Hospitalসাঘাটা, গাইবান্ধা সংবাদাতাঃ কিছুদিন আগেও প্রত্যন্ত পল্লী এলাকায় সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু হত আহরহ। মাঠপর্যায়ে অনুন্নত স্বাস্থ্যসেবা, সচেতনতার অভাব, অপুষ্টি, অপরিকল্পিত গর্ভধারন, প্রসবকালীন মান্ধাত্বা পদ্ধি প্রয়োগ সহ নানা কারণে মাতৃ মৃত্যুর হার ছিলো- বেশি। বর্তমানে এসবের অনেকটাই কাটিয়ে উঠে সরকারি-বেসরকারি ও এনজিও গুলোর এ বিষয়ে ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধিকরণ কার্যক্রম গ্রহনে মাতৃ মৃত্যুর হার একেবারে কমে এসেছে। স্বাস্থ্য সেবার নানা প্রযুক্তিগত সুবিধা ও সচেতনতার অবাধ কার্যক্রমের এমন সময়েও গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পল্লীতে থেমে নেই মাতৃমৃত্যুর ঘটনা।
প্রসবকালীন জটিলতায় বেশিরভাগ এসব মায়ের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে বলে জানা গেছে কয়েকটি ভুক্তভোগী পরিবার সুত্রে। সামান্ন লাভবান হওয়ার আশায় গ্রামাঞ্চলে কিছু স্বাস্থ্যকর্মির ভুল নির্দেশনার কারণে এসব ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলার গ্রাম কিংবা পাড়ায় পাড়ায় ১জন করে স্বাস্থ সেবিকা নিয়োগ করা হয়েছে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে। কোনো গ্রামে কত জন গর্ভবতি, কোনো সময়ে প্রসব হবে এমন সব হিসাব ছাড়াও তাদের নিয়মিত গর্ভকালীন প্রাথমিক চেক-আপেও নিয়োজিত থাকেন এই স্বাস্থ্য সেবিকারা। ব্র্যাকের নিয়োগকৃত এসব কর্মী না জেনেই প্রসব কালীন জটিলতা রয়েছে- এমন মায়েদের সঠিক পরামর্শ না দিয়ে বাড়িতে অযথাই প্রসবের চেষ্টা চালায় তারা। এতে চরম জটিলতায় মায়ের মৃত্যু ঘটছে। সামান্ন উপঢৌকন কিংবা বকসিস পাওয়ার আসায় এসব মায়েদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ আছে এসব সেচিকাদের বিরুদ্ধে। এরইমধ্যে ২২ এপ্রিল উপজেলার চন্দপাঠ গ্রামের আঃ বারির স্ত্রী শিরিনাকে (২৫) প্রসব কানোর চেষ্টা চালায় ব্র্যাক সেবিকা মনিফা। প্রসব বেদনার ১০ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও প্রসব না হওয়ায় উপায়ান্ত না পেয়ে ওই ব্র্যাক কর্মী জোর করে প্রসব পথ ব্লেড দিয়ে কর্তন করে। এরপর প্রসব হলেও তার রক্ত খরন বন্ধ হয়নি। ওই দিনই তার মৃত্যু ঘটে। একই ভাবে আরেকট ঘটনা ঘটে প্রসূতির মৃত্যু হয় উপজেলার ভাঙ্গামোর গ্রামে। পল্লীর লোকজন জানান, গরিব মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অনেক সময় সামান্য উপরি পাবার আশায় এসব স্বাস্থ্য সেবিকারা জেলার বিভিন্ন ক্লিনিকে গর্ভবতীদের কে নিয়ে গিয়ে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করান। এতে মাঝে মধ্যেই প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে কথা বলতে ব্র্যাক উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের সাথে কয়েক বার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য