Hilsha fishরাণীশংকৈল, ঠাকুরগাও প্রতিনিধিঃ ঠাকুরগাওয়ের রাণীশংকৈল মাছের বাজারে লেগেছে বৈশাখের ছোঁয়া। নতুন বছরের বৈশাখ বাঙ্গালী জাতির দ্বারপ্রান্তে এসে গেছে। বাংলা বর্ষবরণে পান্তা-ইলিশ বাঙ্গালী সংস্কৃতির একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। পহেলা বৈশাখ উদযাপন রব রব সাজে মহা আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠে রাণীশংকৈলে প্রতিটি মানুষ। বাজারে ধান গমের দাম কমলেও বাড়ছে মাছ মাংসের দাম। লেগেছে ইলিশের বাজারে বৈশাখী আগুন। ১ কেজি ওজনের ইলিশ ১৬৫০-১৭০০ টাকায় বিক্রী হচ্ছে। প্রতি মন ধান ৫’শ ৬০ টাকায় বিক্রী করে বর্তমান বাজার মূল্য ৩৫০ টাকা দামে ২ কেজি গোসত কিনতে পারছেনা। অন্যদিকে ৬৫০-৭০০ টাকা দামে প্রতি মন গম বিক্রী করছে কৃষক। বর্ষবরণে ইলিশের চাহিদা থাকায় হুড় হুড় করে বাড়ছে ইলিশের দাম । ২ মন গম বিক্রী করে কিনতে হচ্ছে এক কেজি ইলিশ। কিনতে হচ্ছে ১০০ কেজি গমের দামে এক কেজি ইলিশ। ইলিশ কিনতে আসা কয়েক জন ক্রেতা জানায়, এই একটি সময় বাঙ্গালী জীবনে ইলিশ-পান্তা উৎসব বরণ করে থাকে। যদিও ইলিশ সারা বছর ধরে খেয়ে থাকি- তবুও পহেলা বৈশাখে খাওয়ার মজাটাই আলাদা।
আবাল বৃদ্ধ থেকে শুরু করে কোলের শিশুটিও বৈশাখে ইলিশের মজার আনন্দ উল্লাস হাত ছাড়া করতে রাজি না। পহেলা বৈশাখে পান্তা ভাতের সাথে ইলিশ ভাজার জুড়ি নেই।
শত কষ্টের মাঝে এই বৈশাখ উদযাপনের আনন্দ উল্লাসের ভাগিদার হতে হবে খেটে খাওয়া মানুষটিকেও। এমন প্রত্যাশার সুযোগ নিয়ে চড়া দাম হাতিয়ে নিচ্ছে ইলিশ বিক্রেতারা।
বছরের এই সময়ে ইলিশ কেনার প্রতিযোগিতা হয় বাঙ্গালি ঐতিহ্য বৈশাখ উদযাপনকে ঘিরে স্বপ্ন থাকলেও দাম বেশী থাকায় ইলিশ কিনতে না পারায় চোখে মুখে হতাশার ছাপ নিম্ন আয়ের মানুষের।
অন্যদিকে ক্রেতা চাইছেন বাজারের সেরা ইলিশটি কিনতে তাই আগে থেকেই বাজারে ঘুরছেন সৌখিন ক্রেতারা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ইলিশের দাম চারগুন বেড়েছে। অন্যদিকে মাছ ব্যবসায়ীরা জানায় পহেলা বৈশাখ উদযাপন্ উপলক্ষে বাজারে ইলিশের চাহিদা অনেক থাকায় দাম বেড়েই চলেছে। অনেকে আবার দাম বাড়ার শংকায় আগে থেকেই ইলিশ কিনে রেখেছে। বড় আকারের ইলিশ ১৬৫০-১৭০০ টাকা, ৫-৬’শ গ্রাম ওজনের ইলিশ ১৩’শ থেকে ১৪০০ টাকা দামে বিক্রী হচ্ছে। গমের দাম ৭০০-৭৫০ টাকা দামে বিক্রী হওয়ায় ১০০ কেজি গমের দামে মাঝারী ওজনের এক কেজি ওজনের ইলিশ কিনতে হচ্ছে।  অন্যদিকে ৫৬০ টাকা দামে এক মন ধান বিক্রী হওয়াই ৫০ কেজি ধান বিক্রী করে ২ কেজি গরুর গোস্ত কেনা সম্ভব হচ্ছে।
ঊাংলাদেশ ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন পরিষদের প্রেসিডেন্ট আবু বকর সিদ্দিকী মোবাইল ফোনে জানান, বছরে প্রায় ৪’শ টন ইলিশ উৎপাদন করা হয়। সারা বছরে ২০০০ টন ইলিশ বিক্রী করা হয় আর বাকি ২০০০ টন পহেলা বৈশাখে বিক্রী করা হয়।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য