নীলফামারী জেলার ডিমলা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমানের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও ঘুষ দূর্নীতির মাধ্যমে প্রায় সাড়ে সাত লখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার ঘুষ-দূর্নীতির বিচারের দাবীতে এলাকাবাসী লাগানো পোস্টারে ছেড়ে গেছে উপজেলা সদর। গত শুক্রবার এলাকাবাসীর ব্যানারে নীলফামারী ডিমলায় মহিলা কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যাপক দূর্নীতির অভিযোগ এনে এলাকায় মিছিল মিটিং ও  পোষ্টারিং- ব্যাপক  তোলপাড়! উপজেলা সদরে অবস্থিত সুনাম ধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডিমলা মহিলা কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ  মোখলেছুর রহমান অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির পর হতেই নীজ  খেয়াল খুশি মতো নিয়ম নীতির  তোয়াক্কা না করে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করতে গিয়ে ব্যাপক দূর্নীতির আশ্রয় গ্রহন করেছেন ডিমলা মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমানের বিভিন্ন দূর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে ডিমলা সদরের বিভিন্ন স্থানে লাগানো হয় নানা ধরনের পোস্টার। এলাকাবাসীর পক্ষে চলছে মিছিল মিটিং ও মানব বন্ধনের প্রক্রিয়া। পোস্টারে উল্লেখিত অভিযোগ অনুসন্ধান জানাগেছে, ডিমলা মহিলা কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাকারিয়ার মৃত্যুর কারনে অধ্যক্ষের শুন্যপদে লোক নিয়োগের জন্য গত ১৮ জুন-২০১২  নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।  এ পরীক্ষায় কলেজটির বর্তমান অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমানসহ ৬জন প্রার্থী অধ্যক্ষ নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করেন। এদের মধ্যে নূরমোহাম্মদ খান নামে একজন প্রার্থী নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও কারচুপির অভিযোগ তুলে আদালতে মামলা করেন। মামলাটি আদালতে বিচারাধিন থাকাবস্থায় বর্তমান অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান তৎকালীন কলেজ কর্তৃপক্ষের কয়েক জনকে ম্যানেজ করে এবং সরকারী ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালাকে উপেক্ষা করে গত ১১ অক্টোবর অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদানের পর হতে তিনি ব্যাপক অনিয়ম ও ঘুষ-দূর্নীতির মাধ্যমে কমহলেও সাড়ে সাত লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। এর মধ্যে ননএমপিও ১৬জন শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা করে দেয়ার নামে-১ লাখ ২৫ হাজার, বাউবি অধিনে ডিগ্রী কোর্স খোলার নামে-১০ হাজার, ৫জন সহকারী অধ্যাপকের উচ্চতর স্কেলে বেতন করে দেয়ার নামে-২০ হাজার, কলেজের মামলা পরিচালার নামে-১ লক্ষ, কলেজের জন্য ষ্টীলের আলমারী কেনার নামে ভুয়া ভাউচারে-১৫ হাজার, অধ্যক্ষ নিয়োগ বাবদ ভুয়া ভাউচারে-১ লক্ষ ৫০ হাজার, গভর্ণিং বডির রেজুলেশনের বাইরে কলেজের ১০টি গাছ বিক্রির ৩০ হাজার এবং কলেজের মার্কেটিং বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের নামে ঘুষ গ্রহন-৩ লক্ষ টাকা তিনি আত্মসাৎ করেন বলে এলাকাবাসীর ব্যানারে লাগানো পোস্টারে উল্লেখিত অভিযোগ তুলে ধার হয়েছে। তার বেপওয়া অনিয়ম ও ঘুষ-দূর্নীতের কাছে কলেজটির শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মচারীরাও জিম্মি হয়ে পড়েছে। তার ভয়ে কেও মুখ খুলতে সাহস পায়না। তার এহেন ঘুষ-দূর্নীর কবলে কলেজটির অর্থনৈতিক ও শিক্ষার গুনগতমান ধ্বংসের দাঁড় প্রান্তে পৌঁছে গেছে। অনুসন্ধানে আরো জানাগেছে, অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান নিয়োগ ও যোগদান প্রক্রিয়াটি পুরোটাই ছিলো সরকারী ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি ও নীতিমালা পরিপন্থি। এছাড়া তার যোগদানের পর হতে অভিযোগ ওঠাকালীন সময় পর্যন্ত তৎকালীন কলেজ ব্যবস্থাপনা কমিটির মেয়াদকালের নিরীক্ষা কমিটির আহবায়ক রেজাউল ইসলাম দাখিলকৃত ভাউচারাদী পরীক্ষা-নিরীক্ষান্তে তিনি অসংখ্য ভাউচারে আপর্তিপ্রদানসহ ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে আত্মসাৎকৃত অর্থ কলেজ তহবিলে জমা দেয়ার সুপারিশ করে নিরীক্ষা প্রতিবেদন দাখিল করেন। কিন্তু কলেজটির বর্তমান অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমান ওই নিরীক্ষা কমিটির সুপারিশকে বৃদ্ধাংগুলি দেখিয়ে পুনরায় আরো একটি নিরীক্ষা কমিটি গঠন করে শাক-দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এমতাবস্থায়  দূর্নীতি গডফাদার বলে স্বীকৃত অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমানের কবল থেকে কলেজটিকে রক্ষার জন্য এলাকার সচেতন মহল তার ঘুষ-দূর্নীতির  দৃষ্টান্ত মূলক বিচারের দাবীতে কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এব্যাপারে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মোখলেছুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

মন্তব্য লিখুন (ফেসবুকে লগ-ইন থাকতে হবে)

মন্তব্য