Dinajpur Pic-1  08-07-2015মোঃ ইউসুফ আলী, দিনাজপুর ॥ স্বামীর কাছে চাঁদা চেয়েছিলেন চিরিরবন্দর উপজেলার ১নং নশরতপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সুলতান আলম। কিন্তু চাঁদা তিনি পাননি। তাই প্রতিশোধ নিয়েছেন মজিবর রহমানের স্ত্রী মোছাঃ ফাইমা বেগমের শ্লীলতাহানি করে। এই চাঁদাবাজি ও শ্লীলতাহানির ঘটনায় মামলা হয়েছে দিনাজপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে।

কিন্তু পুলিশ গ্রেফতার করছে না অভিযুক্ত সুলতানকে। উল্টো মামলা করার কারণে হুমকি ধমকি দিয়ে বেড়াচ্ছেন ফাইমা ও তার স্বামী মজিবরকে। তাই ৮ জুলাই বুধবার সকাল ১১টায় দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের হুইপ, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, চিরিরবন্দর উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ প্রশাসনের সকল স্তরের কাছে নিরাপত্তা চেয়েছেন ভূক্তভোগী এই দম্পত্তি।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফাইমা বেগম বলেন, আমার স্বামী মজিবর রহমান চিরিরবন্দর থানার রাণীরবন্দরে নাবিল পরিবহনের কমিশন এজেন্ট হিসেবে ২০/২৫ বছর যাবত কাজ করে আসছেন। কিন্তু সেখান থেকে তাকে সরানোর লক্ষ্যে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সুলতান আলম দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করে আসছিল। ষড়যন্ত্রের সফল হতে না পেরে গত ২৪/০৬/২০১৫ ইং তারিখ বুধবার বিকাল ৪টার কিছু আগে সন্ত্রাসী সুলতান আলম নাবিল কাউন্টারে গিয়ে আমার স্বামীর নিকট হতে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সুলতান হুমকি দিয়ে যায় যে, তোমাকে দেখে নিব।

এদিকে, ঐদিন আমি প্রয়োজনীয় কেনাকাটার জন্য রাণীরবন্দরে যাই। বিকেল বেলা কেনাকাটা শেষে আমি রাণীরবন্দর হতে মোছাঃ গোলাপী বেগম, স্বামী মন্টু মাষ্টার, সাং-দেউলগাঁ, থানা-খানসামাকে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে একটি ভ্যানযোগে রওনা দেই। ভ্যানটি রাণীপুর গ্রামের বাহাদুর বাজার নামক স্থানে রুস্তম এন্ড সন্স ও মমতাজ এন্ড সন্স দোকানের সামনে পৌঁছালে সন্ত্রাসী সুলতান আলম অজ্ঞাত দুই ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে মটর সাইকেল যোগে এসে আমাদের পথরোধ করে। সুলতান আমাকে জোরপূর্বক ভ্যান হতে নামিয়ে আমার শরীরের স্পর্শকাতর বিভিন্ন স্থানে হাত দেয় এবং বলে তোর স্বামীর কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা চাঁদা চেয়েছি দেয় নাই এবার চাঁদার বদলে তোর ইজ্জত নিব।

এই কথা বলার পাশাপাশি সুলতান ইজ্জতহরণ ও অপহরণের উদ্দেশ্যে আমাকে জোরপূর্বক তার মোটর সাইকেলে তুলে নেয়ার চেষ্টা করে। আমি বাঁধা দিলে সে আমাকে কিল ঘুষি মেরে জখম করে। আমার সঙ্গী গোলাপী বেগম বাঁধা দিলে তাকেও কিল ঘুষি ও থাপ্পড় মারে। শোরগোল শুনে বাজারের দোকানদারসহ বহু লোক সেখানে চলে এলে সুলতান তার দুই সঙ্গীসহ মটর সাইকেল যোগে পালিয়ে যায়।

এই ঘটনায় আমি চিরিরবন্দর থানায় মামলা দিতে গেলে পুলিশ মামলা গ্রহণে অস্বীকৃতি জানায় এবং আমাকে বলে যে, কোর্টে গিয়ে মামলা করেন। আমি পুলিশের কথা মোতাবেক গত ০২/০৭/২০১৫ ইং তারিখে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৪)/৩০ ধারা দঃ বিঃ ৩৮৫ ধারা মতে দিনাজপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালে একটি মামলা দায়ের করেছি। কিন্তু মামলার পর সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ সুলতান আমাকে এবং আমার স্বামীকে হুমকি দিচ্ছে যে, মামলা প্রত্যাহার না করলে আমাদেরকে জানে মেরে ফেলবে, এমনকি আমাদের সন্তানদেরকে অপহরণ করবে। সুলতান ও তার পোষ্য বাহিনী এই হুমকিও দিচ্ছে যে, আমার স্বামীকে কোনভাবেই রাণীরবন্দরে পরিবহন ব্যবসা করতে দিবে না।

এমতাবস্থায় আমরা আমাদের ৩ মেয়ে ও ১ ছেলেকে নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি এবং আমাদের রুটি রুজির পথ বন্ধ হবার আশংকা করছি। তাই আমি সরকার ও প্রশাসনের সকল মহলের কাছে আমাদের নিরাপত্তা ও রুটি-রুজির নিশ্চয়তা সৃষ্টির জ্ন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি। সন্ত্রাসী সুলতানকে গ্রেফতারেরও দাবী জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে ফাইমার স্বামী মজিবর রহমানসহ তার সন্তানেরা উপস্থিত ছিলেন।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য