lichuদিনাজপুর জেলার কাহারোল উপজেলায় এবার লিচু গাছে মুকুলের সমারোহ ঘটেছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে আশার্তীত ফলন হওয়ার সম্ভাবনা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। অপর দিকে এই অঞ্চলে লিচু চাষাবাদ বাণিজ্যি ভাবে হতে থাকায় শতশত লোকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি ও হয়েছে। সব মিলে এখন লিচুর বাম্পার ফলনের আশায় চলছে নিবীর পরিচর্জা।
জানা গেছে, জেলার ১৩ টি উপজেলার মধ্যে কাহারোল উপজেলা লিচু দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিচিত। এই উপজেলার লিচুর সুনাম রয়েছে। অন্য সকল উপজেলার উৎপাদিত লিচুর চেয়ে এখানকার উৎপাদিত লিচু স্বাদে ও গুনগত মানে অনন্য। তাই রাজধানীর ঢাকাসহ সারাদেশে নিজ গুনে ও মানে কাহারোলের লিচুর রয়েছে ব্যাপক পরিচিতি। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের মাটি এবং জলবায়ু লিচু উৎপাদনে উপযোগী হওয়ায় লিচু চাষে রিতী মতো বিল্পব ঘটিয়েছে এই অঞ্চলের চাষীরা। লিচু উৎপাদনের মাধ্যমে একদিকে তারা পতিত জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করেছে, অন্যদিকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বি হয়েছে। কাহারোল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছেন ইনচার্জ উপজেলায় প্রায় ছোট বড় ৫০টির বেশি লিচুর বাগান গড়ে উঠেছে। উপজেলার মাটি ও জলবায়ু লিচু চাষের উপযোগী হওয়ায়, লিচু চাষের উপযোগী হওয়ায় লিচু উৎপাদনে কাহারোলে বাগান মালিকদের ভাগ্যের পরিবর্তন এনেছে। এখানে উৎপাদিত লিচুর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য জাত হলো মাদ্রাজি, বোম্বে, বেদেনা, চায়না-৩, এবং কাঠালি। ফালগুন মাসে লিচুবাগানে ফুল আসতে শুরু করে। ফুল আসার ১৫ দিন আগে এবং ফুল আসার ১৫ দিন পরে সেচ দিতে হয়। এভাবে প্রয়োজন মতো সেচ আর পর্যাপ্ত পরিচর্যা করতে হয় লিচু বাগানে। এরপর ফুলে পর্যাপ্ত ভিটামিন ও বালাই নাশক নিয়মিত ¯েপ্র করতে হয়। ফল আসার পর পরিচর্যার পাশাপাশি বাদুড়, নানা রকমের পাখি পোকামাকোড় থেকে রক্ষা পেতে নিবিড় ভাবে পরিচর্যা করতে হয়। এর পাশাপাশি বাগানে সার্বক্ষণিক পাহাড়াদার রাখতে হয়। রাতের বেলায় বাগানগুলোতে প্রয়োজনীয় আলো সরবরাহ আর বাদুড় তাড়াতে নানা রকমের শব্দ যন্ত্র ব্যবহার করতে হয়। এরপর কাঙ্খিত ফল বাজারে তোলা সম্ভব হয়। এই সকল কাজ করতে শত শত শ্রমিকের প্রয়োজন হওয়ায় অনেকের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য