Zakir Photo, 11.4সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধিঃ তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে সৈয়দপুরে কৃষক খেতমজুর বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ কৃষক খেতমজুর সমিতি নীলফামারী জেলা কমিটির উদ্যোগে শহরের শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কের শহীদ স্মৃতি অম্লান চত্বরে ওই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ভারতের এক ঘেঁয়েমি সিদ্ধান্তের কারণে এককালে প্রমত্তা তিস্তা নদী আজ মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। ভারত সরকার তাদের সীমান্তে তিস্তা নদীতে গজলডোবা বাঁধ নির্মাণ করে তিস্তা পানি এক তরফাভাবে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। ফলে তিস্তা আজ ধূ ধু বালুচরে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার তিস্তা নদীতে তিস্তা সেচ ব্যারেজ তৈরি করে তিস্তার পানি সেচ কাজে ব্যবহারের যে পরিকল্পনা নিয়েছিল, তা আজ ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিস্তা সেচ ব্যারেজ আজ এ অঞ্চলের মানুষের কোন কল্যাণেই আসছে না।
বক্তারা আরো বলেন, কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের কৃষকরা কৃষি কাজে ভূমিকা রাখতে পারছেন না। গোটা তিস্তায় পানির অভাবে ধূ ধু বালিচর আজ। এতে করে তিস্তাপাড়ের শত শত জেলে পরিবার বেকার হয়ে পড়েছে। এতোদিন তারা তিস্তা নদীতে মাছ ধরে জীবন নির্বাহ করতো। কিন্তু আজ তারা কর্মসংস্থানের অভাবে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিস্তা পানি প্রত্যাহারের মাধ্যমে ভারত সরকার বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলকে মরুভূমিতে পরিণত করেছে। অথচ ভারত সরকার বাংলাদেশের করিডোর ব্যবহারসহ নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে।
এ ছাড়াও সমাবেশে বক্তারা তিস্তাসহ সকল অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবি করেন। অন্যথায় দেশের কৃষক শ্রমিক, খেতমজুরসহ খেটে খাওয়া মানুষকে সঙ্গে নিয়ে তিস্তার পানির দাবি আদায়ে বৃহৎ আন্দোলনের হুমকি দেন। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অ্যাড. তুষার কান্তি রায়, কামরুন নাহার ইরা, জয়দেব কুমার প্রমুখ।
এর আগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। লাল পতাকা নিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ ওই বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক সমূহ প্রদক্ষিণ করে। (ছবি আছে)
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য