ঝড়-1বিরামপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : ঝড়ে লন্ডভন্ড দিনাজপুরের পাঁচ উপজেলায়  এবারে বন উজাড়ে মত্ত হয়েছে বন কর্মকর্তা ও গাছ চোরেরা। এক রাতের ঝড়েই বন কর্তৃপক্ষের মদতে উজাড় হয়েছে অর্ধেক বনের গাছ।
২৩ মে শনিবার শেষ রাতে ও ২২ মে রোববার প্রথম রাতে ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে দিনাজপুরের বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর,ঘোড়াঘাট ও ফুলবাড়ী  উপজেলার বেশ কিছু এলাকা। দেয়াল ধসে নবাবগঞ্জের বড় হাতিশালে দাদা-নাতি ও ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ী এলাকায় আরো দু’জন মারা গেছে। ধ্বংস্তুপে পরিণত হয়েছে কয়েকহাজার  বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান । বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। ৫ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের চলতি দায়িত্বে বিরামপুরের ইউএনও এসএম মনিরুজ্জামান আল মাসউদ উপরোক্ত তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঝড়-2দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক জানিয়েছেন। ঝড়ে পল্লী বিদুৎ এর পাঁচ শতাধিক পোল ভেংগে গেছে। বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে  আগামী সাত  লাগবে। ৩৩ হাজার কেভিএম মূল লাইন সচল করতে ৪৮ ঘন্টা ও ১১ হাজার সাব লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করতে আরো ৫ দিন লাগতে পারে। সংযোগ ঠিক করতে প্রায় সাত দিন লাগবে বলে তিনি জানান।
নবাবগঞ্জ প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান সরকার জানান, ঝড়ে উপজেলার শালখুরিয়া ইউনিয়নের  বড় হাতিশাল গ্রামে দেয়াল চাপা পড়ে সিরাজ উদ্দিন (৫৫) ও তাঁর নাতি সাব্বির হোসেন (৫) নিহত হন। সিরাজ উদ্দিনের স্ত্রী মারফিয়া বেগম গুরুতর আহত অবস্থায় ঝড়-3বিরামপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ২’শ টি ঘর সম্পূর্ণ নষ্ট এবং প্রায় ৮ শতাধিক ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এয়াড়াও বিশটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে।
হাকিমপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ওই উপজেলায় চার শতাধিক বাড়ি ঘড় ধ্বংস হয়ে গেছে। ব্যপক ক্ষতি হয়েছে ১০ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। ঘোড়াঘাট প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওমর খৈয়াম জানান, ওই উপজেলায় পাঁচ শতাধিক ঘর বাড়ি এবং ১৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্টান ঝড়ে ক্ষতি সাধিত হয়েছে।
বিরামপুরে চার শতাধিক ঘরবাড়ি ধ্বংস এবং ২০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিঠুন কুন্ডু জানান।
তবে সরেজমিনে বিরামপুরের পলিপ্রয়াগপুর, মুুকুন্দপুর, নবাবগঞ্জের বিনোদনগর, দাউদপুর, ভাদুরিয়া, পুটিমারা, শালখুরিয়া, হাকিমপুরের বোয়ালাদাড়, আলিহাট ও খট্টামাধপপাড়া ইউনিয়নের  বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান আরো অনেক বেশি।
চরকাই রেঞ্চ কর্মকর্তা একরামুল হক জানান, ঝড়ে নবাবগঞ্জ জাতীয় উদ্যানের প্রায় দুই হাজার শাল গাছে ভেঙ্গে পড়ে গেছে। এছাড়া রেঞ্জের অধিনে চার উপজেলায় বিভিন্ন বনের প্রায় বিশ সহ¯্রাধিক বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ভেঙ্গে পড়ে গেছে। কুশদহ ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজুল ইসলাম ও সাংসদ শিবলী সাদিকের ব্যক্তিগত সহকারী আজিজুল হক জানান, ঝড়ের উছিলায়  রেঞ্চ কর্মকর্তার প্রত্যক্ষ মদতে গাছ চোরেরা নবাবগঞ্জ, কুশদহ ও হরিপুর বিটের বন উড়াছ করে করেছে।
পাঁচ উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম মনিরুজ্জামান আল মাসউদ জানান, নিহত চার জনের প্রত্যেকের পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা করে প্রদান করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। তিনি আরো জানিয়েছেন, পাঁচ উপজেলার পিআইওদেও মাধ্যমে তথ্য নিয়ে ক্ষয়-ক্ষতির বিষয়টি উদ্ধতর্ন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য