03_syria-crisis-homsসিরিয়ায় মানবিক ত্রাণবাহী গাড়ি বহর প্রবেশের অনুমতি দেয়ার আহবান জানিয়ে শনিবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। তবে কূটনীতিকরা তাৎক্ষণিকভাবে এর কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
সিরিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র রাশিয়া ২০১১ সালের মার্চে সংকট শুরু হওয়ার পর এ পর্যন্ত তিনবার চীনের সমর্থন নিয়ে দামেস্ক সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞ আরোপের প্রস্তাবে ভেটো দিয়েছে। দামেস্ক সরকারকে চাপে রাখতে নিষেধাজ্ঞ র ওই প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী দুই দেশ রাশিয়া ও চীন এবার সেরকম কিছু করেনি। সিরিয়ার প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠীর জন্য জরুরি সহায়তা প্রয়োজন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ত্রাণবাহী গাড়ি বহর সিরিয়ায় প্রবেশের আহবান সম্বলিত প্রস্তাব মানা না হলে দামেস্কের ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষেধাজ্ঞ আরোপের কথা প্রস্তাবে বলা হয়নি।
প্রস্তাবে আসাদ সরকারের ব্যারেল বোমা নিক্ষেপের সমালোচনা করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, জর্ডান ও লুক্সেমবার্গ প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করে আর নিরাপত্তা পরিষদের অপর তিন স্থায়ী সদস্য ব্রিটেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্র তা সমর্থন করে।
জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুন প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তিনি বলেন, প্রস্তাবের কোন প্রয়োজন ছিল না।
তিনি বলেন, ‘মানবিক সহায়তা আলোচনার কোন ব্যাপার নয়। আন্তর্জাতিক আইনেই এর অনুমতি রয়েছে।’
মহাসিচব বলেন, ‘উভয় পক্ষ যুদ্ধের কৌশল হিসেবে বেসামরিক নাগরিকদের অবরুদ্ধ করছে যা শুনে আমি খুবই ব্যথিত হয়েছি।’তিনি বলেন, সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে প্রায় ২ লাখ লোক এবং বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে প্রায় ৪৫ হাজার লোক অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন।’ প্রস্তাবে সকল পক্ষকে অবিলম্বে জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও অন্যান্য স্থান থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের আহবান জানানো হয়েছে। এতে সকল পক্ষ বিশেষত সিরিয়ার কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে নিরাপদ ও বাঁধাহীনভাবে অবরুদ্ধ এলাকাগুলোতে মানবিক সহায়তাবাহী গাড়ি বহর প্রবেশ করতে দেয়ার আহবান জানানো হয়েছে।
বান কি-মুন বলেন, ‘যদি দ্রুত এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হয় তাহলে সেখানকার বাসিন্দাদের কিছুটা হলেও দুর্ভোগ লাঘব হবে।’তিনি বলেন, সিরিয়ায় মানবিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে। সিরিয়ায় গত তিন বছরের যুদ্ধে ১ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি লোক নিহত ও লাখ লাখ লোক তাদের বাড়িঘর থেকে পালিয়েছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরি বলেন, প্রস্তাবটি ‘বিলম্বে’ পাস হয়েছে। তবে এটি বাস্তবায়িত হলে অনেকের জীবন বাঁচবে। তবে ত্রাণবাহী গাড়ির বহর সিরিয়ায় ঢুকতে না দেয়া হলে দামেস্ক সরকারের ওপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষেধাজ্ঞ আরোপের কথা প্রস্তাবে উল্লেখ না থাকায় কয়েকজন কূটনীতিক এর কার্যকারিতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য