shangshade-hasinaবিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগের মধ্যে এই বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার সংসদে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমাদের আশপাশের দেশে বা অন্যান্য দেশে দেখেন- কত টাকায় বিদ্যুৎ কেনে? কৃষকদের উৎপাদন খরচ তো দিতে হবে। ব্যবহার করবেন আর দাম দেবেন না?” সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজির প্রশ্ন ছিল- বিদ্যুতের দাম আবার বাড়ানো হবে কি না? জবাবে শেখ হাসিনা ওই উত্তর দেন।

বিদ্যুতের ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “দাম বাড়ছে-বাড়ছে বলে চিৎকার করলে তো চলবে না। অর্থনৈতিক চাপ সচল রাখতে এনার্জি একটা জিনিস, যা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে হবে।” অপেক্ষাকৃত বেশি মূল্যের তেলভিত্তিক ভাড়া বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা বাড়ার পর গত পাঁচ বছরে খুচরা ও পাইকারি মিলিয়ে ১১ দফায় বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়। আবার দাম বাড়াতে আগামী সপ্তাহে শুনানি হবে।

ভাড়াভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনতে গড়ে খরচ হচ্ছে ৯ টাকা ৫০ পয়সা, এই দামে কিনে তার চেয়ে কম দামে গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করছে পিডিবি। বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করায় বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকি দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকা। চাহিদার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতে সরকারের মহাপরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিতরণ বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি। সংসদে আরেক আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যাংক ঋণে সুদের হারের ব্যাপ্তি যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। তবে শিল্পঋণ যে অন্য খাতে যেন না যায়, তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত বছরের শেষ তিন মাসে নাশকতার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কৃষি, শিল্প ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে গতি সঞ্চারের জন্য উৎপাদন ও রপ্তানি পর্যায়ে রাজস্ব-আর্থিক সুবিধা দেয়ার বিষয়ে ভাবছে সরকার।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য