Greftarনিজস্ব প্রতিনিধি ॥ শিশু নির্যাতনের অভিযোগে ৩ মাদ্রাসা শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আটক ৩ জনের বিরুদ্ধে ৫দিনের রিমান্ড আবেদন করেছে পুলিশ।
দিনাজপুর সদর উপজেলার কমলপুর নুরানী কওমী মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র ৯ বছরের আবু সাঈদকে অমানবিক নির্যাতন করে ৩ দিন আটক রাখার ঘটনায় মাদ্রাসার তদন্ত কমিটি মঙ্গলবার লিখিত প্রতিবেদন পেশ করে। প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে মাদ্রাসার ৩ শিক্ষক হাফেজ মোঃ রেজাউল ইসলাম, মওলানা রিয়াজুল ইসলাম ও হাফেজ মোঃ শরিফুল ইসলামকে প্রাথমিক পর্যায়ে দোষী সাব্যস্ত করে চাকুরী হতে সাময়িক বরখাস্ত করেন মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি। এদিকে নির্যাতিত আবু সাঈদের পিতা হাসান আলী গতকাল  বুধবার কোতয়ালী থানায় পুলিশ ও সাংবাদিকদের কাছে আকুতি জানান, ভাগিনা হাফেজ মাহামুদুল হাসান আলী আমার মায়ের জানাযা পড়ান। সেই আশা ও প্রত্যাশা নিয়ে নিজের বড় পুত্র সাহিন আলমকে (১৫) দাইনুর দাখিল মাদ্রাসায় ও মেজো ছেলে আবু সাঈদকে হাফেজিয়া মাদ্রাসায় হাফেজ বানানোর জন্য দিয়েছিলাম। উদ্দেশ্য ছিল আমি মারা গেলে আবু সাঈদ আমার জানাযা পড়াবে। কিন্তু ভাগ্য আমার আশা প্রত্যাশার সাথে বেঈমানী করলো। সব দোষ ভাগ্যের।
আটক ৩ জনের বিরুদ্ধে আবু সাঈদের পিতা হাসান আলী বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে কোতয়ালী থানায় শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ৩৫, তাং- ১৯/৫/১৫।
বুধবার দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ নাজমুল হোসেনের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুল মালেক অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে বিচারক আজ বৃহস্পতিবার রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করেছেন। এদিকে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাধারন সম্পাদক ও তদন্ত কমিটির প্রধান মোঃ জবেদ আলী তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন সামান্য ঘটনায় এই অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। চুরির ঘটনা সঠিক নয়। মাদ্রাসার মূহতামিম হাফেজ গোলাম মোস্তফার দায়িত্ব অবহেলা ও অপর শিক্ষক হাফেজ সাজ্জাদুর রহমান ঘটনাকে ধামাচাপা দিয়ে ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে গোলাম মোস্তফা ও সাজ্জাদুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাগ্রহনের আবেদন করা হয়।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য