Shob-E-Borat Picদিনাজপুর প্রতিনিধি ॥ সারা রাত ইবাদত বন্দেগীর মধ্য দিয়ে দিনাজপুরে পালিত হয়েছে পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, তসবিহ-তাহলিল, দান-খয়রাত করেছে এ পবিত্র ও মহিমান্বিত রাতে। গোরস্থানে গিয়ে মৃত পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজনদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন অনেকে। মসজিদে মসজিদে দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য রেখেছেন ইমামগন।
মঙ্গলবার (২ জুন) দিবাগত রাতে দিনাজপুর শহরের প্রতিটি মসজিদে ছিল ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপচেপড়া ভীড়। মাগরিবের নামাজের পর থেকে মুসল্লিরা মসজিদে এসে উপস্থিত হয়। এশার নামাজের পূর্বেই প্রতিটি মসজিদ কানায় কানায় ভরে যায়। মসজিদের ইমামগন পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাতের ফজিলত তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন। এছাড়া মাদরাসা, খানকাহ, এতিমখানা ও অন্যান্য স্থানে আয়োজন করা হয় ওয়াজ মাহফিলের। এ সব ওয়াজ মাহফিলে মসজিদের ইমাম ও অন্যান্য আলেম-ওলামাগন শবে বরাতের ফজিলত সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন। আল্লাহ পাকের নৈকট্য লাভ ও মুসলমানদের করনীয় বিষয়ে মুসল্লিদের সামনে পবিত্র কুরআন ও হাদিসের আলোকে তুলে ধরেন।
শহরের জেল রোড কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, গোর-এ-শহীদ জামে মসজিদ, স্টেশন রোড জামে মসজিদ, পশ্চিম পাটুয়াপাড়া জামে মসজিদ, কাঞ্চন কলোনী জামে মসজিদ, চাউয়িাপটি জামে মসজিদ, মাটির মসজিদ, ডাবগাছ জামে মসজিদ, পাহাড়পুর জামে মসজিদ, গাউসতলা জামে মসজিদ, মুন্সিপাড়া জামে মসজিদ, দপ্তরীপাড়া জামে মসজিদ, হঠাৎপাড়া জামে মসজিদ, বালুয়াডাঙ্গা জামে মসজিদ, সদর হাসপাতাল জামে মসজিদ, চুরিপট্টি জামে মসজিদ, ফকিরপাড়া জামে মসজিদ, সরদারপাড়া জামে মসজিদ, পুলহাট জামে মসজিদ, ফুলবাড়ী বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদ, ৮নং উপশহর জামে মসজিদ, ফরিদপুর জামে মসজিদ, বালুবাড়ী জামে মসজিদসহ শহরের প্রতিটি মসজিদে শবে বরাতের তাৎপর্য তুলে ধরে ইমামগন বক্তব্য রাখেন।
শবে বরাতের ন্যায় বছরের অন্যান্য দিনেও মসজিদে এসে নামাজ আদায় করা ও অন্যান্য ইবাদত পালনের আহবান জানান ইমামগন। শুধু শবে বরাত নয়, প্রতিদিন যাতে মুসলমানরা আল্লাহ পাকের আদেশ-নিষেধ মেনে চলতে পারেন সে বিষয়ে দিকনির্দেশানা দেন আলেম-ওলামাগন।
পরে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রাত জেগে নফল নামাজ, কুরআন তেলাওয়াত ও জিকির-আজকার করে রাত কাটিয়েছেন। অনেকেই গোরস্থানে গিয়ে মৃত পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজনদের কবর যিয়ারত করেছেন ও তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন। কেউ কেউ আবার মসজিদ ও গোরস্থানের সামনে ভীড় করা গরীব-দুখী ও অসহায় মানুষকে নগদ টাকা-পয়সা দান করেছেন। সওয়াব বা পুণ্য লাভের আশায় গরীবদের মাঝে খাবার বিতরণ করেছেন। সামর্থবান মানুষ গোসত-রুট, হালুয়া খাওয়ার আয়োজন করে। এ সব খাবার নিজেরা খেয়েছে ও আত্মীয়-স্বজন এবং গরীব-দুখীদের মাঝে বিতরণ করেছেন।
মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র ও মহিমান্বিত রাত লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। অন্যান্য রাতের ন্যায় এ রাতেও মহান আল্লাহ তাআলা মানুষের জন্য রহমতের দরজা খলে দেন। মুসলমানেরা অতীতের ভূলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা ও ভবিষ্যতে পরিশুদ্ধ জীবন-যাপনের তাওফিক চেয়ে রাত জেগে ইবাদত-বন্দেগী ও দোয়া মুনাজাত করেন। পাশাপাশি সমাজ, দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনা করে মুনাজাত করা হয়। দিনে নফল রোজা ও অন্যান্য ইবাদত পালন করেন।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য