04. nepalআন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপালে গত ৮০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা রোববার দুপুর পর্যন্ত খবর অনুযায়ী ১ হাজার ৮০০’র অধিক। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দেশটিতে জোরদার রয়েছে উদ্ধার তৎপরতা।
এদিকে কাঠমান্ডুতে এএফপি’র সংবাদদাতারা জানান, শনিবার রাতভর নেপালে ভূ-কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে ভোরের দিকে একটি শক্তিশালী ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। অনেক দেশ ও আন্তর্জাতিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান দুর্যোগ মোকাবেলায় নেপালকে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছে। ভূমিকম্পের ফলে এভারেস্ট পর্বতে তুষারের নিচে চাপা পড়ে ১৭ জন পর্বতারোহীর প্রণহানি ঘটেছে।
উদ্ধারকারীরা শনিবার রাতে বহু স্থানে খালি হাতে ধ্বংস্তুপ ও নুড়িপাথরের নিচে আটকা পড়া জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। সেনা কর্মকর্তা সন্তোষ নেপাল বলেন, তিনি ও তার সৈন্যরা কাঠমান্ডুতে বিধ্বস্ত হওয়া একটি তিন তলা ভবনে ঢোকার পথ তৈরি করবেন। কারণ প্রাচীন এই নগরীর সংকীর্ণ রাস্তা দিয়ে বুলডোজার চলাচল করতে পারছে না। তিনি বলেন, ভবনের ভিতরে লোকজন এখনও আটকা পড়ে রয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন।
এদিকে শনিবারের ভূমিকম্পে কেবল কাঠমান্ডুতেই ৭ শতাধিক লোক নিহত হয়েছে। কাঠমান্ডুর বিভিন্ন হাসপাতালে বহু লাশ রাখা হয়েছে। তা ছাড়া আহতদের চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ১ হাজার ৮০৫ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৪ হাজার ৭১৮ জন।
হিমালয় দুহিতা নেপালে শনিবার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে ওই ভূমিকম্পের তীব্রতা ছিল ৭ দশমিক ৯। আর নেপালে ৮০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্পের ঘটনা। এতে পুরো দেশটি ল-ভ- হয়ে গেছে। এই ভূমিকম্পে ভারত, চীনে এমনকি বাংলাদেশেও হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
সরকারি সূত্র বলছে, ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত বহু বাড়িঘরের নিচে অনেক মানুষ চাপা পড়েছে। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু এবং এর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত পোখারা নগরের মাঝামাঝি লামজুং ভয়াবহ এ ভূমিকম্পের উৎসস্থল বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস)। সংস্থাটির মতে, শনিবার দুপুরে নেপালে মোট ১৫ বার ভূ-কম্পন অনুভূত হয়।
মাউন্ট এভারেস্টে আটকা পড়াদের উদ্ধারে রোববার সেখানে বেস ক্যাম্পে হেলিকপ্টার অবতরণ শুরু হয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী মহেন্দ্র রিজাল বলেছেন, ‘আমরা ব্যাপক উদ্ধার অভিযান শুরু করেছি এবং পুনর্বাসন পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশ এখন সংকটে পড়েছে এবং আমাদের এখন ব্যাপক সহায়তা ও ত্রাণ প্রয়োজন।’ ভূমিকম্পে বহু বাড়িঘর বিধ্বস্ত হওয়ার কারণে অসংখ্য মানুষ শনিবার রাতে ঠান্ডা আবহাওয়া উপেক্ষা করে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটিয়েছেন।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য