Highঠাকুরগাঁও সংবাদাতাঃ দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগ সংক্রান্ত হাইকোর্টে রীটপিটিশন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ জারীর ফলে ঠাকুরগাঁও জেলার ৩ উপজেলায় নিয়োগ স্থগিত এবং দুই উপজেলায় নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন হলেও নিয়োগ কার্যকরী হচ্ছেনা।
অভিযোগ উঠেছে, এই পদে নিয়োগে প্রার্থীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রভাবশালী দালাল চক্র। অনেক প্রার্থী টাকা ফেরত চেয়ে হন্যে হয়ে ঘুরছেন ওই প্রতারক চক্রের পেছনে।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা যায়, দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগের সংশোধিত নীতিমালা নিয়ে নাটোরের এম এ জেড মশিউর মোল্লা হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট পিটিশন দাখিল করে। হাইকোর্ট দপ্তরী কাম প্রহরী পদে নিয়োগের নীতিমালার উপর রুল জারি করে এবং রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতাবস্থা বহাল রাখেন। ওই আদেশের উপর প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রশাসন-২ অধিÑশাখার যুগ্ম সচিব জ্যোতির্ম্ময় বর্মন স্বাক্ষরিত গত ১২ মে ৩৮.০০২.০১১.০০.০০.০০৩.২০১৩-৫৬৪ নম্বর স্মারকে সংশি¬ষ্ট প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থিতাবস্থার আদেশ পত্র জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে প্রেরণ করে। ওই পত্রের প্রেক্ষিতে ঠাকুরগাঁও জেলা শিক্ষা অফিস সংশি¬ষ্ট উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের আছে পত্র প্রেরণ করে। এ অবস্থায় ঠাকুরগাঁও জেলার সদর উপজেলা, পীরগঞ্জ ও রানীশংকৈল উপজেলায় নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থিতাবস্থা থাকলেও তৃতীয় ধাপে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ২১ এবং হরিপুর উপজেলায় ১৪ টি বিদ্যালয়ে শূন্য পদে নিয়োগ কার্যক্রম শেষ হয়েছে।
তবে গত ২৭ মে জেলার হরিপুর উপজেলার রনহাট্টা পতন ডোবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লহুচাঁদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মশানগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও খোড়লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, নির্বাচিতরা এখন পর্যন্ত বিদ্যালয়ে যোগদান করেনি। রনহাট্টা পতন ডোবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নির্বাচিত দপ্তরী কাম প্রহরী কৈলাশ চন্দ্র জানায় গত ২৫ এপ্রিল হরিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নিয়োগ পরিক্ষায় অংশ নিয়েছি। তবে এখনো যোগদান করিনি। ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছাম্মত মাসুদা বেগম জানান, ওই পদে নিয়োগ পরীক্ষা হলেও এখনো যোগদান করে নি। একই কথা বলেন, মশানগাঁও সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফয়েজ মো. জামান। হরিপুর উপজেলার খোলড়া বিদ্যালয়ের দাপ্তরী কাম প্রহরী পদের এক প্রার্থী জানান, দালাল চক্রের খপ্পড়ে পরে সাড়ে ৬লাখ টাকা দিয়েও চাকরি নিশ্চিত করতে পারেনি। ওই দালাল চক্রের পেছনে হন্যে হয়ে ঘুরে ৩ লাখ টাকা ফেরত পেলেও এখনো অবশিষ্ট টাকা দেননি বলে অভিযোগ করেন। চাকরির আশায় কম দামে আবাদি জমি বিক্রি করে ওই টাকা দালাল চক্রকে দিয়ে আজ আমি পথে বসেছি। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র আরো জানায়, তিনটি ধাপে জেলার সদর উপজেলায় ১৮৯জন, পীরগঞ্জ উপজেলায় ৭৭জন, রানীশংকৈল উপজেলায় ৫৫জন, বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ৬০জন ও হরিপুর উপজেলায় ৩৮জন দপ্তরী কাম প্রহরী নিয়োগ করা হবে। এ ব্যাপারে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হারেজ আলী জানান, তৃতীয় ধাপে হরিপুর ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় ১৪ ও ২১ জন প্রহরী নিয়োগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য