Dinajpur pic 10-06-15শাহারিয়ার হিরুঃ পড়ালেখা শেষ করে সুখের সংসার গড়ার স্বপ্ন শেষ হয়ে গেলো ঢাকা ইন্ডিপেন্টেড ইউনিভার্সিটির শেষ বর্ষের ছাত্র রকিবুল ইসলাম রকির (২৫)। নববধূ বিপাশার বিদায় হওয়ার আগেই রকি চিরবিদায় নিলো পৃথিবী থেকে। এই মর্মান্তিক ও হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটেছ গত  ৯ জুন দিবাগত রাত ১২টায় পার্বতীপুর থানাধীন বালুপাড়া নামক স্থানে। রকি আর নেই এ খবর দিনাজপুরে ছড়িয়ে পড়লে পিতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম, মাতা এ্যাড. নাগমা পারভিন জেবা, নববধূ বিপাশাসহ আত্মীয়স্বজনের আহাজারি ও কান্নায় আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠে। আদালত প্রাঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া।  রকির এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে  জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি শোক প্রকাশ ও শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শী, পার্বতীপুর থানা ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন আগে রকি ও তার কয়েক বন্ধু মোটরসাইকেলযোগে খুলনা, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে ভ্রমনে বের হয়। ভ্রমন শেষে ৯ জুন বন্ধু শিশিরকে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে ঢাকা থেকে দিনাজপুর অভিমুখে রওনা হয়। দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরথানাধীন বালুপাড়া নামক স্থানে একটি পাথর বোঝাই ঘাতক ট্রাক রকির জীবন কেড়ে নেয়। ঘটনাস্থলেই রকির মৃত্যু হয়। বন্ধু শিশির আহত অবস্থায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। পার্বতীপুর থানা পুলিশ ঘাতক ট্রাকটি (নং-ঢাকা মেট্রো-ট-১৬-৬৩৮৮) আটক করেছে। রকির ব্যবহৃত মোটরসাইকেল পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। রকি কিছুদিন পূর্বেই দিনাজপুর সরকারি কলেজের ইতিহাসে অর্নাসের ছাত্রী ও শহরের চাউলিয়াপট্টি মহল্লার আমীন উদ্দীন ব্যাঙ্গা বাবুর একমাত্র কন্যা বিপাশাকে বিয়ে করে। কথা ছিল রকির পড়াশুনা শেষ হলেই বিয়ের বিদায়ের ঘন্টা বেজে উঠবে। রকি ইন্ডিপেন্টেড ইউনিভার্সিটির শেষ বর্ষের ছাত্র। আর একটি সেমিস্টার এ বছরেই শেষ  হবে। তারপরেই শুরু হতো বিদায়ের আয়োজন। আর বিয়ের বিদায়ের আয়োজন হলো না। ঘাতক ট্রাক বিপাশার সুখ ও স্বপ্ন কেড়ে নিলো। নিহত রকির মাতা এ্যাড. নাগমা পারভিন জেবা জানান, ৮ জুন ঢাকায় ছেলের সাথে শেষ দেখা হয়। ওই দিন রাতে তিনি দিনাজপুর চলে আসেন। রকিকে সাথে আসার জন্য অনুরোধ করলেও সে আসেনি। রকির মা’র আহাজারিতে যেন মেঘ কালো হয়ে আসছিল। চিৎকার করে বলছিল আল্লাহ আমি কী পাপ, কী অন্যায় করেছি আমার ছেলেকে তুমি এভাবে নিয়ে গেলে। এ বলেই বার বার মূর্ছা যাচ্ছিল।  পিতা নজরুল ইসলাম কিং কর্তব্যবিমুখ হয়ে পড়েছে। কথা নেই, কান্না নেই শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছে। আমার ছেলে একদিন শিক্ষিত হয়ে বাড়ি ফিরবে এ আশা প্রত্যাশা এখনও রয়েছে। নববধূ বিপাশা চোখ দিয়ে ঝড় ঝড় করে পানি পড়ছে। পিতা অসুস্থ। মা একমাত্র সম্বল। মাত্র ২১ বছরেই জীবনের প্রথম প্রহরেই এই বয়সেই বিধবার গ্লানি তার ঘাড়ে এসে পড়বে। এটা কেন আল্লাহর কাছে এ প্রশ্ন বিপাশার? বিপাশার বাড়িতে এই প্রতিনিধি গেলে তার মা চিৎকার করে কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার একমাত্র মেয়ে অল্প বয়সেই বিধবা হলো। আল্লাহর কী বিচার জানিনা। রাতেই রকিকে শেষ গোসল করান দৈনিক করতোয়া জেলা প্রতিনিধি শাহারিয়ার হিরু। আতর, সুরমা ও কফুর দিয়ে সাদা কাপড়ে সাজানো রকিকে শেষবারের মত দেখার জন্য তার পাহাড়পুর বাসভবনে পাড়াপড়শি, আত্মীয়স্বজন, আইনজীবিসহ হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। গতকাল বুধবার দিনাজপুর ষ্টেশন জামে মসজিদ প্রাঙ্গনে বাদ আসর  জানাযা শেষে ফরিদপুর গোরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। জানাযা ও দাফন কাজে দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আজিজুল ইমাম চৌধুরী, দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম , আইনজীবি সমিতির সভাপতি এ্যাড. আজিজুল ইসলাম জুগলু, জেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ্যাড.আব্দুল লতিফ, শহর আ’লীগের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম,  রাজনৈতিক, পেশাজীবি, আইনজীবিসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ অংশগ্রহন করেন।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য