Belalবেলাল উদ্দিন, দিনাজপুরঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ী পৌরসভার বেহাল অবস্থা, উন্নয়ন কাজ ব্যহত। পৌরসভা এলাকার পার্বতীপুর রোডে পৌরসভার কসাই খানার জায়গা দখল করে গড়ে উঠছে অবৈধ দোকানপাট। পৌর কর্তৃপক্ষ কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না। ফলে পৌর শহরের মূল বাজারের দোকানপাটগুলি অবৈধভাবে গড়ে উঠছে। কতিপয় দোকান মালিকেরা ইচ্ছা মত বাজারের জায়গা দখল করে দিনের পর দিন দোকান গড়ে তুলে ব্যবসা বাণিজ্য করছে। যেমন চাউলপট্টি এলাকায় বিশাল জায়গা দখল করে অনেকে নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি মনে করে ব্যবসা করছে। এদিকে মাছহাটি, খাসির মাংস হাটির ঐ একই অবস্থা বিরাজ করছে। পৌর শহরের বিভিন্ন অলি গলির রাস্তা গুলির ফুটপাত দখল হয়ে যাচ্ছে। যেমন  পৌর ভূমি অফিসের সামনের রাস্তাটি ক্রমে ক্রমে দখল হয়ে যাচ্ছে। অপর দিকে পৌরসভার এলাকার রাস্তাঘাট গুলির বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। ঐ রাস্তা গুলি সংস্কার করার কোন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে না পৌরকৃর্ত পক্ষ। বারকোনার প্রধান রাস্তা থেকে বাংলা স্কুল পর্যন্ত নির্মান কৃত রাস্তাটি সঠিক ভাবে কাজ না করে নিম্ন মানের কাজ করা হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানান। কাঁটাবাড়ির জিতেনের বাড়ি থেকে প্রেম চাঁদ এর বাড়ী পর্যন্ত রাস্তাটির কাজ শুরু  করা হলেও পূর্বের রাস্তায় বিছানো ইট তুলে সেই ইট ভেঙ্গে রাস্তায় দেওয়া হচ্ছে। সে খানে পৌরসভার দায়িত্ব প্রাপ্ত লোক জন না থাকার কারনে ঠিকাদার তার ইচ্ছা মতো কাজ করছেন। যে সব এলাকায় কাজ করারর প্রয়োজন সেই সব এলাকায় কাজ করা হচ্ছে না। পৌরসভার ড্রেনগুলিতে ময়লা আর্বজনা পড়ে ভর্তি হয়ে গেছে। পরিস্কার করার কোন প্রয়োজন মনে করছে না। অনেক এলাকায় করা ড্রেনগুলি ভেঙ্গে পড়ে গেছে সে গুলি সংস্কার করার কোন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এভাবে পৌরসভার উন্নয়নে সিংহভাগ টাকা ব্যয় হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানির তীব্র সংকট থাকলেও মাটির নিচে পড়ে থাকা  কোটি টাকার পাইপ লাইন এখন অকেজো। পানি সরবরাহের কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি।ফলে দুটি পানির পাম্প পড়ে আছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের ল্যাম্পপোষ্টগুলি অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। সেগুলি সংস্কার করে বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। ১৯৮৩ সালে ফুলবাড়ী পৌরসভা স্থাপিত হলেও পৌর শহরের  মানুষগুলো কোন সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে না। বরং তাদের উপর করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। চলতি বছর  কয়েকটি কাজের টেন্ডার হলেও ঐসব টেন্ডারের কাজকর্ম গুলি সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করা হবে তার কোন নিশ্চয়তা নাই। কারণ ছোট ছোট কাজের টাকার পরিমাণ কম থাকায় ঠিকাদারেরা কাজগুলি করতে গিয়ে হিমশিম খাবে। বর্তমান ফুলবাড়ী পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। ফুলবাড়ী পৌরসভার মেয়র মর্তুজা সরকার মানিক পৌরসভার দায়িত্বভার পাওয়ার পর ৪ বছর অতিবাহিত হলেও পৌরসভার তেমন কোন উন্নয়ন হয় নি। ফলে পৌরসভার বর্তমান অবস্থা পূর্বের চেয়ে আরও খারাপের পথে। এদিকে জাইকা প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ কবে পৌর কর্তৃপক্ষ পাবে সেই অপেক্ষায় পৌর কর্তৃপক্ষ প্রহর গুণছে। অনেকে মনে করছে জাইকা প্রকল্পের বরাদ্দ পাইলে ফুলবাড়ী পৌরসভার উন্নয়ন চিত্র বদলে যাবে কিন্তু পৌরবাসীর প্রশ্ন আদৌ কি জাইকা প্রকল্পের কাজ শুরু হবে? পৌরসভার নিয়োগকৃত বিভিন্ন পদে জনবল থাকলেও তাদের কোন কাজকর্ম দেখা যাচ্ছে না। বসে থেকে তাদেরকে বেতন দিতে হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে পৌরসভায় এত জনবল নিয়োগ করা হলেও তারা কোন কাজের কি দায়িত্ব পালন করছে তা দেখা যাচ্ছে না। পৌরসভার উন্নয়ন কাজ সঠিকভাবে করা না হলে আগামীতে পৌরসভার কাজ মুখ থুবড়ে পড়বে।
[ads1]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য