07. Yemenআন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসলামী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, ইয়েমেনের চলৎ সংকট সমাধানের একমাত্র উপায় হল দেশটিতে সামরিক আগ্রাসন ও বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধ করা। গত মঙ্গলবার তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানকে দেওয়া এক সাক্ষাতে তিনি এই মন্তব্য করেছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, ইসলামি জাগরণের জোয়ার ও জাতিগুলোর মধ্যে ইসলামের প্রতি অশেষ আকর্ষণ দেখেই শত্রুরা সক্রিয় হয়ে উঠেছে, ফলে ইসলামের শত্রুরা এখন এই ইসলামি জাগরণের ওপর আঘাত হানছে এবং দুঃখজনক বাস্তবতা হল কোনো কোনো মুসলিম সরকার অন্য মুসলিম সরকার বিশ্বাসঘাতকতা করছে এবং তাদের অর্থ ও সাজ-সরঞ্জাম দিয়ে শত্রুদের সেবা করছে।
তিনি ইরাকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে দেশটির সরকারের প্রতি ইরানের সহায়তার কথা তুলে ধরে বলেছেন, ইরাকে ইরানের সামরিক উপস্থিতি নেই, তবে ইরানি ও ইরাকি জাতির বন্ধন অত্যন্ত গভীর এবং ঐতিহাসিক। তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান এই সাক্ষাতে মুসলিম বিশ্বের সমস্যাগুলো সমাধানের ক্ষেত্রে স্বনির্ভরতার ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, এ অঞ্চলে আমাদের অনেক সমস্যাই রয়েছে যেগুলো আমাদেরই সমাধান করা উচিত একতাবদ্ধ হয়ে এবং এইসব সমস্যা সমাধানে পাশ্চাত্যের সহায়তার জন্য অপেক্ষা করা উচিত নয়।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, ইসলামি ইরান ইয়েমেনসহ সব দেশেই বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধী এবং তেহরানের দৃষ্টিতে ইয়েমেনের জনগণের ওপর হামলা ও সেখানে বিদেশি হস্তক্ষেপ বন্ধ করাই হল মুসলিম এই দেশটির সংকট সমাধানের একমাত্র উপায়। ইয়েমেনিরাই তাদের দেশের ভাগ্য নির্ধারণ করবে বলে তিনি জোর দেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, মুসলিম দেশগুলোর অনৈক্য ও নানা বিভেদ দেখে আজ মার্কিন সরকার ও ইহুদিবাদীরা খুশি; আর এইসব সমস্যা সমাধানের উপায় হল মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার পদক্ষেপসহ বাস্তব ও গঠনমূলক নানা পদক্ষেপ নেয়া।
ইসলামী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হযরত আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী আরও বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান ঘটনা-প্রবাহে মার্কিন ও ইহুদিবাদী সরকার এখন সবচেয়ে বেশি খুশি এবং তারা ওয়াহাবি-তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএল-এর সন্ত্রাস বন্ধ করতে চায় না।   তিনি এই তাকফিরি গোষ্ঠীসহ অন্যান্য তাকফিরি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বর্বরতাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, এইসব গোষ্ঠীকে কারা অর্থ ও অন্যান্য সহায়তা দিচ্ছে?
তিনি তুরস্ক ও ইরানের অভিন্ন স্বার্থকে সামনে রেখে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারের  ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, ‘প্রতিটি মুসলিম দেশের শক্তি মুসলিম উম্মাহরই শক্তি; ইরানের নীতি হল এটা যে মুসলিম দেশগুলো পরস্পরকে শক্তিশালী করবে এবং একে-অপরকে দুর্বল করা থেকে বিরত থাকবে। আর ইরান ও তুরস্কের সম্পর্ক জোরদার করা হলে তা এই লক্ষ্য বাস্তবায়নেই সহায়তা করবে।’
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, পাশ্চাত্য ও মার্কিন সরকারকে বিশ্বাস করে এ অঞ্চলের দেশগুলোর কোনো লাভ হবে না; পাশ্চাত্য এ অঞ্চলে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে সেসবের ফল কী হয়েছে তা আজ সবাই স্পষ্টভাবে দেখতে পাচ্ছে, এইসব পদক্ষেপে ইসলাম ও এ অঞ্চলের ক্ষতি ছাড়া আর কিছুই হয়নি। তিনি আরও বলেন,  ‘সিরিয়া ও ইরাকে শত্রুর গোপন হাতগুলো যে দেখতে পাচ্ছে না বলে দাবি করছে সে আসলে নিজেকেই ধোঁকা দিচ্ছে। কারা আইএসআইএল-কে অর্থ ও অস্ত্র দিচ্ছে?’
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আইএসআইএল প্রসঙ্গে এই সাক্ষাতের সময় বলেছেন, ‘আমি আইএসআইএল-কে মুসলমান বলেই মনে করি না এবং এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছি।’ ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে এরদোগানের এই সাক্ষাতের সময় ইরানের প্রেসিডেন্ট ডক্টর হাসান রুহানি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডক্টর জাওয়াদ জারিফ এবং সফরকারী তুর্কি প্রতিনিধিদলও উপস্থিত ছিলেন।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য