Photo Zakirসৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ ভাইজানের হাত থেকে সৈয়দপুরকে তথা সৈয়দপুরবাসীকে রক্ষা করুন। এই ভাইজান সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার একজন কর্মচারী হয়ে রেলওয়ের সকল ক্ষেত্রে তার আধিপত্য বিস্তার করেছে। এখন তিনি সৈয়দপুরের আওয়ামী রাজনৈকিত অঙ্গন দখলের পায়তারা করছেন। ইতোমধ্যে আওয়ামীলীগ সৈয়দপুর পৌর কমিটিসহ ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ এ একক আধিপত্য তথা নিজস্ব পকেট কমিটি গঠন করে ইচ্ছেমত পরিচালনা করছে। এখন হাত বাড়িয়েছে জেলা যুবলীগের দিকে। আর এ ক্ষেত্রে তরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করছে কুখ্যাত রাজাকার নঈম খানের ছেলে দিলনেওয়াজ খানকে। এই ছেলেকে দিয়েই ইতোপূর্বে ছাত্রলীগের সভাপতির পদকে কলংকিত করেছেন ভাইজান। সৈয়দপুর জেলা যুবলীগ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উপরোক্ত বক্তব্য রাখেন জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দ। সম্প্রতি কেন্দ্র ঘোষিত জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন ও তাদের সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সৈয়দপুর পৌর টাউন হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পেশ করেন জেলা যুবলীগের সভাপতি মহসিনুল হক মহসিন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সহ-সভাপতি মোঃ মহসিন আলী রুবেল, মোঃ আমিনুল হক, খলিলুর রহমান, ইলিয়াস হোসেন, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোঃ রাহাত সরকার প্রমুখ। সম্মেলনে জেলা যুবলীগ, পৌর যুবলীগ ও উপজেলা যুবলীগের প্রায় শতাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এসময় মহান স্বাধীনতা যুদ্ধকালে দিলনেওয়াজ খানের বাবা নঈম খানের ভুমিকা নিয়ে তৈরীকৃত প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
লিখিত বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর প্রদানকালে বক্তারা আরও বলেন, যার কোন একাডেমীক ও চারিত্রিক যোগ্যতা নেই তবুও তার মত একজন অযোগ্য যুবককে নিয়ে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত ও পারিবারিক হীন স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্যই একের পর এক ষড়যন্ত্র করে চলেছেন ভাইজান। সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাসহ রেলওয়ে বিভাগের সৈয়দপুুরস্থ রেলয়ের বাংলো, কোয়াটার, পতিত জমিসহ সর্বত্র বাণিজ্য করার পাশাপাশি এই দিলনেওয়াজকে দিয়ে শহরের ব্যবসায়ী মহলসহ সর্বস্তরের চাঁদাবাজী অব্যাহত রেখেছে। সেই কার্যক্রমকে আরও মজবুত করার লক্ষ্যেই সম্প্রতি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে ভূল তথ্য পরিবেশন করে ও মিথ্যে কথা বলে সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা যুগলীগের সক্রিয় ও বলিষ্ট নেতৃবৃন্দকে পাশ কাটিয়ে সকলের অগোচরে একটি অবৈধ পকেট আহবায়ক কমিটি গঠন করেছে। যে কমিটির আহবায়ক মোস্তাকুর রহমান বসুনিয়া ও যুগ্ম আহবায়ক দিলনেওয়াজ খান রাজাকার পরিবারের সদস্য। এই কমিটি সৈয়দপুরে বিভিন্ন অপপ্রচার করছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা কেন্দ্র থেকে এ বিষয়ে লিখিত বা মৌখিক কোন নির্দেশনা পাইনি। আমরা স্বাধীনতার পক্ষ্যের শক্তি ও পারিবারিকভাবে আওয়ামী রাজনীতির সাথে স¤পৃক্ত। আমাদের শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকাবস্থায় তাদের নেতৃত্ব মেনে নিবনা। তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে অসাংগঠনিকভাবে গঠিত এ কমিটি যদি অনুমোদন দেয়া হয়ে থাকে তাহলে প্রয়োজনে আমরা জেলা যুবলীগের প্রায় ৩ হাজার নেতাকর্মী সকলে একযোগে পদত্যাগ করবো এবং আজীবন আওয়ামী রাজনীতি বর্জন করবো। তবুও রাজাকারের নেতৃত্বে ভাইজান বা রাজাকারের ছেলে, জামাইয়ের অবৈধ কমিটি সৈয়দপুরের বুকে প্রতিষ্ঠিত হতে দিবনা।
এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সহ-সভাপতি মহসিন আলী রুবেল বলেন, অনেক দিন থেকেই সৈয়দপুরে ভাইজানের নাম শোনা যাচ্ছে। এই ভাইজান হচ্ছেন সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানার শ্রমিক নেতা মোকছেদুল মোমিন। তার পরিকল্পনাতেই ছাত্রলীগের কমিটিতে দিলনেওয়াজ স্থান পেয়েছিল। এখন তার সাথে যোগ দিয়েছে পৌর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান জাওয়াদুল হক সরকার এবং সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক। অবৈধ আহবায়ক কমিটিতে এই দুইজনের জামাতা ও ভাই স্থান পেয়েছে। আগামীতে আওয়ামীলীগের প্রধান কমিটিতেও রাজাকার সন্তানরা স্থান করে নিবে। তাই সৈয়দপুরের আওয়ামী রাজনীতি তথা সৈয়দপুরবাসীকে ভাইজানের কবল থেকে রক্ষা করতে সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের সৈয়দপুরবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন যুবলীগ নেতৃবৃন্দ।
ইতিপূর্বে একই দাবিতে জেলা যুবলীগ বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্দন, প্রতিবাদ সভা করেছে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য