PHOTO-01গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার প্রানকেন্দ্রে অবস্থিত পুরাতন জেলখানার জায়গা গোপনে কতিপয় ব্যক্তিকে হস্তান্তরের প্রতিবাদে সোমবার দুপুরে গাইবান্ধায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচী পালিত হয়। মানববন্ধন কর্মসূচীতে জেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক,  সামাজিক, মানবাধিকার সাংস্কৃতিক কর্মী, আইনজীবী, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, গাইবান্ধা পৌরসভার মেয়র, প্যানেল মেয়র, কাউন্সিলরসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করে। পুরাতন জেলখানা সংলগ্ন ডিবি রোড ও ব্রীজরোডে এই মানববন্ধন কর্মসূচী চলাকালে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা পৌর মেয়র শামছুল আলম, নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আ’লীগ নেতা ফরহাদ আব্দুল্যা হারুন বাবলু, মুক্তিযোদ্ধা মাহামুদুল হক শাহজাদা, প্যানেল মেয়র জিএম চৌধুরী মিঠু, কাউন্সিলর আব্দুস সামাদ রোকন, আ’লীগ নেতা পিয়ারুল ইসলাম, সিপিবির মিহির ঘোষ, নাগরিক পরিষদ ও জাসদ নেতা অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, ওয়ার্কার্স পার্টির মমতাজুর রহমান বাবু, অ্যাডভোকেট সমীরণ কুমার, রেজাউন্নবী রাজু, মামুনুর রশিদ রুবেল, আব্দুল করিম, আব্দুল মান্নান, এনামুল হক টুকু, শ্রমিক নেতা জামিনুর রহমান, চঞ্চল সাহা, বজলুর রহমান, সাংবাদিক শামিম আল সাম্য, হেদায়েতুল ইসলাম বাবু, মিলন মিয়া প্রমুখ।
উলে¬খ্য, এর আগে গাইবান্ধা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব ফরহাদ আব্দুল¬াহ হারুন বাবলু ও নাগরিক পরিষদের আহবায়ক অ্যাড. সিরাজুল ইসলাম বাবুর পক্ষ থেকে গত বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। পরে তাদের নামে ‘পুরাতন জেলখানার জায়গা নিয়ে বাণিজ্যিকিকরণ বন্ধ করাসহ রাস্তা প্রশস্ত করণের দাবি’ সম্বলিত একটি লিফলেট গোটা জেলা শহরের সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে বিলি ও মাইকযোগে এ কর্মসূচী সম্পর্কে প্রচারণা চালানো হয়।
মানববন্ধন চলাকালে গাইবান্ধা পৌর মেয়র শামছুল আলম বলেন, পৌরসভার সাথে কোন প্রকার আলোচনা না করেই প্রশাসন ওই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তিনি উলে¬খ করেন, আইনানুযায়ি পৌর এলাকায় নির্মাণ কাজে পৌরসভার অনুমোদন নেয়া প্রয়োজন। যা এক্ষেত্রে পালিত হয়নি। তিনি বলেন, এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত গাইবান্ধাবাসী কখনও মেনে নেবে না।
সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মাহমুদুল হক শাহজাদা বলেন, লীজ প্রদানের মাধ্যমে মৌলবাদী চক্রকে সেখানে পূণর্বাসিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা চাই ওই স্থানটি দরিদ্র অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বরাদ্দ করা হোক।
অন্যান্য বক্তারা বলেন, ওই সম্পত্তি লীজ দেয়ার মাধ্যমে প্রশাসন জনস্বার্থ বিরোধী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ ওই জায়গাটি লীজ দেয়া হলে ভবিষ্যতে গাইবান্ধা শহরের উন্নয়ন ও রাস্তা প্রশস্ত করণ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হবে। বক্তারা অবিলম্বে প্রদত্ত লীজ বাতিল এবং নতুন করে আর কাউকে লীজ না দেয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান।
প্রসঙ্গত উলে¬খ্য যে, এই জায়গা বরাদ্দ দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসন কর্তৃক সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশরাফুল মমিন খানকে আহবায়ক ও এনডিসি নাজমুল হুদা এবং জেলা শহরের ব্যবসায়ি আব্দুল লতিফ হক্কানীকে সদস্য করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠণ করা হয়েছে।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য