PHOTO-001গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ নির্মাণ ক্ষেত্রে কর্মরত গাইবান্ধার নারী শ্রমিকরা শ্রমের ন্যায্য মজুরি পাচ্ছেন না। অতিরিক্ত পরিশ্রম করেও শ্রম শোষণসহ নানা বঞ্চনার শিকার হয়ে এ জেলার নির্মাণ নারী শ্রমিকরা মানবেতর জীবন যাপন করছেন। নারী শ্রমিকদের আলাদা কোন সংগঠন না থাকায় তারা অধিকার প্রতিষ্ঠায় সংগঠিত হয়ে কার্যকর কোন ভূমিকাও রাখতে সক্ষম হচ্ছেন না।
জানা গেছে, গাইবান্ধার ৭টি উপজেলার বিভিন্ন সেক্টরে প্রায় সাড়ে সাত হাজার নারী শ্রমিক কর্মরত আছেন। এরমধ্যে গৃহপরিচারিকা এবং কৃষি সেক্টরসহ মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত নারী শ্রমিকের সংখ্যা বেশি হলেও চালকল এবং নির্মাণ কাজে নিয়োজিত নারী শ্রমিকের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। জেলায় রাজমিস্ত্রিদের সঙ্গে যোগানদারসহ ইটের খোয়া ভাঙ্গার কাজে নিয়োজিত নারী শ্রমিক হচ্ছে প্রায় ২ হাজার ৭শ’। তবে এই সেক্টরে কর্মরত নারীদের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। এর কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, নদীবেষ্টিত এ জেলায় অব্যাহত নদী ভাঙ্গন সর্বহারা ছিন্নমুল মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। তদুপরি এ জেলায় বৃহৎ ক্ষুদ্র বা মাঝারি শিল্প কারখানা গড়ে না ওঠায় কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়নি।
এদিকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বাঁশজাত কুটির শিল্প এখন বিলুপ্তপ্রায়। ফলে এ শিল্পকর্মে নিয়োজিত প্রায় সাড়ে ৩ হাজার পেশাদার কারিগর এখন চরম দুর্ভোগের শিকার। জীবন জীবিকার প্রয়োজনে তারা তাদের পৈত্রিক পেশাও ছাড়তে পারছে না, আবার এ পেশা আঁকড়ে ধরে খেয়ে পরে বেঁচে থাকাও দুস্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাঁশজাত শিল্পকর্মের মধ্যে ডালি, কুলা, চালুন, ঝাঁপি, দোলনাসহ নানা নকশি শো-পিস ক্রেতাদের কাছে জনপ্রিয়। তারপরও বাঁশের তৈরী চাটাই, নকশি করা ঘরের ছাদ, ঝাটা শলাসহ গৃহস্থালী কাজে ব্যবহার্য জিনিসের এখনও যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। কিন্তু পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতায় এবং অবাধ বৃক্ষনিধনের মাধ্যমে বনাঞ্চল উজাড় করে ফেলায় সুন্দরগঞ্জে ব্যাপক হারে বাঁশঝাড়ও বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এছাড়া তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদী তীরবর্তী এলাকায় ইতোপূর্বে প্রচুর বাঁশ বন থাকলেও অব্যাহত নদী ভাঙনে বাঁশঝাড়ের সবচাইতে বেশি ক্ষতি হয়েছে। ফলে বাঁশ প্রধান এ অঞ্চলে এখন বাঁশের সংকট। সে জন্য বাঁশজাত শিল্পকর্মের জন্য প্রয়োজনীয় বাঁশের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় বহুলাংশে বাড়লেও আনুপাতিক হারে বিক্রয় মুল্য বাড়েনি। কারণ বাঁশজাত কুটিরশিল্পে নিয়োজিত হত দরিদ্র ভাঙন কবলিত ছিন্নমুল মানুষ জীবন জীবিকার তাগিদে নারী পুরুষ উভয়েই শ্রমে নিয়োজিত হতে বাধ্য হচ্ছেন। পুরুষের চেয়ে নারী শ্রমিকদের দিয়ে বেশি কাজ করানো হলেও কম মজুরি দেয়ার সুযোগ রয়েছে বলেই নির্মাণ সেক্টরে নারী শ্রমিকদের চাহিদা অপেক্ষাকৃত বেশি। এ জন্য নির্মাণ নারী শ্রমিকের সংখ্যা বাড়ছে। কাজে নিয়োজিত হওয়ার ক্ষেত্রে মজুরি নিয়ে মালিকদের সঙ্গে দর কষাকষির সুযোগ পান না নারী শ্রমিকরা। এ জন্য তারা সমান কাজ করেও পুরুষদের চেয়ে দিন হাজিরা ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কম পান।
এছাড়া নিজ মজুরি থেকে রাজমিস্ত্রিকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট হারে কমিশন না দিলে তারা কাজরে সুযোগ হারান। ফলে হাড় ভাঙ্গা খাটুনি খেটেও অসহায় নির্মাণ নারী শ্রমিকরা তাদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন ঘটাতে পারছেন না। তারা দরিদ্র থেকে আরও দরিদ্র হচ্ছেন। কারিগররা তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগী পাইকাররদের কাছে জিম্মি। কেননা কারিগররা পাইকারি মহানজনদের কাছে নির্ধারিত রেটে মাল বিক্রির শর্তে আগাম টাকা নেয়। নিজস্ব টাকা না থাকায় মহাজনের প্রদত্ত বাঁশ দিয়েই তারা তাদের বাঁশজাত পণ্য সামগ্রী তৈরী করে। এ জন্য বাজার অনুযায়ী তারা অনেক কম মূল্য পায়।
সেজন্য সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বাঁশজাত কুটির শিল্পে নিয়োজিত দরিদ্র পাটনী পরিবারগুলোকে সহজ শর্তে জামানতবিহীন ঋণ সহায়তা প্রদান করা হলে এই কুটির শিল্প যেমন বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা পেত। তেমনি বাঁশজাত শিল্পের কারিগররা পৈত্রিক পেশাকে উপজীব্য করে জীবন জীবিকা চালিয়ে নিতে সক্ষম হতো।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য