আঁখিরা গণহত্যা দিবসফুলবাড়ী, (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: আজ ১৭ এপ্রিল শুক্রবার দিনাজপুরের ফুলবাড়ীর আঁখিরা গণহত্যা দিবস। ৪৪ বছর আগে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আজকের এই দিনে খানসেনাদের দোসর রাজাকার, আল-বদর ও আল-সামস বাহিনীর সহায়তায় হানাদার পাকিস্তানী খানসেনারা আখিরা নামক স্থানে অর্ধশত হিন্দু পরিবারের দেড়শতাধিক নারী-পুরুষ, যুবক-যুবতি, শিশু-কিশোর-কিশোরীকে মেশিনগানের ব্রাশফায়ারে নির্মমভাবে হত্যা করে। গণহত্যার ৪৪ বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত নির্মিত হয়নি গণহত্যা শিকার সেই আত্মহুতি দানকারি শহীদদের স্মরণে কোন স্মৃতি সৌধ। এ কারণে প্রতি বছর নিরবে দিবসটি আসে আর নিরবেই চলে যায়।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. লিয়াকত আলী বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানী খানসেনা ও তাদের এদেশিয় রাজাকার, আলবদর ও আলশামসদের হাত থেকে প্রাণে বাঁচতে মুক্তিকামী মানুষ বিভিন্ন সীমান্ত পথে দেশ ত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নিতে শুরু করে। এমনিভাবে আজকের এই দিনে ফুলবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের কুখ্যাত রাজাকার কেনান সরকার পার্শ্ববর্তী নবাবগঞ্জের আফতাবগঞ্জ, বিরামপুর, পার্বতীপুরের শেরপুর, ভবানীপুর, বদরগঞ্জ ও বদরগঞ্জের খোলাহাটিসহ বিভিন্ন এলাকার অর্ধশত হিন্দু পরিবারের দেড়শতাধিক নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর-কিশোরীকে নিরাপদে ভারতে পৌঁছে দেয়ার কথা বলে ফুলবাড়ীতে নিয়ে আসে। এরপর রাজাকার কেনান সরকার অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে ঐ পরিবারগুলোর সঙ্গে থাকা অর্থ সম্পদ ছিনিয়ে নিয়ে খানসেনাদের হাতে তুলে দেয়। পরে খানসেনারা আটক ঐ পরিবারগুলোর সবাইকে ঐদিন সকাল ১১টায় উপজেলার আলাদিপুর ইউনিয়নের বারাইহাট সংলগ্ন আঁখিরা পুকুর পাড়ে নিয়ে মেশিনগানের ব্রাশ ফায়ারে নির্মমভাবে হত্যাযজ্ঞ চালায়। তবে স্বাধীনতার পর এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা ঘাতক রাজাকার কেনান সরকারকে ধরে এনে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে প্রতিশোধ নেয়।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য