Dinajpur - 03-03-2015-দিনাজপুর প্রতিনধি ॥ দিনাজপুর শহরের পাহাড়পুর এলাকার নাজমুন নাহার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বলেছেন, তার স্বামী সৈদয় আতিকুর রহমান লাবু পিএসসি এসএসসিসহ অনেক পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাস, ব্ল্যাকমেইল সহ বিভিন্ন অনৈতিক কাজে বাধা দেওয়ায় নাজমুন নাহার ও তার সন্তানকে স্লো পয়জনিং করে খাদ্য বিষক্রিয়ার হত্যার চেষ্টা ও প্রতিনিয়ত নির্যাতন চালিয়ে আসছে সৈয়দ আতিকুর রহমান লাবু।
৩ মার্চ মঙ্গলবার দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন পাহাড়পুর নিবাসী নাজমুন নাহার লিখিত বক্তব্যে বলেন, আমার স্বামী সৈয়দ আতিকুর রহমান লাবু। আমাদের বিয়ে হয় ১৯৯৪ সালে। আর ১০ জন নারীর মতই আমিও স্বামী-সন্তান নিয়ে সুখে ঘর বাঁধার স্বপ্ন দেখেছিলাম। সে স্বপ্নে সওয়ার হয়ে বেশী দিন থাকতে পারিনি। আমার স্বামীর লোলুপ দৃষ্টির কাছে হার মানে স্ত্রীর স্বপ্ন, বাসা বাঁধে দুঃস্বপ্ন। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই আমি লক্ষ্য করি আমার স্বামী আমার প্রতি উদাসীন। চোখে পড়ে তার পরনারীর প্রীতি। লোকলজ্জা আর সম্মানের কথা বিবেচনা করে নীরবে নিপীড়ন সহ্য করে আশায় বুক বেঁধে ছিলাম আল্লাহ নিশ্চয়ই একদিন মুখ তুলে চাইবেন। কিন্তু সুখের স্বপ্ন ক্রমশই দূরে যেতে লাগলো। ধীরে ধীরে সংসারে ফাটল ধরল।
২০০৬ সাল। জানতে পারলাম তার একাধিক সর্ম্পক আছে। বুঝতে পারলাম তার রাত বিরেতে বাড়ীর বাহিরে অবস্থানের কারণ। দিনাজপুর সদর উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের দুই বনের সাথে তার অনৈতিক সর্ম্পক। ইসলাম ধর্ম মতে একাধিক বিয়ে যায়েজ। তাই স্বামীর সুখের কথা বিবেচনা করে আমি ওই দুই বোনের একজনের সাথে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে যাই। কিন্তু তৎকালিন ইউপি চেয়ারম্যান সোলাইমান সাহেব বলেন, এ বিয়ে সম্ভব নয়। এমন আসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ায় সে বাড়িতে সময় দেয় না। বাসায় আসলেই সে সবার সাথে দুর্ব্যবহার করে।
অবস্থা বেগতিক দেখে স্বামী ও সংসারের মান রক্ষার জন্য আমি তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম, ফলাফল হলো হিতে বিপরীত। আমার স্বামী গায়ে হাত তুললেন। পাশাপাশি আরও নানান মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করলেন। মানুষ মানুষকে এভাবে নির্যাতন করতে পারে ভুক্তভুগী না হলে বোধহয় কোনদিন বিশ্বাস করতে পারতাম না।
অবৈধ সর্ম্পক গড়তে গিয়ে সে সংসারের লাখ লাখ টাকা নষ্ট করেছে। সেই সাথে পৌত্রিক সূত্রে পাওয়া ২৫ বিঘা সম্পত্তি লোন না শোধের দায়ে নিলামে চলে গিয়েছে, যার প্রমাণাদী আমার কাছে আছে। স্ত্রী হিসেবে আমি জানি পি.এস.সি; এস.এস.সি সহ অনেক পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, নিয়োগ জালিয়াতি, ফোনালাপ গোপনে রেকর্ড করে ব্ল্যাকমেইল সহ আমার স্বামী সমাজের বিভিন্ন অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত, যার স্বাক্ষী আমার ছেলেও। তার এ সমস্ত অপকর্মের কথা জানতে পেরে আমি ও আমার ছেলে সেগুলোকে বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা করি। এর ফলে আমরা তার শত্র“তে পরিণত হই। আমার একটি মাত্র সন্তান। তার সাথেও সে অমানবিক আচরণ শুরু করে। আগে নির্যাতন হতে হতো কোন বিশেষ কারণে, কিন্তু প্রতিবাদ করার পর শুরু হলো কারণে অকারণে নির্যাতন। তার অনৈতিক কাজে বাঁধা দেওয়ার ফলে আমাকে ও আমার ছেলেকে স্লো পয়জনিং করে খাদ্য বিষক্রিয়ায় হত্যার চেষ্টাও করে সে। মানুষ কতটুকু অমানুষ হলে এমন কাজ করতে পারে? কোথাও বিচার দিতে গেলে সে আমাদেরই পাগল সাব্যস্ত করে।
