Kanamachi1দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি ॥ দিনাজপুরে গ্রামীণ খেলাধুলা প্রায় হারিয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাওয়া এসব খেলাধুলা ধরে রাখার জন্য সরকারি অথবা বেসরকারি পর্যায়ে কোনো উদ্যোগই নেয়া হচ্ছে না।
জানা যায়, গ্রামাঞ্চলে এক সময় হা-ডু-ডু, কাবাডি, লাঠিখেলা, দাঁড়িয়াবান্ধা, দড়ি ঝাঁপ, গোল্লাছুট, কানামাছি ভোঁ ভোঁ, এক্কা-দোক্কা, ডাংগুটি, চোর-পুলিশ, বৌছি, হাঁড়িভাঙ্গা,কিত-কিত, গাদন, লুকোচুরি, মোরগ লড়াই, ষাঁঢ়ের লড়াইসহ প্রায় শতাধিক খেলাধুলার প্রচলন zebidblog_1182620887_2-01ছিল্ বর্তমানে এসব খেলার অধিকাংশই হারিয়ে গেছে। লাঠি ও হা-ডু-ডু যাও বা দু-একটি রয়েছে, সেগুলোও এখন এ অঞ্চল থেকে হারিয়ে যাবার পথে। খেলাগুলো এখন গ্রামাঞ্চলে নেই বললেই চলে। অথচ গ্রামবাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্য এই খেলাগুলোর সাথে জড়িয়ে রয়েছে আমাদের পূর্ব পুরুষের শেকড়।
imagesএসব এখন আর চোখেই পড়ে না। গ্রামবাংলার অনেক খেলাধুলার নাম এ প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা জানেই না। এসব খেলার স্থলে এখন cms.somewhereinblog.netদখল করে নিয়েছে ক্রিকেটসহ অন্যান্য খেলা। গ্রামাঞ্চল এবং শহরগুলোতে আগে জমজমাটভাবে হাডুডু খেলার আয়োজন করা হতো। বিশেষ করে হা-ডু-ডু ও লাঠিখেলার জন্য এক থেকে দেড় মাস আগে থেকেই বিভিন্ন হাটবাজারে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো হতো। খেলা দেখার জন্য দুর-দূরান্ত থেকে শত শত মানুষ ছুটে আসতো। এক জেলার খেলোয়াড় অর্থের বিনিময়ে অন্য জেলায় খেলতে যেতো। একজন ভালো হা-ডু-ডু খেলোয়াড়ের কদর ছিল সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে। লাঠিখেলা এবং হা-ডু-ডু’র মতো দাঁড়িয়াবান্ধা ও গোল্লাছুটখেলাও এখন বিস্মৃতি হয়ে গেছে।
2012-09-27-19-30-31-5064a957abef8-2গোটা দিনাজপুর জেলা ঘুরলেও এসব খেলা কোথাও চোখে পড়বে না। শহরের পাড়া-মহল্লার শিশুরা বাড়ির আঙ্গিনায় মার্বেল খেলা, লাটিম খেলা, কেরামবোর্ড খেলা, লুডু খেলা, লাটিম খেলা, কেরামবোর্ড খেলা, লুডু খেলা, এক্কা-দোক্কা খেলায় মাতিয়ে রাখতো সকলকে। মহল্লার ফাঁকা স্থানগুলোতে কানামাছি, এক্কা-দোক্কাসহ আরও বেশকিছু খেলা চোখে পড়ত। বর্তমানে শহরের Guli khalaপাড়া-মহল্লায় ফাঁক জায়গা পাওয়াই দুস্কর। সময় পাল্টে যাওয়ার সাথে সাথে পাল্টে গেছে পাড়া-মহল্লার পরিবেশও। সময়ে চাহিদা মিটাতে গিয়ে এসব খেলার স্থলে এখন এসেছে ভিডিও গেমসহ আধুনিক খেলাধুলা। যা ঘরে বসেই খেলা যায়। হারিয়ে যাওয়া এসব খেলা নিয়ে অনেক অভিভাবক এখনো তাদের সন্তানদের কাছে গল্প করে। বিভিন্ন পূজা-পার্বণ ও মেলায় জাঁকজমকভাবে মোগর অথবা ষাঁড়ের লড়াই অনুষ্ঠিত হতো। এ নিয়ে হাজার হাজার টাকা বাজিও ধরা হতো।
শাহাদৎ হোসেন শাহ্ জানান, এসব খেলার সাথে নাড়ির সম্পর্ক রয়েছে। এসব খেলাধুলা বাঙালি জাতির ঐতিহ্য। অথচ গ্রামীণ খেলাধুলা ধরে রাখার জন্য সরকারি অথবা বেসরকারি পর্যায়ে তেমন কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য