Suiciফুলবাড়ি, দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার পূর্ব রাজারামপুর (মাছুয়াপাড়া) গ্রাম থেকে গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে নববধূ মল্লিকা রানি (১৬) নামের এক নববধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে থানা পুলিশ।
নিহত মল্লিকা রানি উপজেলার পূর্ব রাজারামপুর (মাছুয়াপাড়া) গ্রামের সুধাংশু রায়ের স্ত্রী ও দিনাজপুর সদর উপজেলার দক্ষিণ কোতোয়ালি থানার দক্ষিণ নগর গ্রামের জগদীশ চন্দ্র রায়ের মেয়ে।
মল্লিকার অভিভাবকদের দাবি পরকীয়ার কারণে স্বামী সুধাংশু রায়ই মল্লিকাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে দিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর অপচেষ্টা করছে। তবে এলাকার এক দালাল থানা পুলিশের যোগসাজশে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্ত স্বামী সুধাংশুকেই বাদী সাজিয়ে মল্লিকার অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা নিয়েছে পুলিশ।
নিহত মল্লিকা রানি বড়বোন নবাবগঞ্জ উপজেলার মন্ডপপাড়া গ্রামের তাপস চন্দ্রের স্ত্রী পারুল রানি বলেন, গত তিন মাস আগে ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের কুয়ারপুর গ্রামের শ্রী কাঞ্জু রায়ের ছেলে সুধাংশু রায়ের সাথে তার ছোট বোন মল্লিকা রানি বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে সুধাংশু তার বোনকে নিয়ে মামার বাড়ি উপজেলার মাছুয়াপাড়ায় বসবাস করতো। অন্য এক মহিলার সাথে সুধাংশুর পরকীয়া থাকায় কারণে অকারণে তার বোনকে শাররীক নির্যাতন চালাতো। ঘটনার রাতেও তার বোনকে মারপিট করেছে সুধাংশু। সুধাংশুই তার বোনকে কোনো না কোনভাবে হত্যা করে লাশ ঝুঁলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করছে। বিষয়টি পুলিশকে বলার পরও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি সুধাংশুর বিরুদ্ধে। উপরোন্ত এলাকার মেহেদী নামের এক টাউট ব্যক্তি সুধাংশুর গরু-ছাগল বিক্রি করে সমস্ত টাকা হাতিয়ে নিয়ে সুধাংশুকে বাঁচাতে পুলিশের সাথে যোগসাজশ করে তাদেরকে বাদী না বানিয়ে অভিযুক্ত সুধাংশুকেই বাদী বানিয়ে থানায় জিডি দায়ের করা হয়েছে।
লাশ উদ্ধারকারি থানার এসআই মো. রফিক বলেন, লাশ যেভাবে ঝুঁলে ছিল তাতে করে কেউই সেখানে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারবে না। লাশের সুরতহাল দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে গৃহবধূটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ ঝুঁলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
থানার ওসি এবিএম রেজাউল ইসলাম বলেন, লাশের ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে আসলে হত্যা না আত্মহত্যা তা বোঝা যাবে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য