Benaroshi-1মো. জাকির হোসেন, সৈয়দপুর প্রতিনিধিঃ আসন্ন ঈদকে ঘিরে নীলফামারীর সৈয়দপুরে ঝিমিয়ে পড়া কাতান ও বেনারসি তাঁত কারখানাগুলো সরগরম হয়ে উঠেছে। এখানকার তৈরি বাহারি নকশার শাড়ি ঢাকার ফ্যাশন হাউসে শোভা পাচ্ছে। চাহিদা মেটাতে দিনরাত পরিশ্রম করে শাড়ি তৈরি করছেন কারিগররা। শহরের বিভিন্ন পাড়া- মহল্লায় প্রায় অর্ধশত তাঁত কারখানায় চলছে কাতান- বেনারসি শাড়ি তৈরির ধুম।

কারখানায় প্রায় ৫০ জন কারিগর শাড়ি বুননের কাজ নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। শত শত শাড়ি প্রতিসপ্তাহে চলে যাচ্ছে রাজধানী ঢাকার অভিজাত বিপনী বিতানগুলোতে। সেখানে প্রতিটি শাড়ি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা দামে।

শহরের হাতিখানা, গোলাহাট ও মিস্ত্রিপাড়া তাঁত কারখানার কারিগররা জানান, বুটিক কাতান, পাড় আঁচল, ফুলকলি, আলফি, পিওর কাতান, পিওর বেনারসি বাহারি কারুকাজে তৈরি হচ্ছে। প্রতিটি শাড়ি বুনন ও হাতের কাজ করতে সময় লাগছে ৭দিন। এই ৭ দিনে একজন কারিগর দেড় পিস শাড়ি তৈরি করছে। এসব শাড়িতে দেশি সুতা ও দেশি জরি ব্যবহার করা হচ্ছে।

সরেজমিনে তাঁত কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, কারিগররা ব্যস্ত শাড়ি বুননে। দম ফেলার ফুরসত নেই। তাঁতের খটখট শব্দে গোটা কারখানা মুখরিত। হাতিখানার তাঁত কারখানার মালিক আরমান জানান, এবার তারা নতুন ডিজাইনে নজর কাড়া নকশার শাড়ি তৈরি করেছেন। বাজারে এসবের ভালো চাহিদা রয়েছে। তবে এখানে ক্যালেন্ডার প্রসেসিং মেশিন না থাকায় তাদের তৈরি শাড়ি নারায়ণগঞ্জে পাঠাতে হয়।

সেখানকার ক্যালেন্ডার করে বাজারজাত করতে হয় ঢাকার বাজারে। এতে তাদের কিছুটা সময় অপচয় হয়। তারপরও তারা অর্ডার মতো শাড়ি সরবরাহ করছেন ফ্যাশন হাউসগুলোতে।

কারখানার কারিগর সাজ্জাদ ইবরার জানান, এ কাজে যে পরিশ্রম, সে অনুযায়ী মজুরীর পরিমাণ কম। তবে দিনরাত মিলিয়ে বাড়তি শ্রম দিয়ে তারা মজুরী পুষিয়ে নেয়ার চেষ্টা করছেন। উপজেলার বোতলাগাড়ি গ্রামের তাঁত কারখানা মালিক সাইফুল ইসলাম জানান, কারুকাজ করা বিশেষ শাড়ি তৈরিতে তাদের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। সুতা ও জরির দাম অন্যান্য উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের মুনাফা কমে গেছে। আবার উপকরণের দাম বাড়ার সঙ্গে কারিগরদের মজুরী আগের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে। এসব কারণে তাদের পুজি বিনিয়োগ করতে হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি। এুসব ঝক্কি ঝামেলার পরও সব মিলিয়ে ২০ লাখ টাকার ব্যবসা হবে বলে আশা করছেন তিনিসহ কয়েকজন তাঁত কারখানার মালিক।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য