তেঁতুলিয়ায় সিংগাপুরী আনারসের চাষ হারিয়ে যাচ্ছেতেঁতুলিয়া, পঞ্চগড়সংবাদাতাঃ তেঁতুলিয়ায় সবুজ চা চাষের প্রতিযোগীতার কবলে পড়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আকারে সিংগাপুরী আনারস চাষাবাদে কৃষকরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। এলাকার চাষীদের তথ্যমতে একদশ আগেও তেঁতুলিয়ার দর্জিপাড়া, সারিয়ালজোত, কানকাটা, আজিজনগর, ডাঙ্গাপাড়া, মাথাফাটা, মাঝিপাড়া, কাজীপাড়া এসব এলাকায় ক্ষুদ্র ও বৃহৎ আকারে নানান জাতের আনারস চাষাবাদ হতো। এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ এসব মৌসূমী ফসল দিয়ে মানুষ ভাদ্র-আশ্বিন মাসের দারিদ্রাতার অভাব দূর করত। কিন্তু কালের বিবর্তনে এসব অঞ্চল থেকে আনারস, কাউনি ফলস, ধেমসী ফসল, ভাদই ধান, নারিকেল ঝুঁকি ধান, জব চাষ হারিয়ে গেছে। এরপরও কিছু চাষী অনেকটা শখের বসতি হয়ে এখনো পুরাতন দেশীয় ফসলের চাষাবাদ ধরে রেখেছে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে এমন একজন ক্ষুদ্র চাষী মাগুড়া গ্রামের আবদুল লতিফ’র বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়। বাড়ির সংলগ্ন ৫৫ শতক ডাঙ্গা জমিতে সিংগাপুরী আনারসের বাগান করেছে। ওই জমিতে তিনি ২৫শত আনারস চারা গাছ সারিয়ালজোত থেকে এনে রোপণ করেন। এতে বীজ, সার ও কীটনাশক বাবদ তার ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে বাগানে ২ হাজার গাছে আনারস ধরেছে। বাগানে আনারস ফলের চেহারা বেশ বড় ও সতেজ থাকায় বাজারে ভালো দামে বিক্রির আশা করছে। এই ৫৫শতক জমির আনারস ফসল পাইকারি দরেই বর্তমান বাজার মূল্যে ৫৫-৬০ হাজার টাকা বিক্রি হবে। এতে তার খরচাদি বাদ দিয়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকা বাড়তি মুনাফা হবে।
আনারস চাষী লতিফ জানান- পরিবারের সহযোগীতায় সে স্বল্প পরিসরে আনারস চাষাবাদ করে অল্প সময় অথাৎ আঠারো মাসের মধ্যে অধিক ফলন পেয়ে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে। কারণ আনারস ফসলাদি চাষাবাদে তেমন কোনো পরিশ্রম বা রোগবালাই নেই; শুধু একটু পরিচর্চা করলেই আনারস ফসলের মুখ দেখা যাবে। তিনি এঅঞ্চলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আনারস চাষীদের  সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সহায়তা প্রদানের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি আকষর্ণ করেন। তবে চাষী লতিফের অভিযোগ উপজেলা কৃষি অফিসের কোনো লোকবল স্বেচ্ছায় তার বাগানে আসেন। কোনো রকম সমস্যাদি দেখা দিয়ে কয়েকদিন ফোন করেই সংশ্লিষ্ট ব্লক সুপারভাইজারকে ক্ষেত দেখায়ে পরামর্শ নিতে হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে তেঁতুলিয়া উপজেলায় ক্ষুদ্রাকারে, মাঝারি ও বড় পরিশেষে সব মিলিয়ে ১ হাজার ২শত ৩৯ হেক্টর জমিতে সবুজ চা চাষাবাদ হয়েছে। এ চাষাবাদকৃত জমির মধ্যে বিভিন্ন কোম্পানি বেশি পরিসরে চা চাষ করেছে। তবে কোম্পানি গুলোর চা চাষের বাস্তবস্তা দেখে এখন তেঁতুলিয়ায় সমতল বালুময় উঁচু জমিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি চাষীরা অন্যান্য ফসলের আবাদ কমিয়ে চা চাষের পরিধি বাড়াচ্ছে। ফলে তেঁতুলিয়ায় সিংগাপুরী আনারস সহ দেশীয় আনারস চাষ এখন নাই বললেই চলে। তবে কী পরিমাণ জমিতে আনারসের চাষাবাদ হয়েছে তাৎক্ষনিক ভাবে এর সঠিক তথ্য দিতে পারেনি।
উপহেলা কৃষি অফিসার, কৃষিবিদ মো. জাহাংগীর আলম জানান- সঠিক সময়ে বাজারজাত করতে না পারার কারণেই হয়তো এ অঞ্চলের চাষীরা আনারস চাষাবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। এ ছাড়া আনারস ফসলের চেয়ে অন্যান্য ফসলে বেশি লাভবান হওয়ার আশায় সাধারণ কৃষকরা আনারস চাষাবাদ সহ দেশীয় ফসলের চাষাবাদ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। তবে দেশীয় ফসল চাষাবাদে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধির জন্য কৃষিবিভাগের পক্ষ থেকে কিছু প্রচারো চালানো হচ্ছে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য