Durnityদেলোয়ার হোসেন বাদশা, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে শিক্ষার্থীদের মাঝে উপবৃত্তির টাকা বিতরন না করে পুরোটাকাই আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে খেড়কাটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালায়ের প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা বেগমের বিরুদ্ধে।  উপবৃত্তির টাকা হতে বঞ্চিত শিক্ষার্থী অভিভাবকগন ও এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, গত ২৩ ফেব্র“য়ারী উপজেলার খেড়কাটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উপবৃত্তির টাকা বিতরনের ধার্য্য দিনে বিতরনকারী চিরিরবন্দর জনতা ব্যাংক কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের নিকট সরাসরি টাকা বিতরন না করে প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা বেগমের হাতে দিয়ে আসেন। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষিকা প্রথম শ্রেণি হতে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী অভিভাবকের নিকট টাকা বিতরন করেন। কিন্তু পঞ্চম শ্রেণির ২৫ শিক্ষার্থীকে অভিভাবককে কোন টাকা না দিয়ে খালি হাতে ফেরত দেয়। অভিভাবকগন কারণ হিসেবে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষিকা বলেন, পঞ্চম শ্রেনি সমাপনী পরীক্ষা পাশের প্রশংসাপত্রের জন্য টাকা লাগবে তাই উপবৃত্তি প্রাপ্ত কোন শিক্ষার্থীকে টাকা প্রদান করা যাবেনা। শিক্ষার্থী নুপুর রায়ের মা লিপি রায়, সায়মন আলীর মা রাজিয়া সুলতানা, মেহেরাজ আলীর মা মিনারা খাতুন,আরিফুর রহমানের মা দেলোয়ারা খাতুনসহ বেশ কয়েকজন অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা বেগম টাকা বিতরন রেজিষ্টারে স্বাক্ষর নিয়ে কোন টাকা না দিয়ে ফেরত দিয়েছে। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সুভাস চন্দ্র রায়, সদস্য তৈয়ব আলী ও আব্দুল লতিফ জানান, তারা প্রধান শিক্ষিকার টাকা আদায়ের ব্যাপারে কিছুই জানেননা। টাকা বিতরনকারী চিরিরবন্দর জনতা ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক আতাবুল হোসেন জানান, বিতরন বিধি অনুযায়ী শিক্ষার্থী অভিভাবকের হাতেই টাকা প্রদান করা হয়েছে। তবে বিতরনকালীন যদি কোন শিক্ষার্থী অভিভাবক অনুপস্থিত থাকে তাহলে মানবিক কারনেই প্রধান শিক্ষকের হাতে টাকা বিতরনের জন্য দেয়া হয়। প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা বেগমের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, জোরপূর্বক কারো কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়নি। সারা বছরের বিভিন্ন অকেশনে গরীব শিক্ষার্থীরা কোন টাকা দিতে পারেনা তাই তাদের কাছ থেকে উপবৃত্তির টাকা হতে ২০০ টাকা করে আদায় করা হয়েছে।   এ ব্যাপারে চিরিরবন্দর উপজেলা শিক্ষা অফিসার জাকিরুল হাসান ও ওই স্কুল ক্লাষ্টার সহকারী শিক্ষা অফিসার আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, যদি প্রধান শিক্ষিকা প্রশংসাপত্র বাবদ উপবৃত্তির টাকা হতে কোন টাকা আদায় করে থাকে তাহলে তদন্ত সাপেক্ষে অভিযোগ প্রমানিত হলে ওই শিক্ষিকার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।


 
 

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য