5বিরল প্রতিনিধিঃ জীবন যুদ্ধে এখনো হারেনি দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলার নেহাল গ্রামের আদিবাসী যুবক রমেশ ঋষি। পিতৃহীন এই যুবক টিউশনি করে নিজের সংসার চালায় ও নিজের লেখাপড়ার খরচ চালায়। তাকে সাহায্য করার মত কোন অবলম্বন নেই। সে অন্যের জমিতে শ্রমিকের কাজ করে এবং টিউশনি করে যা টাকা পায় তা দিয়ে সে দিনাজপুর সরকারি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স পাস করে এখন বি.সি.এস পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অর্থাভাবে সেই স্বপ্ন মাঝপথে থমকে যাবে কি? এই প্রশ্ন  রমেশসহ তার মা ও বোনদের।
2আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ সমাজের অবহেলিত-বঞ্চিত। অশিক্ষা, চরম দারিদ্রতা আর ক্ষুদা এদের নিত্যসঙ্গী। যেন জন্ম এদের আজন্ম পাপ। তারা শুধু ধিক্কার আর বঞ্চনা সইতে এধরা ধামে জন্মগ্রহণ করেছে। চিরবঞ্চিত রীতি-নীতি বদলাতে যুবক রমেশ ঋষি ভাগ্যের সাথে যুদ্ধ করে দিনাজপুর সরকারি কলেজ থেকে ইংরেজিতে অনার্স পাস করেছে। এবার বি.সি.এস পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত। অর্থনৈতিকভাবে বিদ্ধস্ত রমেশকে তার বোন প্রবী ঋষি মানসিকভাবে সাহায্য করে। কিন্তু ভাইয়ের লেখাপড়া নিয়ে শংকিত তার বোন প্রবী। রমেশ একজন প্রাইভেট টিউটর হিসাবে খুবই মেধাবী। তার নিকট ছাত্ররা লেখাপড়া শিখে কেউ ফেল করে না। একবছর পূর্বে রমেশের পিতা মহন্ত ঋষি মৃত্যুবরণ করে। তারপর থেকে সংসারে হাল ধরে রমেশ। তার মা সুকমনি তার ছেলের লেখাপড়া যেন বন্ধ না হয় তারজন্য সরকার ও দেশবাসীকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য আকুল আবেদন করেছেন।
রমেশ খুব ভাল ও মেধাবী ছেলে বলে এলাকাবাসী জানায়। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ যুদ্ধ করে এগিয়ে যাচ্ছে রমেশ। তার একটাই লক্ষ্য জীবনে বড় হতে হবে। সে কোনদিন প্রাইভেট পড়ার সুযোগ পায়নি। শহরের মেসে থেকে পড়ার মত তার অর্থনৈতিক ক্ষমতা ছিলনা। তাই সে প্রতিদিন সাইকেলে চড়ে ২০ কিলোমিটার পথপাড়ি দিয়ে দিনাজপুর সরকারি কলেজে যাতায়াত করে। রমেশের লেখাপড়া বন্ধ হলে তা হবে দুঃখজনক ঘটনা। তাই রমেশের লেখাপড়া অব্যাহত রাখতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন বিরল উপজেলার ধামইর  ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার শ্রী চিত্রমোহন রায়।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য