বিভাগীয় কমিশনারের ছিটমহল জণগণনাস্থল পরিদর্শনডিমলা, নীলফামারী সংবাদাতাঃ মঙ্গলবার রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মোহম্মদ দিলোয়ার বখত নীলফামারীর ডিমলায় ৪ টি ছিটমহলের হেডকাউন্টিং(জনগণনা)স্থল পরিদর্শন করেছেন। গত ৬ জুলাই ২০১৫ ইং হতে শূরু হয়েছে জনগণনার কাজ, চলবে  ১৬ জুলাই ২০১৫ পয্যন্ত।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মোহম্মদ দিলোয়ার বখত ৩১ নং ছিটমহল নগর জিকাবাড়ীর গননাস্থল পরিদর্শন করে গনকারী যৌথ প্রতিনিধিদলের সাথে জনগণনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেন। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার ছিটমহলবাসীদের ইচ্ছে অনুযায়ী নাগরিকত্ব নির্ধারনের বিষয়ে গণনাকারীদের লক্ষ রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি স্থানীয় প্রশাসনের উদ্দেশ্যে বলেন, ছিটমহলবাসীদের যেন কোনো বিষয়ে কোনো সমস্যা না হয় সেদিকে সার্বক্ষনিক নজর রাখবেন। এবং ৪ বছরের নিচের শিশূদের নতুন ফমূলায় অর্ন্তভ’ক্ত করার নির্দেশ প্রদান করেন। এ সময় নীলফামারী জেলা প্রশাসক জাকির হোসেন, ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম ও ডিমলা থানার ওসি রূহূল আমীন খান উপস্থিত ছিলেন।

ভারত বাংলাদেশের যৌথ প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে ৬ জুলাই হতে ১৬ জুলাই হেডকাউন্টিং কার্যক্রম পরিচালনা কার্যক্রম শূরু হযেছে। যৌথ এই হেডকাউন্টিং এ ভারতের পক্ষে প্রতিনিধি হিসেবে রয়েছেন ভ’মি জরিপ সহকারী শ্রী সনজিব বসাক বি এল এ- এল আর ও, শাথীভাঙ্গা-২,ইন্ডিয়া। শ্রী জয়দিপ ম-ল বি এল এ- এল আর ও, শিতলকুচি ইন্ডিয়া ও শ্রী অপরেশ পাল এস ডি এল এ- এল আর ও কুচবিহার ইন্ডিয়া। বাংলাদেশের পক্ষে রয়েছেন ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, শিক্ষক আজিজুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান কবীর, ভুমি সহকারী কর্মকর্তা এমদাদুল হক খান, দেলোয়ার হোসেন, গোলাম রব্বানী। এ সময় যদি কেউ ভারতে থাকার ইচ্ছে পোষন করে তবে তার যাতায়াতের সুবিধার জন্য দেওয়া হবে পারাপার গ্রীনকার্ড।

যেই কার্ডটি দিয়ে ওই ব্যক্তি নির্ধারিত সময় ৩০ নভেম্বর পয্যন্ত নির্বিঘ্নে ভারতে যাতায়াত করতে পারবে। বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার অভ্যন্তরে ৪টি ছিটমহলের হেডকাউন্টিং জরিপে ১১৯টি পরিবার পেয়েছেন গণনাকারীরা। এর চূড়ান্ত হিসাব অনুযায়ী এসব পরিবারের জনসংখ্যা মোট ৫৩২ জন। এখানে পুরুষ ২৭২ ও মহিলা ২৬০ জন। সোমবার সকাল হতে জনগণনা শূরু হয়ে গতকাল মঙ্গলবার পয্যন্ত ৩০ নং বড় খানকি খারিজা গিদালদহ ছিটমহলে ২ টি পরিবার ও ৩১ নং নগর জিকাবাড়ী ছিটমহলে ৫ টি পরিবার অর্ন্তভ’ক্ত হয়েছে।

উপজেলা সদর হতে ১২ কিঃ মিঃ দূরত্ব ৪নং খগাখড়িবাড়ী ইউনিয়নে মধ্যে ২৮ নম্বর ছিটমহল বড়খানকির পরিবারের সংখ্যা ২১ ও জনসংখ্যায় পুরুষ ৪৯, মহিলা ৪৮ সহ ৯৭ জন। উপজেলা সদর হতে ১১ কিঃ মিঃ দূরত্ব ৫ নং গয়াবাড়ী ইউনিয়নের মধ্যে ২৯ নম্বর ছিটমহল বড়খানকি খারিজা গিদালদহর পরিবারের সংখ্যা ৪৭। জনসংখ্যার মধ্যে পুরুষ ৯৪ জন, মহিলা ৯৬ জনসহ ১৯০ জন। উপজেলা সদর হতে ৯ কিঃ মিঃ দূরত্ব ৫ নং গয়াবাড়ী ইউনিয়নের ৩০ নম্বর ছিটমহল বড়খানকী খারিজা গীতালদহে পরিবারের সংখ্যা ৯। জনসংখ্যায় পুরুষ ২১ ও মহিলা ১৮সহ ৩৯ জন। উপজেলা সদর হতে ৮ কিঃ মিঃ দূরত্ব ৯নং টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়নের ৩১ নম্বর ছিটমহল নগর জিকাবাড়িতে পরিবারের সংখ্যা ৪৯ জন। জনসংখ্যায় পুরুষ ১০৮ জন ও মহিলা ৯৮ জনসহ ২০৬ জন। এ ছাড়া  বাংলাদেশের ভূ-খন্ডের অভ্যন্তরে ভারতের কোচবিহার জেলাধীন ১৭ হাজার ২৫৮ দশমিক ২৪ একর আয়তনের ১১১টি ছিটমহল রয়েছে। নীলফামারী জেলার ডিমলায় ৪টি ছিটমহলের আয়তন ১৬৮ দশমিক ৪৮ একর। লোক সংখ্যা ৫৩২ জন।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য