HSTU-21-02-2015হাবিপ্রবি প্রতিনিধিঃ দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্বীর্যের মধ্যে দিয়ে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ’২০১৫ পালিত হয়েছে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে একাডেমিক ভবনের সম্মুখে জাতীয় পতাকা অর্ধ-নমিত ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল সাড়ে ৮.৪০ টায় মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. রুহুল আমিন-এর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, ছাত্র-ছাত্রী ও কর্মচারীরা কালো ব্যাচ ধারণ করে প্রভাত ফেরীতে অংশ নেয়। প্রভাত ফেরী শেষে ভাইস-চ্যান্সেলর মহোদয় শহীদদের বিদেহী আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে হাবিপ্রবির কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। ক্রমান্বয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন শিক্ষক সমিতি, প্রগতিশীল শিক্ষক ফোরাম, সাদা দল, হল/ডরমিটরিসমূহ, কর্মকর্তা সমিতি, প্রগতিশীল কর্মকর্তা পরিষদ, অফিসার্স ফোরাম, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ (হাবিপ্রবি শাখা), বিদেশী শিক্ষার্থীগণ, প্রগতিশীল কর্মচারী পরিষদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

ভাইস-চ্যান্সেলর মহোদয়ের ২১’র বাণী পাঠ ও বিতরণ শেষে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্যের উপর শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. এ. টি. এম. শফিকুল ইসলাম-এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, হাবিপ্রবি’র ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. রুহুল আমিন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, হাবিপ্রবি শিক্ষক সমিতির আহবায়ক প্রফেসর মো. মিজানুর রহমান, কৃষি অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. মো. আনিস খান, পোষ্টগ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. বলরাম রায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. নজিবুর রহমান, মেডিসিন, সার্জারি অ্যান্ড অবস্টেট্রিকস বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডাঃ মো. ফজলুল হক, প্রগতিশীল কর্মকর্তা পরিষদের পক্ষে সভাপতি কৃষিবিদ মো. ফেরদৌস আলম, বাংলাদেশী ছাত্রলীগ হাবিপ্রবি শাখার পক্ষ থেকে যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আসাদুজ্জামান জেমি, মোস্তফা তারেক চৌধুরী, নাহিদ আহমেদ নয়ন, প্রগতিশীল কর্মচারী পরিষদের সমিতির পক্ষে আব্দুর রহিম ও পারভেজ আলম প্রমূখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. রুহুল আমিন বলেন, একুশের চেতনা বলতে আমরা বুঝি মাতৃভাষার মর্যাদা, সাংস্কৃতির সার্বভৌমত্ব, অসাম্প্রদায়িতকতা, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে প্রতিবাদ করার সাহস। একুশ মানুষে মানুষে ভেদাভেদের বিরুদ্ধে, শোষণের বিরুদ্ধে, অপশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে এবং প্রতিটি মানুষকে দেশপ্রেমে উজ্জ্বীবিত করে। কিন্তু দুঃখের বিষয় আমরা সাম্প্রতিক সময়ে লক্ষ্য করছি যে, ভাষার মাস ফেব্র“য়ারিতেও পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে মানুষ মারার মতো জঘন্য কাজ শুরু হয়েছে। নাগরিক হিসেবে আমারা এই উগ্রবাদকে তীব্র প্রতিবাদ করি এবং রাষ্ট্রকে এটা এখনই বন্ধ করার জন্য দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের উদাত্ত আহবান জানাই।
আলোচনা সভার পরই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা এবং এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর  মো. রুহুল আমিন।

এছাড়াও বাদ জোহর ভাষা শহীদদের উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য