7-maria-del-pillar-hurtadoআন্তর্জাতিক ডেস্ক: কলম্বিয়ার গোয়েন্দো পুলিশের সাবেক প্রধান মারিয়া দেল পিলার হুর্তাদো সম্প্রতি অবৈধ চরবৃত্তির দায়ে অভিযুক্ত হয়েছেন। জানা যায়, দেশটির রাজনীতিক, বিচারক এবং সাংবাদিকসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের অনেকেই ছিলেন তার অবৈধ নজরদারির আওতায়। কলম্বিয়ার আদালত জানায়, আগামি ১৫ দিনের মধ্যেই মারিয়া দেল পিলার হুর্তাদোর বিরুদ্ধে যথোপযুক্ত রায় প্রদান করা হবে। মারিয়া ২০১০ থেকে পানামায় রাজনীতিক আশ্রয়ে ছিলেন। গত মাসে আশ্রয়চ্যূত হয়েছেন।

মারিয়া দেল পিলার ঐ ব্যক্তিদের নজরদারির আওতায় এনেছিলেন ২০০৭ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে। রাজনীতিক-বিচারক-সাংবাদিকদের ঐ বলয়ের সকলেই ছিলেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি আলভারো উরিবের বিরোধী। উরিবের সময়কালে চরবৃত্তিমূলক প্রশ্নবিদ্ধ কার্যক্রম চিহ্নিত হওয়ার পর বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখা হয়। দেখা যায় শুধু মারিয়াই নন, সাবেক রাষ্ট্রপতির চিফ অব স্টাফকে বার্নার্দো মোরেনোওঅবৈধ নজরদারির সঙ্গে যুক্ত। এ বিষয়ে উরিবেকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো গুপ্ত নজরদারির সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার কথা পুরোপুরি অস্বীকার করে যান।

মারিয়া দেল পিলার এবং বার্নার্দো মোরেনোকে ১০ বছরের কারাদ- দেওয়া হতে পারে। তাদের নজরদারির আওতায় ছিলেন না এমন নয়জন বিচারক এখনও পর্যন্ত এ রায়ের স্বপক্ষে মতো দিয়েছেন। রায় চূড়ান্তভাবে ঘোষিত হওয়ার আগে বার্নার্দো মুক্তই থাকবেন। অপরদিকে মারিয়াকে ইতোমধ্যেই পুলিশের রক্ষণাবেক্ষণে রাখা হয়েছে। আগামি ১৫ দিন- রায় ঘোষিত হওয়ার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত তিনি পুলিশের রক্ষণাবেক্ষণে কারাগারেই অবস্থান করবেন।

জানা যায়, ২০১০ সালে আলভারো উরিবে ক্ষমতাচ্যূত হওয়ার পর তার সকল কর্মের সাক্ষী মারিয়া দেল পিলার পানামায় পলায়ন করেন। দুই আমেরিকা-মহাদেশের সংযোগস্থলের দেশ পানামা তাকে রাজনীতিক আশ্রয় দিতে সম্মত হয়। কিন্তু ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে তার আশ্রয় গ্রহণের যোগ্যতা খর্ব করা হয়। মারিয়া দেল পিলার হুর্তাদো তখন নিজেকে স্বদেশী আইনের হাতে সঁপে দিতে একরকম বাধ্য হন।

আলভারো উরিবে বর্তমানে হুয়ান মানুয়েল সান্তোসের বিরোধী দলীয় নেতার ভূমিকা পালন করছেন। তার প্রশাসনের কৃষিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এ দফায় দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে। একই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকান্ডের আওতায় এসেছেন তার প্রশাসনের অপরাপর আরও ব্যক্তি। সরাসরি কোনো অভিযোগ এখনও উরিবের বিরুদ্ধে পাওয়া যায়নি। তবে তার গোপনীয়তার আঁধার মারিয়া দেল পিলারকে কারাদ- দেয়ার পর অনেক সত্য বেরিয়ে আসতেও পারে- এমনটাই ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য