HSTU-26-03-2015 Pix (2)হাবিপ্রবি দিনাজপুর প্রতিনিধিঃ যথাযোগ্য মর্যাদা ও দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মধ্যদিয়ে বৃহস্পতিবার হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০১৫ পালিত হয়েছে। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে একাডেমিক ভবনের সম্মুখে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্যদিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল ৮.১৫ টায় হাবিপ্রবি’র ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. রুহুল আমিন-এর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং ছাত্র-ছাত্রীেেদর নিয়ে এক স্বাধীনতা র‌্যালী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। সকাল সাড়ে ৮ টায় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. রুহুল আমিন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হাবিপ্রবি’র কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। ক্রমান্বয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন শিক্ষক সমিতি, প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম, সাদা দল, প্রগতিশীল কর্মকর্তা পরিষদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ, হলসমূহ, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (হাবিপ্রবি শাখা), হাবিপ্রবি হলসমূহের ছাত্রলীগ শাখা, সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট (হাবিপ্রবি শাখা), প্রগতিশীল কর্মচারী পরিষদ, হাবিপ্রবি স্কুলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ভাইস-চ্যান্সেলর মহোদয়ের ২৬ মার্চের বাণী পাঠ ও বিতরণ করা হয়।

এর পর দিবসের তাৎপর্যের উপর ভিত্তি করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রক্টর প্রফেসর ড. এ.টি.এম শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. রুহুল আমিন প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদান করেন।
উক্ত আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, কৃষি অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মো. আনিস খান, পোষ্ট গ্র্যাজুয়েট অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. বলরাম রায়, মেডিসিন সার্জারি অ্যান্ড অবস্টেটিক্স বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মো. ফজলুল হক, কৃষি বনায়ন ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আবু হানিফ, কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রভাষক তানজিনা সুলতানা, হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মাইনউদ্দিন আহমেদ, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. সাইফউদ্দিন, প্রগতিশীল কর্মকর্তা পরিষদের সভাপতি কৃষিবিদ মো. ফেরদৌস আলম, সাধারন সম্পাদক আ.ন.ম ইমতিয়াজ হোসেন, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ হাবিপ্রবি শাখার শেখ রাসেল হলের সভাপতি মো. রুহুল কুদ্দুস জোহা, শেখ রাসেল সম্প্রসারণ হলের সভাপতি পলাশ চন্দ্র রায়, কার্যকরী সদস্য মো. নাহিদ আহমেদ নয়ন, প্রগতিশীল কর্মচারী পরিষদের সাধারন সম্পাদক পারভেজ হোসেন প্রমূখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. সাদেকুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর মো. রুহুল আমিন বলেন, স্বাধীনতা অর্জনে ১৯৭১ সনের মার্চ এক মহাজাগরণের মাস। ২৫ মার্চ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ইতিহাসের বর্বরতম গণহত্যা শুরু করলে বঙ্গবন্ধু ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে প্রিয় বাংলাদেশকে স্বাধীন ঘোষণা করেন এবং দেশকে মুক্ত করতে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের আহ্বান জানান। ৩০ লক্ষ শহীদের রক্ত, ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম আর অগণিত মানুষের সীমাহীন দুঃখ কষ্টের বিনিময়ে আমরা পাই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, আমরা স্বাধীনতার ৪৪ বছর পেরিয়েছি এটা আমাদের পরম আনন্দের। এ সময়ে আমাদের অনেক অর্জন হয়েছে। আমাদের দারিদ্র পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে, উৎপাদনের ভিত্তি জোরালো হয়েছে, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এসেছে, মা ও শিশু মৃত্যুর হার কমেছে, স্বাস্থ্য সেবার বিস্তার ঘটেছে; সার্বিকভাবে শিক্ষার উন্নতি হয়েছে।
সর্বোপরি আমরা বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত আলোকিত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে আজ একতাবদ্ধ।
পরে শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এরপরই শিক্ষক বনাম শিক্ষক, কর্মকর্তা বনাম কর্মকর্তা, ছাত্র বনাম ছাত্র, কর্মচারী বনাম কর্মচারীদের মধ্যে প্রীতি ভলিবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষিকা বনাম শিক্ষিকা ও ছাত্রী বনাম ছাত্রীদের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় মিউজিক্যাল চেয়ার। খেলাধুলা শেষে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. রুহুল আমিন বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন। বাদ যোহর শহীদদের বিদেহী আতœার মাগফেরাত কমনা করে কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দিন ব্যাপী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
[ads1]
[ads2]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য