Mamlaগাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আন্দুয়া গ্রামে খাস খতিয়ানভূক্ত জায়গা জমির মধ্যে মাত্র ১২ শতক জমিতে আন্দুয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে নানা অনিয়ম, জালিয়াতিসহ প্রচলিত নিয়মনীতি একাধিক বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন উপেক্ষা করে মোটা অংকের উৎকোচ বাণিজ্য ঠেকাতেই অবশেষে গত ৮ জুন গাইবান্ধার পলাশবাড়ী বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে (নং-৬৮/১৫ অন্য)। এ মামলার বিবাদীর তালিকায় রয়েছে শিক্ষা সচিব, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ ২৭  জনের নাম। উক্ত সম্পত্তির ওয়ারিশগণ বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি সরাসরি আমলে গ্রহণ পূর্বক আগামী ২৭ জুলাই ধার্যকৃত তারিখের মধ্যেই বিবাদীগণের নামে ইস্যুকৃত সমনজারি অন্তে ফেরতের আদেশ দিয়েছেন। উক্ত সম্পত্তি সংক্রান্ত অপর একটি পৃথক মামলা (নং-১৬/১৫ অন্য) আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের আন্দুয়া গ্রামের নালিশী খাস খতিয়ানভূক্ত আন্দুয়া মৌজার ১২ শতক জমিতে আন্দুয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কোন আইনগত ভিত্তি নেই। নেই বিদ্যালয়ের কোন অস্তিত্ব, অবকাঠামো, শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রী। কেবলমাত্র কাগজ কলমের তথ্য নির্ভর বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুকুলে একটি কমিটি গঠন ও শিক্ষক নিয়োগের তালিকা উপজেলা শিক্ষা অফিসে দাখিল করা হলে বিভিন্ন সময়ে বাদিপক্ষের আপত্তির কারণ ঘটে। লিখিত অভিযোগ দাখিল হয়েছে একাধিক। এতে উল্লেখ থাকে প্রস্তাবিত আন্দুয়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খাস খতিয়ানভূক্ত ১২ শতক জমির ভূয়া দাতা সেজে একটি ভূয়া দলিল নং-৩২২৮, তাং- ২৬/০৬/২০১১ মূলে ৬৭৪ দাগের জমি দেখানো হলেও (যার খারিজ কেস নং-৭০/৯৯-২০০০) ভূয়া দেখানো হয়। পক্ষান্তরে উক্ত তফশীলভূক্ত জমির কবুলিয়ত দলিল নং- ৬৫২২, তাং ১১/০৪/১৯৬৯ মূলে বন্দোবস্ত গ্রহণের তথ্য উদ্ধার হয় বটে। যার প্রকৃত ওয়ারিশগণের অংশ সূত্রে প্রাপ্য সম্পত্তির তথ্য গোপন ও জালিয়াতির আশ্রয় গ্রহণের অভিযোগ ধরা পড়ে। এসব ঘটনার সত্যতা পলাশবাড়ী উপজেলা শিক্ষা অফিস, উপজেলা যাচাই-বাচাই কমিটি, গাইবান্ধা জেলা ও রংপুর বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পৃথক ৪টি তদন্ত প্রতিবেদন প্রমাণিত হওয়ায় নালিশী বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার তদন্ত রায় সৃষ্টি হলে উপজেলা ভূমি ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি অফিস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাতিলের আদেশ প্রদান করেন। কিন্তু এসব আপত্তি উপেক্ষা করে মোটা অংকের উৎকোচের বিনিময়ে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) শাখার অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিতর্কিত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হাছিনাতুল ফেরদৌসির দায়েরকৃত মিস কেস নং-৯৬/২০১৪ এর অনুকুলে পলাশবাড়ী উপজেলা ভূমি অফিসের মিস কেস নং- ১৬/১৩-১৪ রদরহিত করে ১০৮১/১৩-১৪ নং নামজারী কেস পূর্ণবহাল বিষয়ক আপীল আবেদন মঞ্জুরের আদেশ দিলে উক্ত মামলার কারণ ঘটে বলে বাদী পক্ষগণ দাবি করেছেন। এ নিয়ে পলাশবাড়ীতে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য