বউ বাজার২ফজিবর রহমান বাবু ॥  দিনাজপুরে আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ছুটির দিনে নিজেদের অভাব দুর করতে ও ক্রেতাদের চাহিদা মেটাতে দোকান কর্মচারীদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত ব্যতিক্রমধর্মী বউ বাজার ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

ছুটির দিনে ক্রেতারা এই বউ বাজারে এসে যেমন স্বল্প মূল্যে তাদের পণ্যের চাহিদা মেটাচ্ছেন তেমনিভাবে ছুটির দিনে দোকান কর্মচারীরা ব্যবসা করে কিছুটা হলেও লাভবান হচ্ছেন। তবে এই বউ বাজারকে বন্ধ করার জন্য বাধা প্রদান করার চেষ্টা করে আসছেন মালিকেরা এই অভিযোগ দীর্ঘ দিনের  দোকান কর্মচারীদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,শহরের বাসুনিয়াপট্রিতে  প্রতি শুক্রবার সকাল ৮ টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ২ টা পর্যন্ত এই বউ বাজার চলে। সকাল হতেই মহিলা ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা যায় এই বউ বাজারে। উন্নতমানের দোকানে যেসব কাপড় পাওয়া যায় ঠিক সেইসব কাপড় উক্ত দোকানের থেকে কম মূল্যে পাওয়া যায় এসব ভ্রম্যমান দোকানে।

বউ বাজার৩কিভাবে কম মূল্যে সেসব কাপড় পাওয়া যায় জিজ্ঞাসা করলে বউ বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, এখানে যারা ব্যবসা করেন তাদের দিতে হয় না দোকান ভাড়া, নেই কর্মচারীদের বেতন এবং নেই কোন ইলেক্ট্রনিক্স বিল। তাই বাইরে থেকে কাপড় যে দামে কেনা হয় তার উপর কিছুটা লাভ রেখেই সেসব কাপড় বিক্রি করা হয়। কিন্তু এই কাপড়গুলোই যখন উন্নতমানের দোকানে বিক্রি হয় তখন সেগুলোর উপর দোকান ভাড়া, কর্মচারীদের বেতন, বিদ্যুৎ বিল ইত্যাদি যোগ করে এসব কাপড়ের মূল্য বেশি হয়ে যায়।

একই কাপড় কম মূল্যে পাওয়া যায় স্বীকার করে কাপড় কিনতে আসা শহরের বালুয়াডাঙ্গা এলাকার নব বধু শাবনুর বেগম জানান, কম মূল্যে কাপড় পাওয়া যায় সেজন্যই আমরা শুক্রবার করে এসব দোকানে কাপড় কিনতে আসি। ঈদের আগে ক্রেতাদের ভীড় বেড়েছে। এখানে আগে সাধারণত গরীব ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মহিলারা কাপড় কিনতে আসত । কিন্তু বর্তমানে ধনিক শ্রেণীর লোকেরাও আসছে এখানে কাপড় কিনতে।

বউ বাজার১কাপড় ব্যবসায়ী বিমল আগর ওয়ালা জানান, মোট ২ শতাধীক  কাপড়ের দোকান কর্মচারী এসব দোকানের মালিক। তারা বিভিন্ন স্থান থেকে কাপড় কিনে নিয়ে এসে এসব দোকানে বিক্রি করে। অন্যান্য দিনে তারা কাপড়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করে। কিন্তু ছুটির দিনে বাড়তি আয়ের জন্য তারা এই ব্যবসা পরিচালনা করে। আর এবার ঈদকে সামনে রেখে বউ বাজারের দোকানীরা অনেক রকমের কাপড় সংগ্রহ করেছে। সব ধরণের কাপড় আসায় ও দামে কম পাওয়ায় বউ বাজারটি দিনাজপুরের মহিলা ক্রেতাদের কাছে বেশ জন প্রিয় হয়ে উঠেছে।
বিমল আগরওয়ালা জানান, দোকান কর্মচারীদের এসব দোকান যাতে  তারা না করতে পারে সেজন্য দোকান মালিকরা বাধা প্রদান করা শুরু করেছে। তাদের কথা মানা না হলে তাদেরকে দোকান থেকে বের করে দেয়া হতে পারে।

তবে এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে জানালেন নাম জানাতে অনিচ্ছুক এক কাপড় ব্যবসায়ী। তিনি জানান, এসব দোকান করলে তাদের কোন ক্ষতি হয় না। তাই ব্যবসায়ীরা কোন ভাবেই তাদেরকে বাধা প্রদান করতে পারে না। যদি কেউ করে থাকে তাহলে তা তার অন্যায় হবে।

এ বাজারে দোকানদাররা পুরুষ এবং এখানে নারী পুরুষ সকলের কাপড় পাওয়া গেলেও ক্রেতারা সব মহিলা হওয়ায় এই বাজারের নাম বউ বাজার । দীর্ঘদিন থেকে প্রতি শুক্রবার এই বউ বাজর সবছে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য