পাঠ্য তালিকায় গণিত সমাধান বাধ্যতামূলক করায় রংপুরের পূর্ব খটখটিয়া তালতলা উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সাজেদা পারভীনের শাস্তি দাবী করেছে অভিভাবক মহল। ওই ঘটনায় জেলা প্রশাসকসহ শিক্ষা অধিদপ্তরে অভিযোগ দিয়েছেন অভিভাবকরা। এছাড়া ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অভিযোগ ও পাঠ্য তালিকা সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাজেদা পারভীন। দীর্ঘ এই সময়কালে তিনি নিজের ইচ্ছামত পাঠদান এবং শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পথ রুদ্ধ করে রেখেছেন। দুর্বল ও নিজের মদদপুষ্ট ম্যানেজিং কমিটি গঠনের মাধ্যমে তার অবৈধ আয়ের পথকে সুগম করেছেন।

এতে করে শিক্ষার্থীরা দিন দিন পিছিয়ে পড়লেও তিনি তার সিদ্ধান্তে সবসময় অটল। নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য শিক্ষার্থীদের পাঠ্য বইয়ের বাইরে বিভিন্ন বই কিনতেও বাধ্য করেন। সরকার কর্তৃক বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক দেয়া হলেও তিনি তথাকথিত পাঠ্য তালিকা ছাত্রীদের হাতে দিয়ে তা বাধ্যতামূলক করেছেন। একাধিক বাংলা ব্যাকরণ ও ইংরেজি গ্র্যামার কেনার পাশাপাশি গণিত সমাধান কিনতে বলে নজির সৃষ্টি করেছেন তিনি। ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সকল পাঠ্য তালিকায় টাচ্ পাবলিকেশনের গণিত সমাধান ও অন্যান্য গাইড বই কেনার তাগিদ দেয়া হয়। নগরীর ফেরদৌস লাইব্রেরী থেকে কমিশন নিয়ে বইগুলো সেখান থেকেই নিতে বলেছেন তিনি।

বাধ্যতামূলক উল্লেখিত বইগুলো ওই লাইব্রেরী থেকেই নিতে হবে, নইলে পরিক্ষায় নম্বর কম দেয়ার কথাও তিনি ক্লাশে-ক্লাশে গিয়ে বলেন। এমন পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীরা তাদের অভিভাবকদের বিষয়টি জানালে চাপা ক্ষোভ দেখা দেয়। অভিভাবকরা গণিত সমাধানের বিষয়ে কথা বলতে গেলেও প্রধান শিক্ষিকা তাদেরকেও একই কথা বলেন। তাই অভিভাবক মহল নিজেদের স্বাক্ষর সংবলিত একটি অভিযোগপত্র রংপুর জেলা প্রশাসক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক উপ-পরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করেছেন। অভিযোগ পত্রে আরও বলা হয়, এতগুলো বই কিনতে না পেরে অনেক ছাত্রী বিদ্যালয় ছেড়ে চলে গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিভাবক মহলের মধ্যে হামিদুল ইসলাম ও দাতা সদস্য আঃ হাই বলেন, একজন শিক্ষিকা হয়েও তিনি কিভাবে গণিত সমাধান বাধ্যতামূলক কিনতে নির্দেশ দিয়েছেন তা বোধগম্য নয়। তারা পাল্টা প্রশ্ন করেন, তাহলে কি ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ছাত্রী পড়ানোর যোগ্যতা রাখেনা? নাকি শুধু কমিশনের লোভেই শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেন? আমরা প্রধান শিক্ষিকা সাজেদা পারভীনের এমন কর্মকান্ডের প্রতিবাদেই অভিযোগ দিয়েছি। আমরা কারও প্রতিপক্ষ বা ইন্ধনে কাজ করছি না। নিজেদের সন্তানের ভবিষ্যত চিন্তা করেই প্রতিবাদ করছি।

অভিভাবকদের মধ্যে মোস্তাফিজার রহমান, সাদেকুল ইসলাম, মোখলেছার, আলেফ উদ্দিন, বুলু মিয়া, বেলাল হোসেন, রাশেদা বেগম সহ অন্যরাও গণিত সমাধানের বিষয়ে প্রধান শিক্ষিকার কঠোর শাস্তি দাবী করেছেন।

উক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষিকা সাজেদা পারভীন বলেন, পাঠ্য তালিকায় একটু ভূল হয়েছে। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।    

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য