Banglabandaবাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে বিরোধী ২০ দলীয় জোটের লাগাতার অবরোধ ও হরতালের কোন প্রভাব পড়েনি। যদিও ২০১৫ জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি পুরো মাস জুড়েই বিরোধী দলগুলোর ডাকা অবরোধ ও হরতালের প্রথম দিকে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে সরকারের রাজস্ব আয় কিছুটা কমেছে। কাস্টমস সূত্রে জানায় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ১৫ তারিখ পর্যন্ত রাজস্ব আয় হয়েছে প্রায় ৫৩ লক্ষ টাকা। জানুয়ারি ২০১৫ পুরো মাস জুড়ে অবরোধ হরতাল সহ রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা লেগে থাকার পরও স্থলবন্দরে ০২কোটি ৯৪ লাখ ৬৮ হাজার টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। তবে ১লা মার্চের শুরুতে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে গত দু’মাসের তুলনায় পণ্য-আমদানি রফতানি বাড়বে। ফলে বিগত দু’মাসের সরকারের রাজস্ব ঘাটতি অনেকটা পুরণ হবে। কিন্তু ২০১৫ সালের শুরুতে রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা, অবরোধ-হরতাল থাকার কারণে স্থলবন্দরের রাজস্ব আয় অনেকাংশে কমে গেছে।
বিরোধী ২০ দলীয় জোটের অবরোধ কর্মসূচির ৫৪তম দিনে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে পাথর, কয়লা, গম, আতব চাল এবং নেপাল থেকে মসুর ডাল আমদানি হয়েছে। অবরোধে নাশকতার আশংকা করেও স্থলবন্দর ইয়ার্ড থেকে মালামাল ভর্তি পণ্যবাহী ট্রাক নিয়মিত চলাচল করছে। ফলে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে দিনের পর দিন আটকে থাকা কয়লা, মুসুর ডাল, গম, চাল ও পাথর ভর্তি বেশ কিছু ট্রাক রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর কুলিশ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. ইদ্রিস আলী জানান-২০ দলীয় জোটের লাগাতার অবরোধে প্রথম দিকে স্থলবন্দরে মালবাহী ট্রাক কম চলাচল করলেও বর্তমানে আমদানি-রফতানির গতি কিছুটা স্বচল হওয়ায় শ্রমিকদের কাজের পরিধি বেড়েছে।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর ইয়ার্ডের ম্যানেজার কাজী আল তারিক জানান-২০দলীয় জোটের লাগাতার অবরোধ ও হরতালের প্রথম দিকে স্থলবন্দরে আমদানি-রফতানী কার্যক্রমে কিছুটা প্রভাব পড়লেও চলতি মাসে স্থলবন্দরে আমদানি রফতানি বাড়বে।
বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান কুদরত-ই খুদান মিলন জানান; রাজনৈতিক বিশঙ্খলা, টানা অবরোধ ও হরতালের কারণে এবন্দর দিয়ে আমদানি কার্যক্রম অনেকাংশে কমলেও চলতি মাসের শুরতে ব্যবসায়ীরা আমদানিকৃত পণ্য রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রির জন্য নিতে পারছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের আমদানি-রফতানী কার্যক্রম নিয়মিত চলছে। এছাড়া স্থলবন্দরে পণ্যবাহী ট্রাকগুলো যেন নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে এজন্য মহাসড়কে আনসার-ভিডিপি নিয়মিত টহলের পাশাপাশি পুলিশ ও বিজিবির বিশেষ নজরদারি রয়েছে। সর্বোপরি স্থলবন্দরের কার্যক্রম গতিশীল রাখতে এবং যে কোন বিশৃঙ্খলা ঢেকাতে উপজেলা প্রশাসনের সু-দৃষ্টি রাখা হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য