হরিপুরে চরভিটা স্কুলের বেহাল দশাহরিপুর, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর উপজেলার বকুয়া ইউনিয়নে অবস্থিত চরভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির বেহাল দশা। ছাত্র-ছাত্রীর তুলনায় বিদ্যালয়টিতে রয়েছে শ্রেণি কক্ষ সংকট। ১৭৬জন ছাত্র-ছাত্রীর পাঠদানের জন্য নিজের অর্থায়নে তৈরি আধাপাঁকা টিনসেটের ছোট আয়তনের তিনটি শ্রেনী কক্ষ। তিনটি শ্রেণীকক্ষে রয়েছে মাত্র ১৩ সেট বসার বেঞ্চ। বেঞ্চ সেটের অভাবে মাটির উপর পাটের তৈরি চটে বসে কমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের চলছে পাঠদান।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এরফান আলী জানান, ২০০১ সালে চরভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি স্থাপিত হয়। বিদ্যালয়টি স্থাপিত হওয়ার পর থেকে ৪জন দক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকা দ্বারা ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান দেওয়া হয়। বিদ্যালয়টি স্থাপিত হওয়ার সময় নিজের অর্থায়নে বাঁশের বেড়া ও ঢেউটিন দিয়ে একটি অফিস কক্ষ ও ৩টি শ্রেণীকক্ষ তৈরি করা হয়। বাঁশের বেড়া ও টিন দিয়ে তৈরি শ্রেণীকক্ষে চলছিল পাঠদান। হঠ্যাৎ ২০১৪ সালে কালবৈশাখী ঝড়ে ল-ভ- হয়ে যায় বিদ্যালয়টি। অর্থের অভাবে শ্রেণীকক্ষ সংস্কার করতে বিলম্ব হওয়ার কারণে দীর্ঘ ছয় মাস ধরে খোলা আকাশের নিচে চলে পাঠদান। বিদ্যালয়ের দূর্দশার বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে জানানো হলে জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তর থেকে কর্মকর্তাগণ বিদ্যালয়টিতে পরিদর্শনে আসেন। কিন্তু আজৌবধি সরকারিভাবে শ্রেণীকক্ষ নির্মাণে কোনো উদ্যোগে নেওয়া হয়নি। অবশেষে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান ধরে রাখার জন্য ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকমহল নিজের অর্থায়নে তিনটি আধাপাঁকা টিনসেট শ্রেণীকক্ষ নির্মাণ করি। ছাত্র-ছাত্রীদের বসার জন্য একটি শ্রেণীকক্ষে মাত্র ১৩ সেট বেঞ্চ রয়েছে। অপর দুইটি শ্রেণীকক্ষে মাটির উপর পাটের তৈরি চটে বসে চলে ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান। ম্যানেজিং কমিটি ও শিক্ষকমহল পাঠদান কার্যক্রম ধরে রাখতে নিজের অর্থায়নে ২০১৪ সালের জুলাই মাস থেকে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য চালু করা হয় মিড-ডে-মিল। গত ৩০ এপ্রিল জেলা প্রশাসক মুখেশ চন্দ্র বিশ্বাস ঠাকুরগাঁও জেলার একমাত্র মিড-ডে-মিল চালুকৃত বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে এসে সরজমিনে দেখে যান বিদ্যালয়টির অবকাঠামো ও পাঠদানের বেহাল দশার চিত্র।
বিদ্যালয়টিতে শ্রেণীকক্ষ সংকট দূর করতে সরকারিভাবে নতুন ভবন তৈরি ও ছাত্র-ছাত্রীর তুলনায় পর্যাপ্ত পরিমাণ বেঞ্চ সেট সরকারিভাবে সরবরাহ করে কমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদানের সূব্যবস্থা করতে, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক এরফান আলী, অভিভাবমহল, বিদ্যালয়ের সকল ছাত্রছাত্রী ও এলাকাবাসী স্থানীয় প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য