Jetমার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ ছদ্ম ডগফাইট বা আকাশযুদ্ধে ১৯৭০এর দশকে তৈরি এফ-১৬ বিমানের কাছে শোচনীয় ভাবে হেরে গেছে। এফ-৩৫ স্টেলথ বিমান নির্মাণে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে এ পর্যন্ত সাড়ে তিনশ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করতে হয়েছে।

জানুয়ারি মাসে প্রশান্ত মহাসাগরের ওপরে এ ছদ্ম আকাশযুদ্ধের আয়োজন করা হয়েছিল। সম্প্রতি এ আকাশযুদ্ধের কথা প্রকাশ করা হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার এডওয়ার্ড বিমান ঘাটির কাছে ১০ থেকে ৩০ হাজার ফুট রেঞ্চ বা পরিসীমার মধ্যে থেকে এ আকাশ যুদ্ধ করা হয়। আকাশে এ জাতীয় বিমান যুদ্ধকে ক্লোজ রেঞ্চ বা নিকট পরিসীমার যুদ্ধ বলা হয়।  আকাশযুদ্ধের সময় উভয় পাইলটও অন্য বিমানকে ‘গুলি’ করে ভূপাতিত করার চেষ্টা করেছে।

এফ-৩৫ টেস্ট পাইলটের দেয়া পাঁচ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে, আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল এ বিমানকে দৃষ্টি পরিসীমা বা ভিজ্যুয়াল রেঞ্জে অন্য বিমানের সঙ্গে আকাশযুদ্ধের জন্য পুরোপুরি অনুপযোগী বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লকহিড মার্টিন কোম্পানির তৈরি এফ-৩৫ বিমানটি যুদ্ধকালীন সময়ে মারাত্মক জ্বালানি সংকটে পড়ে। অন্যদিকে ৪০ বছর আগের তৈরি এফ-১৬ বাড়তি জ্বালানি ট্যাংক ফেলে দিয়ে এমন সংকট সামাল দিতে পেরেছে।

এ ছাড়া, এ প্রতিবেদনে এফ-৩৫ বিমানের অনেকগুলো অ্যারো ডায়নামিক্স সমস্যার কথা তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে ঊর্ধ্বমুখী আরোহণের হার তুলনামূলক ভাবে কম থাকায় থাকায় শত্রুর গুলি এড়ানো এফ-৩৫’এর পক্ষে সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে। এ ছাড়া, শক্র বিমানকে আঘাত হানার বা গুলি এড়ানোর জন্য এফ-৩৫ গতিকে তুলনামূলক ভাবে কম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এফ-৩৫ বিমানের পাইলটকে বিশেষ ভাবে তৈরি হেলমেট দেয়া হয়েছে। এ হেলমেট তৈরিতে পাঁচ লাখ ডলার খরচ হয়েছে এবং এটি ব্যবহার করে পাইলট চারপাশের দৃশ্য অর্থাৎ ৩৬০ ডিগ্রি দেখতে পাবেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আকাশযুদ্ধে জড়িত টেস্ট পাইলট তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, এফ-৩৫’এর ককপিটের আবদ্ধ পরিবেশে তার পক্ষে হেলমেট পরিহিত অবস্থায় আরামদায়ক ভাবে মাথা ঘোরানো বা পেছনের দিকে নজর রাখা সম্ভব ছিল না ফলে এফ-১৬’এর তার অগোচরেই পেছন থেকে হামলা করতে পেরেছে। অবশ্য নানা সংকটের কারণে এফ-৩৫ নির্মাণ আট বছর দেরি হয়েছে এবং এতে বাজেট বরাদ্দের অতিরিক্ত ২৬৩ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে।

এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান ২০০৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রথম আকাশে ওড়। অন্যদিকে এফ-১৬ বিমান ১৯৭৪ সালের ২০ জানুয়ারি প্রথম আকাশে ওড়ে। অবশ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এরপর থেকে এফ-১৬ বিমানের সংস্কার অব্যাহত রাখা হয়েছে।

মডেল ভেদে প্রতিটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের দাম ১ কোটি ৪৬ লাখ ডলার থেকে ১ কোটি ৮৮ লাখ ডলার হতে পারে। অন্যদিকে মডেল ভেদে এফ-৩৫ বিমানের দাম নয় কোটি ৮০ লাখ ডলার থেকে ১১ কোটি ৬০লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য