কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান লালমনিরহাট নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষসহ দুজন শিক্ষক নিয়োগে ২১লক্ষ টাকা ঘুষ বানিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার লালমনিরহাট সরকারি কলেজে আ.লীগের সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্যর উপস্থিতিতে গোপনে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে এ নিয়োগ বাণিজ্য করা হয়। এ নিয়োগ পরীক্ষা নিয়ে লালমনিরহাট নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার অভিভাবক সদস্য মো. রুবেল হোসেন গত ১৯ মার্চ লালমনিরহাট জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেন। মাদ্রাসায় অযোগ্য, নারী কেলেংকারী ও অর্থ আত্বসাৎকারী একজনকে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেয়ায় ওই মাদ্রাসার সাধারণ শিক্ষকদের মাঝে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ফলে লালমনিরহাটের ওই ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসাটিতে শিক্ষার গুনগতমান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগে জানাযায়, লালমনিরহাট শহরের ঐতিহ্যবাহী নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাহফুজুর রহমানের অবসর জনিত কারণে অধ্যক্ষ, আরবি শিক্ষা বিষয়ের প্রভাষক ও এবতেদায়ী জুনিয়র মৌলভী শিক্ষক নিয়োগকল্পে বিগত ২০১৪ সালের ২০ ডিসেম্বর দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে তা গোপন রাখা হয়। প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার সাতদরগাহ নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিনসহ তিনটি পদে একাধিক ড্যামি প্রার্থীর আবেদন গ্রহণ করে। ওই মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির রেজুলেশনের প্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাহফুজুর রহমান আবেদন গুলো নিয়োগ কমিটিতে যাছাই-বাছাই না করে কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যর কাছে অধ্যক্ষ ও প্রভাষকসহ দুটি পদে নিয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি পাওয়ার আবেদন করেন। গত ১৮মার্চ কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যর প্রতিনিধি হিসেবে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মো. আ.ন.ম রেজাউল করিম ও আল-কোরআন এ- ইসলামি স্টাডিস বিভাগের অধ্যাপক নাছির উদ্দিন মিজুকে নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যর লালমনিরহাট নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও প্রভাষক পদের নিয়োগ বোর্ডে নিয়োগ পাওয়া ওই দু প্রতিনিধি গত বৃহস্পতিবার লালমনিরহাটে এসে অবস্থান করে। ওই রাতেই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাহফুজুর রহমান ও মাদরাসা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ আ.লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী সদস্য মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে তাদের ম্যানেজ করে শুক্রবার লালমনিরহাট সরকারি কলেজে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন এবং নাম মাত্র লোক দেখানো পরীক্ষা নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় এ গোপন শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে এমন সংবাদ জানতে পেরে সরকার সমর্থিত কতিপয় প্রিন্ট ও  ইলেট্রোনিক মিডিয়ার সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত হলে শিক্ষক নিয়োগ বোর্ডের অন্যতম সদস্য লালমনিরহাট সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আঞ্জুমান্দ বেগম ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আসা প্রতিনিধিগন এই নিয়োগে স্বাক্ষর করতে বিব্রত বোধ করেন। একপর্যায়ে ওই মাদ্রাসার সভাপতি ও মহিলা সংরক্ষিত আসনের এমপি ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নিয়োগ বোর্ডে আসা প্রতিনিধিদের চাপ প্রয়োগ করে তার নির্বাচিত প্রার্থীর নিয়োগ পরীক্ষার রেজাল্ট সীটে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। এ সময় তারা এ অবৈধ গোপন শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ঝুটঝামেলা এড়াতে সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন। এদিকে লালমনিরহাট নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার অভিভাবক সদস্য রুবেল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ইতোমধ্যে মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ প্রার্থীর নিকট থেকে ১২লাখ, প্রভাষক পদের প্রার্থীর নিকট ১০লাখ এবং এবতেদায়ী মৌলভী শিক্ষকের নিকট থেকে ৫লাখ টাকা অনুদান গ্রহণ করেন। শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের পরিপত্রর তোয়াক্কা করে সেখানে ৪০ভাগ মহিলা কোটা অনুসরনও করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমনকি বিধি বহির্ভুতভাবে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পাওয়া মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে নারী কেলে্কংারী ও অর্থ আত্বসাতের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়। সদ্য নিয়োগ পাওয়া অধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিন কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার সাতদরগাহ নেছারিয়া কামিল মাদ্রসার উপাধ্যক্ষ থাকাকালীন বিগত ২০১২ সালে দৈনিক মানব জমিন, দৈনিক যুগের আলোসহ একাধিক জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় তার বিরুদ্ধে গৃহবধূর শ্লীলহানী এবং অর্থ আত্বসাতের অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার চন্দন কুমার দাস ও ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে আল-হাদিস এ- ইসলামি স্টাডিস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ মকসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত বিগত ১২ সালের ৪মার্চ তদন্ত রিপোর্টে অভিযোগের প্রমাণ রয়েছে বলে তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে। লালমনিরহাট নেছারিয়া কামিল মাদ্রাসার (আগামী ৩০ মার্চ) অবসর নিতে যাওয়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাহফুজুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি মোতাবেক অধ্যক্ষ, প্রভাষকসহ তিনজন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২১ লক্ষ টাকা অনুদানের অভিযোগের প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিসহ অন্যান্য সদস্যগণ বিষয়টি বলতে পারবেন তিনি জানান। এ ব্যাপারে ওই মাদ্রাসার সভাপতি ও মহিলা সংরক্ষিত আসনের এমপি সফুরা বেগম রুমীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
[ads2]
[ads1]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য