Hotta khun হত্যানীলফামারী সংবাদাতাঃ নীলফামারীতে পারিবারিক কলহের জেরে হতভাগা পিতাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে এক পাষ- ছেলে। নিহত পিতা হলেন, তৌহদ্দী মিয়া (৬৭)। সে জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটির জয়নুন কোটপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। পিতা হন্তারক হলেন, নিহতের একমাত্র ছেলে আমিনুল ইসলাম (৩৩)। আমিনুল শ্বাসরোধ করে পিতাকে হত্যার পর ঘটনা ধামাচাপা দিতে হত্যাকারী ছেলে তার পিতার লাশ ঘরের ভেতর গর্ত করে পুতে ফেলার চেষ্টা চালায়। এলাকাবাসী টের পেয়ে তাকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ আজ শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে এবং পিতা হন্তারক পুত্রকে আটক করে। জানা যায়, হত্যার শিকার কৃষক তৌহদ্দী মিয়ার স্ত্রী আমেনা বেগম জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে দুই বছর আগে মারা যায়। তাদের ৪ মেয়ে ১ ছেলে। মেয়েদের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় তারা স্বামীর বাড়িতে ঘর সংসার করছে। আর উত্তর দুরাকুটির জয়নুন কোটপাড়া গ্রামের বাড়িতে পিতা-পুত্র ও পুত্রবধু গোলাপী একত্রে বাস করে আসছে। পিতা-পুত্র দুইজনই কৃষক। নিজেদের সামান্য জমি আবাদ করে সংসার চালায়। কিন্তু ছেলে আমিনুলের স্ত্রী শ্বশুর তৌহদ্দী মিয়াকে পৃথক করে দেয়ার জন্য স্বামীকে চাপ সৃষ্টি করে আসছিল। এ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার সৃষ্টি হলে গত দুই দিন আগে গোলাপী তার একমাত্র ছেলে সন্তান গোলাপকে নিয়ে একই উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের ভেরভেরি গ্রামের পিতার বাড়ি চলে যায়। স্ত্রী চলে যাওয়ার পর পিতা পুত্রের মধ্যে এ নিয়ে চরম বিবাদের সৃষ্টি হয়। এলাকাবাসীর ধারণা ওই বিবাদের সূত্র ধরে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় আমিনুল ইসলাম ঘুমিয়ে থাকা তার পিতাকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে। এরপর সে শোয়ার ঘরে গর্ত খুঁড়ে তার পিতার লাশ গোপনে মাটিচাপা দেয়ার চেষ্টা চালায়। এলাকাবাসী বিষয়টি টের পেয়ে তাকে আটক করে পুলিশ কে খবর দিলে পুলিশ এসে আমিনুল ইসলাম কে আটক এবং লাশ উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে আটক আমিনুল ইসলামের সাথে সাংবাদিক ঘটনা জানতে চাইলে সে বিষয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানায়। এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত ব্যক্তির গলায় শ্বাসরোধ করে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। লাশের ময়না তদন্তের জন্য জেলার মর্গে পাঠানো হয়েছে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য