Modhoparaদিনাজপুর প্রতিনিধিঃ দিনাজপুরে কৃষি নির্ভর অঞ্চল হলেও এখন শিল্প কলকারখানা গড়ে উঠায় আর্থ-সামাজিক ও জীবন মান উন্নয়নে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এবং মধ্যপাড়া পাথর খনি গুরুত্বপুর্ন অবদান রাখছে দেশে। দিনাজপুরের অর্থনীতি কৃষি নির্ভর এলাকা । রাজধানীর সাথে  জেলার  দুরত্বের কারনে এই অঞ্চলে  শিল্পায়ণের অগ্রগতি তেমন হয়নি। বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু নির্মানের পর এই অঞ্চলের শিল্পায়নের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দিয়েছে। দিনাজপুরের কৃষি নির্ভর অর্থনীতির পাশাপাশি জেলার দক্ষিশ পুর্বাঞ্চলে রয়েছে প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদের ভান্ডার। এই খনিজ সম্পদ জেলার  আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে বলিষ্ট ভুমিকা রাখছে। জেলার দক্ষিন-পুর্বাংশের ৬ টি উপজেলা পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, বিরামপুর,নবাবগঞ্জ,ঘোড়াঘাট এবং হাকিমপুর উপজেলার  কিছু কিছু অংশে রয়েছে কয়লা ,পাথর, লোহার মতো খনিজ সম্পদ। এই অঞ্চলে আবিস্কৃত হয়েছে ৩ টি বৃহৎ কয়লা খনি এবং দেশের একমাত্র  বৃহৎ একটি পাথর খনি।
সরকারের  তেল-গ্যাস ও খনিজ সম্পদ কর্পোরেশনের ( পেট্রোবাংলা)  অধীনে পার্বতীপুর উপজেলায় দেশের প্রথম বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি থেকে বাণিজ্যিক ভাবে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে। এই কয়লা দিয়ে খনি সংলগ্ন চলছে  ২৫০ মেগওয়াট কয়লা চালিত তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র । যা দেশের বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ভুমিকা রাখছে। বড়পুকুরিয়ার কয়লা দেশের ইটভাটাগুলোতে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে এবং এমনকি এই কয়লা দেশের অনেক শিল্পে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। ফলে জ্বালানি হিসেবে কাঠের ব্যবহার বন্ধ হওয়ায় বন ও পরিবেশ রক্ষা পেয়েছে। এই উপজেলাতেই  রয়েছে মধ্যপাড়া কঠিন শিলাপাথর খনি। খনিটি ২০০৭ সালে  বাণিজ্যিক উৎপাদনে গেলেও  ক্রটিপুর্ন ব্যবস্থাপনার কারনে খনি থেকে লক্ষ্যমাত্রা অণুযায়ী পাথর উত্তোলন করা যায়নি। ফলে দেশের পাথরের চাহিদা পুরন করতে না পারার কারনে পাথর ব্যবহারকারীরা  ভারত থেকে আমদানি করা পাথরের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। মধ্যপড়া খনিটি প্রায় শত কোটি টাকা লোকসানের মুখে পড়ে। সরকার এই পাথর খনিটিকে লাভজনক করতে গত ২০১৩ সালে দেশীয় কোম্পানী জার্মানিয়া কর্পোরেশনের সাথে বেলারুশ সরকারের একটি কোম্পানী নিয়ে যৌথভাবে  গঠিত জার্মানিয়া-ট্রেষ্ট কনসোর্টিয়ামের  (জিটিসি) সাথে সরকার এর উৎপাদন, রক্ষনাবেক্ষন এবং ব্যবস্থপনা চুক্তি করে। জিটিসি দায়িত্বভার গ্রহন করে বিদেশী ও দেশী খনি বিশেষজ্ঞ এবং দক্ষ খনি শ্রমিক ,কর্মচারী -কর্মকর্তা নিয়োগ করে প্রতিদিন  তিন শিফটে খনির  উৎপাদন আগের তুলনায় প্রায় ৫ গুন বৃদ্ধি করেছে।
জিটিসি কর্তৃপক্ষ  জানান,  পেট্রাবাংলা এবং মধ্যপাড়া খনি কর্তৃপক্ষের  সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে  খনির উন্নয়ন এবং নতুন স্টোপ নির্মাণের পর খনির উৎপাদনের  লক্ষ্যমাত্রা দৈনিক সাড়ে  ৫ হাজার মে,টন পাথর উত্তোলনে তারা সফল হবেন বলে আশা প্রকাশ করছেন। বর্তমানে দৈনিক  তিন শিফটে প্রায় ৪ হাজার মে,টন পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে।
এই অঞ্চলে দুটি খনি ও একটি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু থাকায় এখানে চাকুরীজিবী , ব্যবসায়ী , পরিবহন শ্রমিক সহ প্রত্যক্ষভাবে প্রায় দশ হাজার পরিবারের আয়ের ব্যবস্থার পাশাপাশি পরোক্ষভাবে আরো প্রায় ৫ হাজার পরিবারের আয়ের পথ তৈরী হয়েছে। খনির প্রভাবে খনি সংলগ্ন এলাকায় হাটবাজারগুলো দোকানপাট ও ক্রেতা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই সব উপজেলার শিক্ষা ,স্বাস্থ্য সহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে আমুল পরিবর্তন হয়েছে বলে খনি এলাকাবাসী মনে করেন। তবে দিনাজপুরের দক্ষিনঅঞ্চলের পার্বতীপুর, ফুলবাড়ী, বিরামপুর, নবাবগঞ্জ  ও রংপুরের খালাস পীরের মাটির নিচে যে সম্পদ রয়েছে তা অফুরনীয়। এই সম্পদ দেশের কাজে লাগাতে পারলে দেশের অর্থনীতির পথ প্রসার হবে এবং জ্বালানী খাতের উন্নয়ন ঘটবে । অপরদিকে সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। গড়ে উঠবে এই এলাকায় পর্যটন কেন্দ্র এবং শিল্প কলকারখানা ।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য