05. NEPAL+QUAKEআন্তর্জাতিক ডেস্ক: চারিদিকে শুধু সারি সারি লাশ। যত সময় পাড় হচ্ছে লাশের সারি আরও দীর্ঘ হচ্ছে। গত শনিবার রিখটার স্কেলের ৭ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পটি কাঁপিয়ে দিয়েছে পুরো নেপালকে। রোববারও দ্বিতীয় দফায় আঘাত হেনেছিল ভূমিকম্প। তবে এর মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৭।  শনিবারের ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ইতোমধ্যেই তিনহাজার ৪০০ ছাড়িয়েছে । আহতের হয়েছে আরো প্রায় ৬ হাজার।।
এদিকে ভূমিকম্পে যাদের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে তারা রোববার খোলা আকাশে নিচে দ্বিতীয় রাত কাটিয়েছেন। এখনও পর্যাপ্ত ত্রাণ এসে না পৌছানোয় খাদ্য ও পানীয় সঙ্কটের আশঙ্কা করা হচ্ছে । হাসপাতালে স্থান সংকুলান না হওয়ায় হতাহতদের খোলা আকাশের নিচেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক দেশই নেপালে ত্রাণ পাঠাতে শুরু করেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ৭০ জনের একটি বিশেষ দল পাঠাচ্ছে। প্রাথমিক সহায়তা হিসেবে ১০ লাখ ডলার ছাড় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউএসএইড। প্রতিবেশী ভারত শনিবারই প্রথম দফায় ত্রাণ পাঠিয়েছিল। রোববার বেশ কিছু হেলিকপ্টার, চিকিৎসা সরঞ্জাম, ভ্রাম্যমাণ হাসপাতাল এবং ৪০টি শক্তিশালী উদ্ধারকর্মী দল ও ডগ স্কোয়াড পাঠিয়েছে। চীন ডগ স্কোয়াডসহ উদ্ধারকর্মীদের ৬২টি দল পাঠিয়েছে। পাকিস্তান চারটি এয়ারক্রাফট, ৩০টি হাসপাতাল শয্যা, সেনাবাহিনীর চিকিৎসক দল, খাবার, তাঁবু ও কম্বল পাঠাচ্ছে।
সেনাবাহিনীসহ স্বেচ্ছাসেবকরা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।  তবে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ায় উদ্ধার অভিযানে সময় লাগছে। রোববার দ্বিতীয় দফা ভূমিকম্পের কারণে বিকেলে পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা স্থগিত ছিল। পরিস্থিতির কারণে ১০ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে নেপাল সরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের সদস্য দিপক পান্ডে বলেন, ‘আমরা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি এবং পুরো দেশ থেকে উদ্ধারের আবেদন আসছে।’
যাদের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে অথবা যাদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রোববার খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন তারা। আবার অনেকে ভয়ে বাড়ি ফিরতে চাইছেন না। রাজধানী কাঠমান্ডুর প্যারেড গ্রাউন্ডে তাদের জন্য তাঁবু খাটানো হয়েছে। রাস্তায় নেমে আসতে হয়েছে দেশের প্রেসিডেন্টকেও। রোববার সারা রাত তাঁবুর মধ্যেই কাটিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রামবরণ যাদব। প্রেসিডেন্টের দেড়শো বছরের পুরোনো দফতর-আবাসন ‘শীতল নিবাস’-এ একাধিক জায়গায় ফাটল ধরেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রধানমন্ত্রী সুশীল কৈরালার বাসগৃহও।
শনিবার সকালে ৭ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্প হয় নেপালে। রাজধানী কাঠমান্ডু ও পোখারার মধ্যবর্তী লামজুং এলাকা ছিল এটির উৎপত্তিস্থল। গত ৮০ বছরের ইতিহাসে এটি ছিল নেপালের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয়। রোববার দুপুরে নতুন করে রিখটার স্কেলে ৬ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে দেশটিতে। ওই ভূমিকম্পের কেন্দ্র ছিল রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ৪০ কিলোমিটার পূর্বে।
সোমবার সকাল পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ২৮১ বলে জানিয়েছেন নেপালের সরকারি কর্মকর্তারা। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে এ সংখ্যা আরও তিন গুণ বাড়তে পারে । কারণ এখনও বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে রয়েছেন। খোঁজ নেই কয়েক হাজারের। শুধু কাঠমান্ডুতেই ১ হাজার ১শ ৫২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুশ-তিনশ থেকে শুরু করে হাজারের মতো বাসিন্দা রয়েছে এমন অনেকে গ্রাম পুরোটাই পাথরের নিচে চাপা পড়ে গেছে।
ওয়ার্ল্ড ভিশনের মুখপাত্র ম্যাট দারভাস বলেছেন, ‘অবস্থা এমন যে সেখানে কেবল হেলিকপ্টার যাওয়ার ব্যবস্থা আছে।’
এদিকে, এখন পর্যাপ্ত ত্রাণ সামগ্রী না আসায় ওষুধ, খাদ্য ও পানীয় সঙ্কটের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে খোলা আকাশের নিচে রাতযাপনকারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। বার্তা সংস্থা আল জাজিরার সংবাদদাতা কাঠমান্ডু থেকে জানান, অসংখ্য লোক খাদ্য ও পানীয় ছাড়া রাস্তায় রাত কাটিয়েছে। তাদেরকে এ অবস্থায় ফেলে রাখার জন্য সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
অপরদিকে কাঠমান্ডুর হাসপাতালগুলোতে উপচে পড় ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ত্রিভুবন ইউনিভার্সিটি টিচিং হাসপাতালের একটা অন্ধকার ঘরে স্তূপিকৃত লাশের সারি। ’ কাঠমান্ডুরই বির হাসপাতালে কাল সারা দিনে তিনশো থেকে সাড়ে তিনশো আহতকে আনা হয়েছিল। কিন্তু বেশির ভাগকেই বাঁচানো যায় নি বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবু রোগী আসার বিরাম নেই। কোনও কোনও হাসপাতালের পার্কিং লটেও বিছানা পেতে জরুরি বিভাগ খোলা হয়েছে। এত লোককে একসঙ্গে চিকিৎসা সেবা দিতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। এ ছাড়া হতাহতের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ওষুধ সঙ্কটও দেখা দিয়েছে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য