Pic 2প্রতিনিধি দিনাজপুরঃ দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক নাক-কান গলা ও হেডনেক বিশেষজ্ঞ’র ভুল চিকিৎসায় ৩টি দাঁত হারিয়ে মৃত্যু যন্ত্রনায় ক্লিনিকের বেডে ছোটফোট করছে শিশু রাকিব হাসান হৃদয়(৯)। একই সমস্যার চিকিৎসা করতে আসা বীরগঞ্জের আরো একজন নারীকে এ্যানেসথেসিয়াবিহীন অবস্থায় অপারেশন করার অভিযোগও রয়েছে।

গলা’য় টনসিল ও নাকের মাংস বৃদ্ধি জনিত সমস্যায় পরে গত রোববার পঞ্চগড় সদরের গোয়ালপুর গ্রামের রহুল আমিনের পুত্র রাকিব হাসান(৯)কে নিয়ে তার পিতা চিকিৎসকের কাছে আসেন এবং তাকে দেখান। রাকিব হাসান হৃদয় কে দেখে চিকিৎসক তার পিতাকে জানান হৃদয়কে অতিদ্রুত অপারেশন করতে হবে এজন্যে প্রয়োজন হবে ৮ হাজার টাকা। সঙ্গে আনা অল্পকিছু টাকার সাহসে আমি ডাক্তারের পরামর্শে ক্লিনিকে ছেলে ভর্তি করে দেই এবং পঞ্চগড়ে ফোন করে আত্বীয়দের আরো টাকা লাগবে জানিয়ে দিনাজপুরে আসতে বলেছি।

পঞ্চগড়ে কুলির কাজ করে সংসার চালানো রহুল আমিন নিরুপায় হয়ে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী দিনাজপুর শহরের প্রানকেন্দ্র হাসপাতাল রোডের সেভেন-ডে ক্লিনিকে ছেলেকে ভর্ত্তি করে দেয়। ওই দিন রাত সাড়ে ৯টায় ডাক্তার বুলন্দ আখতার টগর শিশু হৃদয়ের অপারেশন করেন।

অপারেশনের পর রোগীকে ক্লিনিকের বেডে দিলে তার অভিভাবকরা লক্ষ করেন হৃদয়ের মুখ গহ্বরের ভিতর দাঁতের মাড়িতে একটি দাঁত নেই তখন তারা ভালো ভাবে নেড়েচেড়ে দেখতে গিয়ে আরো ২টি দাঁত নড়বড়ে অবস্থায় পান। এব্যাপারে হৃদয়ের পিতা সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের কাছে গিয়ে কেন এমন হলো জানতে চাইলে ডাক্তার তাকে ধমক দিয়ে তাড়িয়ে দেন।

অপারেশনের পর থেকে হৃদয়ের অবস্থা আরো অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তার পিতা রহুল আমিন। তিনি আরো বলেছেন বর্তমানে আমার ছেলে হৃদয়ের শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে খুব কষ্ট হচ্ছে, ভালো করতে নিয়ে এসে এখন শংকায় আছি সর্ম্পুন্ন সুস্থ শরীরে বাড়িতে নিয়ে যেতে পারলাম না তড়িঘড়ি করে ডাক্তার রোগী ছেড়ে দিলেন। একই ভাবে বীরগঞ্জের রোগীটকেও ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

এদিকে একই ক্লিনিকে নাকের মাংস বৃদ্ধির সমস্যা নিয়ে ভর্ত্তি রয়েছেন বীরগঞ্জ সদরের রহিমা বেগম। তার স্বজনরা বলেছেন রাতে ডাক্তার অ্যানেসথেসিয়া প্রয়োগ না করেই চেতন অবস্থায় রোগীকে অপারেশন করেছেন। রোগীর হাত ও পা চেপে ধরে মধ্যযুগীও কায়দায় অপারেশন করা হয়েছে, এতে করে রোগীর প্রচন্ড কষ্ট ও ব্যথা পেয়েছেন বর্তমানে তার মুখমন্ডল ফুলে গেছে এবং নাক দিয়ে রক্তক্ষরন হচ্ছে। অসহ্য যন্ত্রনায় ক্লিনিকের বেডে রহিমা বেগম কাতরাচ্ছেন।

এব্যাপারে জানতে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক নাক-কান গলা ও হেডনেক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বুলন্দ আখতার টগরের সঙ্গে দুপুর সাড়ে ১২টায় মোবাইল ফোনে কথা বলা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন জানিয়ে পরে ফোন করতে বলেন কিন্তু পরবর্তীতে আবারো কথা বলার জন্যে বারংবার চেষ্টা করলেও তিনি আর ফোন রিসিভ করেননি।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য