parbatipur (Dinajpur) Photo  -26-4-15পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের পার্বতীপুরে হবিবপুর চিড়াকুটা আদিবাসী পল্লীর সাঁওতালদের বাড়ী ঘরে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার তিন মাস পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে তদন্ত করা হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পক্ষে স্থানীয় সরকার (রংপুর বিভাগী) বিভাগের পরিচালক আব্দুল মজিদ আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) সরেজমিন চিড়াকুটা গ্রামে গিয়ে তদন্ত কাজ সম্পন্ন করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন- পার্বতীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহেনুল ইসলাম, পার্বতীপুর মডেল থানার তদন্ত (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক, মোস্তফাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন প্রমুখ।
সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত আদিবাসীদের বক্তব্য শুনে লিপিবদ্ধ করেন। এছাড়া সংশ্লিষ্ট মোস্তফাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন, আদিবাসীদের পক্ষে ইলিয়াছ টুডু, দিপালী টুডু, নীলিমা হেমরন, পুতুল মূর্মু ও সিলভানু হাসদার নিকট থেকে লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করেন। পার্বতীপুর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের হবিবপুর চিড়াকুটা সাঁওতাল পল্লীর মোসেফ টুডু, বার্নাবাস টুডু, হাবিল টুডু, যোশেফ টুডু সহ ২০/২৫টি সাঁওতাল পরিবারের সাথে প্রায় ২০ একর জমি নিয়ে পার্শ্ববর্তী অসুলকোট শালাইপুর গ্রামের জহুরুল ইসলাম গং দের দীর্ঘদিন থেকে বিরোধ চলে আসছিল।
উল্লেখ্য, গত ২৪ জানুয়ারী শনিবার সকালে দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের হাবিবপুর চিড়াকুঠা গ্রামে জমির মালিকানা নিয়ে জহুরুল হকের সাথে আদিবাসীদের সংঘর্ষ হয় এতে তীর বিদ্ধ হয়ে মারা যায় জহুরুল হকের ছেলে শাফিউল ইসলাম সোহাগ। পরে বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী আদিবাসী পল্লী চিড়াকুটা গ্রামে হামলা চালিয়ে ৬৮টি বাড়িতে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করে। পুড়িয়ে দেওয়া হয় ২০টির মত বাড়ী। হামলাকারীরা আদিবাসীদের দেড় শতাধিক গরুসহ সবকিছুই নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে উভয়পক্ষে দুটি মামলা হয়েছে। এদিকে আদিবাসীদের অধিকার অক্ষুন্ন রাখার বিষয়ে সাঁওতালদের পক্ষে ইলিয়াছ টুডু গত ২৫ জানুয়ারী জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে একটি অভিযোগ দাখিল করে। এর প্রেক্ষিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিষয়টি সরজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারকে নির্দেশ দেয়। রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের পক্ষে স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিচালক আব্দুল মজিদ আজ রোববার সরেজমিন তদন্ত করেন। ঘটনার পর থেকে সাঁওতালদের নিরাপত্তায় সেখানে অস্থায়ী ক্যাম্প করে ২০ সদস্যের পুলিশের একটি দল সার্বক্ষণিক মোতায়েন রাখা হয়েছে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য