আমি একজন অসহায় নারী। কিছু দিন আগে হঠাৎ করেই সে আমাকে তালাকনামা পাঠায়। এরপর পৌরসভার মেয়র ও প্যানেল মেয়রের মাধ্যমে একাধিকবার তার সাথে আলোচনায় বসার উদ্দ্যোগ নিলে সে প্রতিবারই অনুপস্থিত থাকে। গত ১৫ দিন আগে আপোষ নামার নামে নতুন নাটক সাজিয়ে তালাক নোটিশের জবাব দেয়ার কালোকক্ষেপণ করে। সমাজের বিবেকবান মানুষের প্রতি আমার আবেদন – দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ধরে আমার এবং আমার সন্তানের উপর যে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে তা যেন আর কোন মা-সন্তানের ভাগ্যে না হয়। আমার স্বামী একজন ভদ্রবেশী মুখোশধারী, স্ত্রী হয়েও আমার স্বামীর উপযুক্ত বিচার চাই।
একজনের সাথে অবৈধ মেলামেশার সময় সে নিজের মুখ আড়াল রেখে একটি ভিডিও চিত্র ধারণ করে, যা আমার কাছে রয়েছে। আমার বাবার বাড়ির পৈত্রিক সম্পত্তির টাকা এনে আমি তার জায়গায় একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করি। সেই বাড়িতে একটি ছাত্রীনিবাস স্থাপন করে আমি আমার ছেলের পড়ালেখার খরচ বহন করি। কিন্তু তালাকের সাথে সে আমাকে এই বাড়ি থেকে উচ্ছ্বেদ করার ষড়যন্ত্র ও হুমকি দিয়ে আসছে। বর্তমানে আমার নামে নানান কুৎসা রটনা করে আমাদের সম্মানহানী ও মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত করছে। আমার ছেলে ২০১৫ সালের এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থী, পরীক্ষার আর মাত্র দেড় মাস বাকী। কিন্তু আমার স্বামী খুব পরিকল্পিতভাবে তার ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করছে। এতে করে আমার ছেলে শারিরীক ও মানসিক ভাবে অনেক অসুস্থ হয়ে পড়েছে। দেশের মানুষের কাছে আমার প্রশ্ন :
১। আমার ছেলের অপরাধ কি? কেন তাকে এই নির্যাতনের শিকার হতে হচ্ছে?
২। কেন বারবার পুরুষ শাষিত সমাজে তালাকপ্রাপ্ত নারীদেরই দোষী সাবস্ত করা হয়?
৩। আমাদের উচ্ছ্বেদ করলে এখন আমার সন্তানকে নিয়ে কোথায় কিভাবে জীবন ধারণ করবো?
শিশু জিহাদকে বাঁচানোর জন্য সারা দেশের মানুষ কেঁদেছে, দোয়া করেছে, তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু আমার ছেলে নিলয় প্রতি মুহুর্তে মানসিকভাবে নির্যাতিত হচেছ। তার পাশে দাড়ানোর কি কেউ নেই? আমার ছেলে নিলয় তার বাবাকে বলেছিল বাবা আমি কোন সম্পদ চাইনা। আমি তোমার পরিচয়ে বাঁচতে চাই।
এখন আামাদের জীবনের কোন নিরাপত্তা নেই। আমরা সুস্থ স্বাভাবিক ও নিরাপদ জীবন চাই, আমরা বাঁচতে চাই। ন্যায় বিচার চাই।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তার সন্তান নিলয়, বোন কামরুন নাহার, মর্জিনা বেগম, দিলরা বেগম, নূরে জান্নাত, ভাই আনিসুর রহমান, দিনাজপুর জেলা যুব মহিলালীগের সভাপতি ছবি সিনহা প্রমুখ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য