪৬ হাজার ৪’শ ৪০ টাকা, প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে কনসোলেটিভ ওয়ার্কশপ ববাদ বরাদ্দ ছিলো ২৯ হাজার ৭’শ টাকা। এছাড়া বাকি ২১ টি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বরাদ্দ ছিলো দুই লাখ ৩১ হাজার ৪০ টাকা।

হাসপাতাল থেকে পাওয়া তথ্য নিয়ে সরেজমিনে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে অন্যায়নসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে নাস্তা ও খাবার বাবদ যে বিল ভাউচার দাখিল করা হয়েছে তার বেশিরভাগই ভূয়া। উপজেলার মায়ের দোয়া রেস্টুরেন্ট থেকে নয়টি ভাউচারের মাধ্যমে খাবার বিল করা হয়েছে ১ লাখ ৫’শ টাকা। অথচ ওই রেস্টুরেন্টের  মালিক মো. আঃ রহিম মোল্লা লিখিত ভাবে জানিয়েছেন তাঁর রেস্টুরেন্ট থেকে নয় হাজার টাকার বেশি খাবার কেনা হয়নি। হাসপাতাল থেকে দেওয়া ওই রেস্টুরেন্টের বিলের ফটোকপিতে দেখা গেছে একেকটি বিলে একেক রকম স্বাক্ষর।

ওসমানপুরের ভাই ভাই হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট থেকে বিল জমা দেওয়া হয়েছে ২৬ হাজার ২’শ ২০ টাকার। রেস্টুরেন্টের মালিক বাচ্চা মিয়া জানান, তাঁর হোটেল থেকে কোন খাবারই নেওয়া হয়নি। এক নারী চিকিৎসক ও এমএলএসএস জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন তাঁদের কোন ভাতা না দিয়ে স্বাক্ষর জাল করে বিল জমা দেওয়া হয়েছে।

প্রধান শিক্ষকদের নিয়ে কনসোলেটিভ ওয়ার্কসপে শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে ভূয়া উপস্থিতি দেখিয়ে বরাদ্দের টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। আটটি ভ্যান ভাড়া বাবদ ২৮ হাজার ৮’শ টাকার বিল জমা দেওয়া হলেও হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানিয়েছেন হাম রুবেলা কার্যক্রমে কোন ভ্যান ব্যবহার করা হয়নি। পুরো টাকাই আত্মসাত করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবী প্রশিক্ষণ বাবদ বরাদ্দ ছিলো ৪৬ হাজার ৪’শ ৪০ টাকার বেশির ভাগই ভূয় স্বেচ্ছাসেবী দেখিয়ে আত্মসাত করা হয়েছে।

হাসপাতারের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্বাস্থ্যসহকারী জানান, তাঁদের জন্য যে বরাদ্দ ছিলো তার অর্ধেক দিয়ে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শামছুর রহমান বাঁকি টাকা আত্মসাত করেন। টাকা আত্মসাতের বিষয়ে তাঁদের এসোসিয়েশন থেকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

এ ব্যাপারে ডা. শামছুর রহমান কাজলের সাথে সাংবাদিকরা যোগাযোগ করলে ডা. শামছুর রহমান কাজল সাংবাদিকদের কাছে প্রথমে হাম রুবেলায় কোন দুর্নীতি হয়নি। পরে জাল স্বাক্ষর ও ভূয়া ভাউচারের প্রমান দেখালে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।

হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অভিযোগ করে বলেন, ডা. শামছুর রহমান একের পর এক নারী কেলেঙ্কারী করে ধরা পড়ার পর গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ ও সিভিল সার্জন অফিসে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন দিনাজপুর সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এমদাদুল হক কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

ডা. শামছুর রহমানের বিরুদ্ধে হাসপাতাল চলাকালিন সময়ে ক্লিনিকে বসে ব্যবসা, হাসপাতালে ব্যপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন এমদাদুল হককে ম্যানেজ করে বহাল তবিয়তে রয়েছে। হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ এলাকার সচেতন মহল ডা. শামছুর রহমান ও তার প্রশ্রয়দাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেছেন।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য