Afzal news col 6-07-2015ফুলাবাড়ী, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের কার্যালয়ে সারাদেশে ১৩টি কোম্পানির ও পেট্রবাংলাসহ আন্দোলনে অংশ নেয়। সেই ধারাবাহিকতায় বড়পুকুরিয়া খনিতে কর্মরত ক্যাজুয়াল কর্মচারীদের চাকুরী স্থায়ী করণের দাবীতে গেট সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন রেজি নং- রাজ-১৯৫৬ গতকাল সোমবার সকাল দশটায় বাংলাদেশ তৈল, গ্যাস ও খনিজ সংস্থা শ্রমিক কর্মচারী লীগ ফেডারেশনের আওতাভুক্ত বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন সারাদেশে ১৩টি কোম্পানি ও পেট্রবাংলার দাবীসমূহ বাস্তবায়নের জন্য তারা গেট সমাবেশ করেন।

গেট সমাবেশে উপস্থিত ছিলে বড়পুকুরিয়া শ্রমিক ও কর্মচারী ইনিয়নের সভাপতি মোঃ আবুল কাশেম সিকদার, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সহ-সভাপতি মোঃ আমিনুল ইসলাম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মোঃ মহিউদ্দীন আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আবদুল রাজ্জাক, কোষাধক্ষ মোঃ শাহিনুর রহমান, সদস্য মোঃ আজগার আলী।

৪ দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষে বক্তব রাখেন শ্রমিক ও কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মোঃ আবুল কাশেম সিকদার। তিনি বলেন এখানে ৬ জন কর্মকর্তা সহ ১৪১জন কর্মচারী দীর্ঘ ১২/১৪ বছর ধরে চাকুরী করছেন। কিন্তু তাদের চাকুরী স্থায়ী করণ না হওয়ায় কোন সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে না। তারা কষ্টে জীবনযাপন করছেন। তারা সকল সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বর্তমান কোম্পানি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে এগিয়ে গেছে। সাংগঠনিক অবকাঠামো অনুযায়ী ২২৩ জন কর্মকর্তা ও সারফেসে ৪৫৬ জন কর্মচারীর কর্মসংস্থান পদ আছে। কিন্তু কোম্পানীতে স্থায়ীভাবে কর্মরত রয়েছে ১১৬জন এবং স্থায়ী কর্মচারী রয়েছে ৪০জন। তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ অফিসে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছে।

কিন্তু তাদের চাকুরী ১৪বছরেও স্থায়ী হয়নি। তিনি বলেন, গত ০৪/০৫/২০০৮ সালে পত্রিকায় জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলেও কর্মকর্তা নিলেও কর্মচারী নিয়োগ করা হয়নি। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় শ্রমিক দিবসে ঘোষনা দেন, আউটসোসিং বাতিল করে সাংগঠনিক কাঠামো শূণ্য পদে জনবল নিয়োগ দেওয়ার জন্য নিদের্শ দেন। কিন্তু তা করা হয়নি। তিনি বলেন, ক্যাজুয়াল কর্মচারীদের চাকুরী স্থায়ী করণের দাবিতে বারবার পত্র দেওয়া হয়। কিন্তু কতৃপক্ষ কার্যকারী পদক্ষেপ গ্রহন করেননি।
তিনি বলেন, আমাদের ৪ দফা দাবিসমূহ হচ্ছে,

১। কোম্পানীর অর্গানোগ্রাম হতে আউটসোর্সিং বাতিল করে কর্মরত সকল অস্থায়ী এবং আউট সোসিং কর্মচারীদের চাকুরী স্থায়ী করণের ব্যবস্থা করতে হবে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শূণ্য পদে একই সাথে নিয়োগ দিতে হেব।

২। বিসিএমসিএল-তে কর্মরত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য পেনশন সুবিধা চালু করতে হবে।

৩। দেশের সকল কয়লাখনি বিসিএমসিএল এর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে।

৪। কোম্পানীর টেকনিক্যাল কাজের সাথে সরাসরি সম্পৃত্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি না করে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের লক্ষ্যে কর্মকর্তা ও কর্মচারী উভয়দেরকে বিদেশে প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে হবে। যেহেতু বাংলাদেশের সংবিধান মোতাবেক সকলেই প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। আগামী ৩০শে জুলাই সারাদেশের ন্যায় আমাদের ৪দফা দাবী বাস্তবায়ন করা না হলে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচী করবে বলে গেট সমাবেশে নেত্ববৃন্দ ঘোষনা দেন। সেক্ষেত্রে কোন পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে এর জন্য কোন কর্মচারী দায়ী থাকবে না।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য