Dhanপার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ ধানের চেয়ে পানির দাম বেশি পার্বতীপুরে। ভাল দাম পাওয়ার আসায় ধান আবাদ করে ধরা খেয়েছেন এ উপজেলার কৃষক। যদিও ধান আবাদ করা ছাড়া কৃষকের কোন উপায় ছিল না। সাধারন কৃষক উৎপাদন খরচটা কোন রকম উঠাতে পারলেও কোমর ভেঙ্গেছে বর্গা চাষীদের। এক কেজি ধানের উৎপাদন খরচ যেখানে ১৫টাকা সেখানে বিক্রি হচ্ছে ১৪টাকা কেজি হিসেবে। অথচ বাজারে পানির কেজি (৯৩৩ গ্রাম) বিক্রি হচ্ছে ২০টাকা হিসেবে।

পার্বতীপুর উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের কালিকাবাড়ী গ্রামের বর্গাচাষী জিকরুল হক জানান, তিনি ৩ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে ২৮ ধান চাষ করেছেন। ফলন হয়েছে বিঘায় ৪০ মন। মহাজনকে দিতে হবে তাকে ১০ মন। অবশিষ্ট ৩০মন ধানের বাজার মূল্য ১২হাজার টাকা। অথচ ১বিঘা জমি (৬০শতক) চাষ করতে খরচ হয়েছে হালচাষ ১২০০টাকা, আগাছা দমন ৬০০টাকা, কীটনাশক ৫০০টাকা, রাসায়নিক ও জৈবসার ৩৫০০টাকা, সেচ খরচ ২৫০০টাকা, কর্তন ও মাড়াই ৩৫০০টাকা, রোপন ১০০০টাকা, বীজ ক্রয় ও বীজতলা তৈরী ৫০০টাকা হিসেবে ১৩ হাজার ৩শ’ টাকা। ধান চাষ করে তার বিঘায় ১ হাজার ৩শ’ টাকা করে ক্ষতি হয়েছে। আর ৬ মাসের খাটুনি গেছে বেকার।
৩ নং রামপুর ইউনিয়নের ভোটগাছ গ্রামের কৃষক বাবলু জানান বলেন, তিনি ২ বিঘা জমিতে ধান লাগিয়েছেন তার উৎপাদন খরচ পড়েছে কেজিতে সাড়ে ১৪টাকা অথচ বাজারে ধান বিক্রি করেছেন সাড়ে ১৩টাকা হিসেবে। তিনি বলেন, ধানের চেয়ে বাজারে বোতল জাত খাবার পানির দাম অনেক বেশি।
এ ব্যাপারে পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু ফাত্তাহ মোঃ রওশন কবির বলেন, উপজেলায় ২৪ হাজার ৬শ’ ১০হেক্টর জমিতে ধান চাষ হয়েছে। ফলনও ভাল হয়েছে। কৃষকের উৎপাদন খরচ কেজিতে সর্বচ্চ ১৫টাকা পর্যন্ত পড়েছে। অথচ বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৪টাকা কেজি। ফসল কাটার শুরুতে ধানের দাম কম হওয়ায় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তবে সরকার ধান কিনতে শুরু করলে বাজার বৃদ্ধি পাবে। তবে সাধারন কৃষক কোন রকমে উৎপাদন খরচ তুলতে পারলেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বর্গা চাষীরা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য