Joypurhatক্ষেতলাল, জয়পুর হাট সংবাদাতাঃ জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল পৌরসভার প্রধান বানিজ্যিক কেন্দ্র ইটাখোলা হাট ও বাজার। এ হাটের ভিতরে বিভিন্ন গলিতে নির্মিত ড্রেনগুলি সংস্কারের অভাবে দীর্ঘদিন থেকে অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। হাটের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ড্রেনগুলি নির্মাণ করা হলেও ওই ড্রেনগুলি তৎকালীন সময়ে অপরিকল্পিতভাবে নির্মাণ করা হলেও বৃষ্টির পানি ও হাটের ব্যবহারকৃত জমানো পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলে একটু বৃষ্টিতেই ওই ড্রেনগুলো উপচে হাট ও বাজারের অলি গলির মধ্যে  পানি জমে এলাকার হয়ে যায়। এ সময় বাজার করতে এসে ব্যবসায়ী ও হাটুরেদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
উপজেলার কুসুমশহর গ্রামের ওই হাটে বসা বস্ত্র ব্যবসায়ী মাসুদার রহমান পলাশ জানান, ক্ষেতলাল পৌরসভার মধ্যে ব্যবসা বানিজ্যিক কেন্দ্র হিসাবে হাটখোলা হাট ও বাজারের আলাদা একটি গুরুত্ব রয়েছে। প্রতিবছর এই হাট থেকে সরকার প্রায় ২০থেকে ২৫লাখ টাকা রাজস্ব আয় করে। সরকারি বিধি অনুযায়ী হাটের ইজারার টাকার একটি অংশ হাট উন্নয়ন কল্পে ব্যবহার করার নীতিমালা থাকলেও প্রতিবছর সেই উন্নয়ন করা হয় না বলে ব্যবসায়ী ও হাটুরেরা অভিযোগ করেছেন।
গত শুক্রবার বাজার করতে আসা হাজার হাজার লোকের সমাগম হলে তাদের মধ্যে নাজিরপুর গ্রামের উজ্জ্বল হোসেন, বিনাই গ্রামের মিজানুর রহমান,কাপাসটিকরী গ্রামের বাতেন তালুকদার জানান, ক্ষেতলাল উপজেলার মধ্যে বিশাল এই হাটটিতে টিউবওয়েল থাকলেও প্রায় সময়ে নষ্ট অবস্থায় পড়ে থাকে।এছাড়া হাটের মধ্যে গন-শৌচাগার, ডাষ্টবিন নেই। ফলে যত্রতত্র এর ময়লা আবর্জনায় হাটের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। পরিবেশদূষণ মুক্ত রাখতে প্রায় ২০বছর আগে কষাইখানা নির্মিত হয়। কিন্তু সংস্কারের অভাবে দীর্ঘদিন থেকে সেগুলোতে গরু, ছাগল জবাই বা ব্যবহার না করায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। হাটের ভিতরে ময়লা পানি নিষ্কাশনের জন্য ড্রেন নির্মাণ করা হলেও এই ড্রেন জনসাধারণের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ড্রেনের উপরে স্লাব না থাকায় প্রতি হাটে খোলা ড্রেনে পড়ে হাটুরাদের হাত-পা ভাঙছে। প্রয়োজনীয় পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভাবে ড্রেনের মধ্যে বাজারের বর্জ্য পদার্থ ময়লা আবর্জনার স্তূপ জমে উঠেছে। ফলে অল্প বৃষ্টিতেই পানি জমে ওঠে। এই অবস্থায় হাটের ভেতর পথচারীদের চলাচলের ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। অপরদিকে ময়লা আবর্জনা পচে সৃষ্টি হচ্ছে দুগন্ধক পরিবেশ। ১৯৯৬সালের আগ পর্যন্ত এ হাটের ইজারা ছিল প্রায় ২০ থেকে ২২লাখ টাকা। এরপর হাটের উন্নয়ন ও সংস্কারের জন্য তেমন কোনো ভূমিকা না থাকায় হাটটির গুরুত্ব ক্রমান্বয়ে অনেকটা কমে যাচ্ছে। হাটের স্থানীয় ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, বর্তমানে হাটটি বিভিন্ন গলিতে ড্রেনগুলি সংস্কার সহ উন্নয়নমূলক কাজ করা হলে  আগামীতে এর ইজারা মূল্যসহ ক্রমান্বয়ে সরকারের রাজম্ব আয় বেশি হবে।
হাটের সমস্যা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন কর্মকান্ডের বিষয় নিয়ে ক্ষেতলাল পৌরসভার মেয়র আবদুল মান্নান মোল্লার সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান, ক্ষেতলাল পৌরসভার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই হাটটি বিভিন্ন সমস্যা এটা দীর্ঘদিনের। এইসব সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য স্কীম তৈরি করে অনুমোদনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন ও অর্থ প্রাপ্তি সাপেক্ষে এই হাটের সমস্যাগুলি পর্যায়ক্রমে সমাধান করা হবে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য