8-hanging-stopআন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফাঁসির সাদা পোশাক পরানো হয়ে গেছে, প্রস্তুত ছিল ফাঁসির মঞ্চ। আসামিকে বলা হলো তার শেষ ইচ্ছে লিখতে। তিনি লিখলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে তার ফাঁসি কার্যকর স্থগিত হয়ে গেল। নাটকীয়ভাবে এভাবেই বৃহস্পতিবার মৃত্যুদন্ড স্থগিত হয়েছে পাকিস্তানে শাফকাত হুসাইন নামে এক তরুণের। শাফকাতের পরিবার বুধবার পাকিস্তানের ত্রুটিপূর্ণ বিচার ব্যবস্থা এবং স্বীকারোক্তির জন্য নির্যাতনের সমালোচনা করে সরকারের কাছে মর্মস্পর্শী একটি চিঠি লেখে। শাফকাতের আইনজীবী জানান, ২০০৪ সালে যখন হত্যা মামলা দায়ের করা হয়ে তখন শাফকাতের বয়স ছিল ১৪ বছর।

পাকিস্তানের আইনে ১৮ বছরের কম বয়সী কারো মৃত্যুদন্ড হয় না এবং নির্যাতনের মাধ্যমে স্বীকারোক্তি আদায়ও গ্রহণযোগ্য নয়। পরিবারের অভিযোগ, হত্যার কথা স্বীকার না করায় শাফকাতের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। তাকে সিগারেটের ছ্যাঁকা দেওয়া হয়। তার নখ উপড়ে ফেলা হয়। শাফকাতের ভাই গুল জামান বলেন, শাফকাতকে যখন ফাঁসির জন্য প্রস্তুত করা হয় তখন তিনি তার পাশেই ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘ফাঁসির জন্য তাকে সাদা ইউনিফরম পরানো হয়। তখন তাকে তার শেষ ইচ্ছে লিখতে বলা হয়। সে লিখেছে, আমি নির্দোষ। তারা যে কারণে আমাকে ফাঁসি দিতে চায় আমি সেই অপরাধ করিনি। তারা অপরাধীদের বাঁচাতে চায় এবং ইতোমধ্যেই তাদের খালাস দেওয়া হয়েছে।’

গুল জামান জানান, তার ভাইয়ের ফাঁসি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। মা মাখনি বেগম বলেন, ‘আমরা সারারাত জেগে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেছি। তাকে যে আবার জীবিত দেখতে পাব সেই আশা ছেড়েই দিয়েছিলাম। কিন্তু আল্লাহর শোকরিয়া যে তিনি এই নির্মম শাস্তি থেকে আমার ছোট ছেলেকে রক্ষা করেছেন।’ রেপরাইভ নামে একটি মানবাধিকার সংগঠন দাবি করছে, হত্যাকান্ডের সময় শাফকাতের বয়স আসলে কত ছিল এবং স্বীকারোক্তির জন্য তার ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছিল তার তদন্ত করতে হবে।
[ads1]

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য